কুরবানির পশুর যত মাসওয়ালা

 মাস’আলা: কুরবানীর পশুতে যে সব গুণ থাকা আবশ্যক

 

আর তা হচ্ছে দু’টি:

 

১। পশুর শরীয়াত নির্ধারিত বয়স হওয়া। আর তা হচ্ছে, উঁটের বয়স পাঁচ বছর সম্পূর্ণ হওয়া, গরুর বয়স দুই বছর সম্পূর্ণ হওয়া, ছাগলের বয়স এক বছর সম্পূর্ণ হওয়া, মেষ বা দুম্বার বয়স ছয় মাস পূর্ণ হওয়া। এর কম বয়সের হলে তা কুরবানীতে যথেষ্ট হবে না। এর দলীল নবী (সা.) এর হাদীস:

 

لَا تَذْبَحُوا إِلَّا مُسِنَّةً إِلَّا أَنْ يَعْسُرَ عَلَيْكُمْ فَتَذْبَحُوا جَذَعَةً مِنْ الضَّأْنِ

 

তোমরা দাঁতা পশু ব্যতীত অন্য কোন পশু (কুরবানীতে) যবহ করবে না। তবে যদি তোমাদের জন্য কষ্টকর হয়ে পড়ে তাহলে দুম্বা বা মেষের জায্’আ (যার বয়স ছয় মাস) যবহ্ করবে।[3]

 

২। চারটি দোষ হতে কুরবানীর পশুর মুক্ত হওয়া, যা থেকে নাবী (সা.) কুরবানীর পশুর ক্ষেত্রে বেঁচে থাকতে বলেছেন। আর তা হলো:

 

স্পষ্ট কানা হওয়া। আর দুই চোখের অন্ধ হওয়া আরো বড় দোষ, তাই তা যথেষ্টে হবে না।

স্পষ্ট রোগী হওয়া, যেমন চুলকানী-পাচড়া বা অন্য কোন ব্যধীতে আক্রান্ত হওয়া।

স্পষ্ট খোঁড়া হওয়া এবং এমন অচল হওয়া যা চলতে পারে না। তাই কোন একটি পা কাটা হওয়া আরো বড় দোষ।

আর এমন দুর্বল হওয়া যার শরীরে কোন গোশত নেই। (সহীহ: ইবনে মাজাহ ৩১৪৪)

 

মাসআলা : গৃহপালিত উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা এগুলোর নর-মাদি উভয়টি দ্বারাই কোরবানি করা জায়েয। এসব পশু ছাড়া অন্যান্য পশু যেমন হরিণ, বন্য গরু-গয়াল ইত্যাদি দ্বারা কোরবানি করা জায়েয নয়। (বাদায়েউস সানায়ে ৫/৬৯, কাযীখান ৩/৩৪৮)

 

মাসআলা : কোরবানির পশু মোটাতাজা, হৃষ্টপুষ্ট ও নিখুঁত হওয়া উত্তম। (মুসনাদে আহমদ, হা. ১৫৫৩৩)

 

মাসআলা : খাশীকৃত জন্তু দ্বারা কোরবানি করা জায়েয, বরং উত্তম। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হা. ৩১১৩)

READ MORE:  মেহেরবান তুমি মেহেরবান lyrics Gojol

 

মাসআলা : উট কমপক্ষে ৫ বছরের হতে হবে। গরু ও মহিষ কমপক্ষে ২ বছরের হতে হবে। আর ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা কমপক্ষে ১ বছরের হতে হবে। এর চেয়ে এক দিন কম হলেও কোরবানি হবে না। তবে ৬ মাসোর্ধ্ব ভেড়া ও দুম্বা যদি ১ বছরের কিছু কমও হয়, কিন্তু এমন হৃষ্টপুষ্ট হয় যে দেখতে ১ বছরের মতো মনে হয়, তাহলে তা দ্বারাও কোরবানি করা জায়েয। (বাদায়েউস সানায়ে ৫/৭০)

 

উল্লেখ্য, ছাগলের বয়স ১ বছরের কম হলে কোনো অবস্থাতেই তা দ্বারা কোরবানি জায়েয হবে না। (কাযীখান ৩/৩৪৮)

 

মাসআলা : কোরবানির পশুর বয়সের হিসাব আরবি বর্ষ হিসেবে ধর্তব্য হবে, এতে ইংরেজি বর্ষ থেকে সাধারণত এগারো দিন কমে বর্ষ পূর্ণ হয়। (কিফায়াতুল মুফতী ৮/২১৭)

 

মাসআলা : গর্ভবতী পশু দ্বারা কোরবানি জায়েয, তবে প্রসবের সময় আসন্ন হলে সে পশু কোরবানি করা মাকরূহ। (বাদায়েউস সানায়ে ৫/৭৯, ফাতাওয়া কাযীখান ৩/৩৫০)

 

মাসআলা : জবাইয়ের পর যদি বাচ্চা জীবিত পাওয়া যায় তাহলে সেটাও জবাই করা ওয়াজিব, তা জবাই না করে রেখে দিলে কোরবানির দিন অতিক্রম হয়ে গেলে তা সদকা করে দেওয়া ওয়াজিব। (কাযীখান ৩/৩৫০)

 

সূত্র: মাসিক আল-আবরার, ফকীহুল মিল্লাত ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ।