ডালে- ভাতে বাঙালি ; মসুর ডালের ১০টি উপকারিতা

আগে ছিল মাছে ভাতে বাঙালি। কিন্তু মাছের দাম বৃদ্ধির ফলে এখন হয়েছে ডালে- ভাতে বাঙালি। মসুর ডাল আমাদের দেশে খুবই জনপ্রিয়। মসুর ডালের স্বাস্থ্যগত উপকারী দিক অজস্র। চলুন জেনে নেওয়া যাক কিছু।

 

১) ওজন নিয়ন্ত্রণেঃ মসুর ডালের মধ্যে উচ্চমাত্রায় ফাইবার থাকায় এটি ওজন কমানোর পাশাপাশি পেশীকে শক্তিশালী করে তোলে এবং শরীরের থেকে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ কমাতে সহায়তা করে। কেননা মসুর ডাল শরীরের বিপাক ক্রিয়াকে উন্নত করে। এছাড়াও মসুর ডাল আয়রনের অন্যতম একটি উৎস হওয়ায় এটি শরীরের বিপাক ক্রিয়াকে সক্রিয় করে খাবারকে হজমে সহায়তা করে, যার ফলে ওজন হ্রাস পায়।

 

২) হৃদযন্ত্র সচল রাখতে এবং কোলেস্টেরল কমাতে: মসুর ডালের গুনাগুন গুলির মধ্যে অন্যতম হলো এটি হৃদযন্ত্র সচল রাখে এবং শরীর থেকে খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সহায়তা করে। মসুর ডালের মধ্যে থাকা প্রোটিন এবং ফাইবার জাতীয় উপাদান গুলি যথাযথ অক্সিজেন প্রেরণ করে শরীরকে সুস্থ এবং সবল রাখতে সহায়তা করে।

 

৩) ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে: ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে মসুর ডালের স্বাস্থ্য উপকারিতা অনস্বীকার্য। রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে মসুর ডাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে। যে কারনে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে মসুর ডাল অত্যন্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য উপাদান। এটি হজমে সহায়তা করার পাশাপাশি রক্তপ্রবাহে শর্করার পরিমাণ কমিয়ে রাখতে এবং বাড়তি শর্করার উৎপাদনকে প্রতিরোধ করে।

 

৪) হজমে সহায়তা করে: মসুর ডাল উচ্চ ফাইবার সমৃদ্ধ উপাদান হওয়ায় এটি শরীরে খাদ্যকে সহজে হজম করতে পারে। এছাড়াও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে অন্ত্রের যে কোনো রকমের সমস্যার সমাধান করতে পারে। মসুর ডাল পাচনতন্ত্র কে পরিষ্কার করে পেট পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করে।

 

৫) শরীরের অনাক্রম্যতা বৃদ্ধিতে: শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে উন্নত করে অনাক্রম্যতা বৃদ্ধিতে মসুরডালের ভূমিকা অনস্বীকার্য। এর মধ্যে থাকা প্রোটিন এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান গুলি শরীরের সর্বত্র তার পুষ্টিগুণ ছড়িয়ে শরীরকে স্বাস্থ্যকর ও ভেতর থেকে শক্তিশালী করে তোলে।

READ MORE:  আপনার শিশুর জন্য ৬টি পুষ্টিকর খাবার রেসিপি

 

৬) ক্যান্সার প্রতিরোধে: ক্যান্সারের মতো জটিল দুরারোগ্য রোগ প্রতিরোধে মসুর ডালের ভূমিকা অনস্বীকার্য। মসুর ডালের পলিফেনোল গুলি ক্যান্সারের সুরক্ষা এবং ক্যান্সারের চিকিৎসায় সহায়তা করে। এটি ক্যান্সারের সম্ভাব্য উৎসগুলিতে আঘাত করে স্তন, কোলন প্রভৃতি জায়গায় শক্তি প্রেরণ করে।

 

৭) দাঁত এবং হাড়ের সুরক্ষায়: প্রোটিন এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের সর্বোচ্চ উৎস হওয়ায় মসুর ডাল শরীরকে ভেতর থেকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করে। মসুর ডালের মধ্যে থাকা ক্যালসিয়াম জাতীয় উপাদানগুলি শরীরের হাড় এবং দাঁতকে শক্তি প্রদান করে।

 

৮) মানসিক বিকাশে: মসুর ডালের মধ্যে উপস্থিত বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান গুলি মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যকে ত্বরান্বিত করতে সহায়তা করে। মসুর ডাল বিভিন্ন উৎকৃষ্ট পুষ্টি উপাদানের একটি অংশ। মসুর ডাল ফোলেটে পূর্ণ হওয়ায় এটি মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে।

 

৯) পেশী গঠনে: মসুর ডাল প্রোটিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হওয়ায় এটি শরীরের পেশী গঠনে সহায়তা করে। এতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকায় এটি শরীরে কার্বোহাইড্রেটকে ধীরে ধীরে হজম করে এবং শরীরকে হালকা করতে সহায়তা করে।

 

১০) গর্ভাবস্থায়: অন্যান্য সাধারন মানুষদের তুলনায় গর্ভবতী মায়েদের শরীরে প্রোটিনের প্রয়োজনীয়তা খানিকটা বেশি হয়। তবে সেই প্রয়োজনীয়তা সহজেই মুসুর ডাল এর সাহায্যে পূরন করা যায়। দৈনিক খাদ্যতালিকায় নির্দিষ্ট পরিমাণ মসুর ডাল গর্ভবতী মায়েদের সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। এছাড়াও গর্ভাবস্থার অন্যতম একটি প্রধান সমস্যা কোষ্ঠকাঠিন্যের বিরুদ্ধে লড়াই করে মসুর ডাল পরিপাকতন্ত্রকে সচল রাখে। গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে মসুর ডালের পাশাপাশি অন্যান্য পুষ্টি উপাদান গুলি নবজাতকের বৃদ্ধিকে এবং তার শরীর গঠনে সহায়তা করে।