ভয়ংকর রহস্যময় জায়গা বিজ্ঞানীদের কাছে এখনও অমীমাংসিত

বর্তমান বিজ্ঞান অনেকদূর এগিয়ে গিয়েছে। আজ আমরা মহাবিশ্বের নতুন নতুন রহস্য আবিষ্কার করেই চলেছি। কিন্তু আপনি জানেন কি আমাদের পৃথিবীতে এমন অনেক রহস্যময় জায়গা রয়েছে যা বিজ্ঞানের ধারনার চেয়েও অনেক বেশি রহস্যময়।

 

তাহলে চলুন, এমন কিছু স্থান সম্পর্কে জেনে আসি যে স্থানগুলোর রহস্য, বিজ্ঞানও পর্যন্ত সমাধান করতে পারে নি।

 

 

দ্যা স্লিপিং সিটি অফ কালাচি

 

তাজাকিস্তানের রহস্যময় কালাচি শহর। এখানকার মানুষ গুলো এক অদ্ভুত রোগে আক্রান্ত। আর তা হল ঘুমানোর রোগ। এইটা কোন মুভি নয়, এটি একটি বাস্তব ঘটনা। এই অঞ্চলের মানুষগুলো হাঁটাচলা করতে করতে যে কোন স্থানে ঘুমিয়ে পড়েন। বাইক চালানো অবস্থায়, স্কুলে বিভিন্ন সময় যেকোনো স্থানে তারা ঘুমিয়ে পড়ে। ঘুম থেকে ওঠার পর তাদের রহস্যময় ভাবে কোন কিছু মনে থাকে না। বিজ্ঞানীরা অনেক গবেষণা করেছে এই রহস্য উন্মোচন করার জন্য, কিন্তু তারা এই সমস্যার সমাধান এবং সফলতা পায়নি। স্থানীয় গবেষকদের ধারণা অনুসারে এর কারণ, এই শহরে উপস্থিত কিছু এডিও এক্টিভিটি রেডিয়েশনের কারণে হতে পারে পরবর্তীতে এই ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে কিন্তু এর রহস্য উন্মোচনের চেষ্টা এখনও পর্যন্ত অব্যাহত রয়ে রয়েছে। 

 

 

ডেভিলস কেটেল’

 

এই ঝর্ণাটিকে দেখলে অবশ্যই আপনার মনে আনন্দ সঞ্চারিত হবে ঠিক যেমন আপনি আনন্দ পাবেন ঠিক তেমনি এই ছড়াটি এক রহস্যে ঘেরা। মিন্নিসোডাতে অবস্থিত প্রবণ নদী এই ঝর্ণার ধারার ওপর দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। যার একটি ধারা ঝর্ণা থেকে নেমে নদীর সাথে মিলে যায় আর দ্বিতীয়টিতে ঝর্ণার পানি পড়ার পর গায়েব হয়ে যায়। পৃথিবীর কেউই জানেনা এই গায়েব হওয়া ঝর্নার পানি কোথায় যায়। 

আপনারা  হয়তো ভাবছেন এই গায়েব হয়ে যাওয়া ঝরনার পানি কোন না কোন স্থানে গিয়ে নদীর সাথে মিলে যাবে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা এই ঘটনাটা বোঝার জন্য অনেক চেষ্টা করেছে। একচুয়ালি বিজ্ঞানীরা বোঝার জন্য ঝর্ণার পানির সাথে তারা বিভিন্ন ধরনের কালার ব্যবহার করেছে, কারণ তারা যেন বুঝতে পারে এজন্য। পানি সামনে গিয়ে কোথায় মিলিত হচ্ছে, তারা কিছুতেই তা আর জানতে পারে নি। যার ফলে আজও সেই ঝর্ণাটি পৃথিবীর মানুষের কাছে রহস্যই রয়ে গেছে।

 

 

দ্যা নর্দান লাইট অফ নরওয়

 

এখানে রয়েছে খুব সুন্দর হ্যান্ডেলিং আরজে টেসন ভ্যালী। যা এই ভ্যালিকে খুব সুন্দর করে তুলে তা হলো এখানে আকাশে রাতে ভেসে আসা রহস্যময় রঙিন আলোক রশ্মী একটি অদ্ভুত প্যাটার্ন তৈরি করে যা আকাশে জ্বলজ্বল করতে থাকে। এইরকম আলোর ঝলকানি প্রায় চল্লিশ বছর ধরে এখানে দেখা যাচ্ছে। তার কারণ উদঘাটনের জন্য বিজ্ঞানীরা অনেক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই গবেষণা দ্বারা একটি রহস্য সামনে দাড় হয়েছিল তার কারণ হয়তো বা রেডিওঅ্যাকটিভ অথবা সালফারের উপস্থিত হতে পারে। কিন্তু এতেও তাদের এই এক্সপেরিমেন্ট কাজে লাগে নি। এই এক্সপেরিমেন্ট বাতিল করে দেয়া হয়েছে। এই রংবেরঙের আলোকরশ্মি আজও আকাশে জ্বলজ্বল করছে যার রহস্য এখনো পর্যন্ত উদঘাটন করা যায়নি। 

 

 

সার্কেল অফ নামিবিয়া

 

আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত এই অঞ্চলটিতে দূর দূর পর্যন্ত বিস্তৃত সাদা ঘাসের মাঠ। এই স্থানটি সুন্দর হওয়ার পাশাপাশি আরও একটি জিনিস রয়েছে যা এই স্থানটিকে এক রহস্যময় স্থান হিসেবে পরিচিত করেছে। যা হলো এখানে অবস্থিত গোলাকার প্যাটার্ন। এর রহস্যময়ী গোলাকার সার্কেল অনেক বিস্তৃত এলাকা জুড়ে অবস্থিত। এই সার্কেলগুলোর আকৃতি ১০ ফুট থেকে 100 ফুট পর্যন্ত হতে পারে। যা রহস্যময় একটি সার্কেল প্যাটার্ন হিসেবে রয়েছে। বিজ্ঞানীরা এটিকে বোঝার জন্য অনেক চেষ্টা করেছেন কিন্তু বিজ্ঞানীরা তার রহস্য উন্মোচন করতে ব্যর্থ হয়েছে। সেখানে স্থানীয় অধিবাসীদের বক্তব্য অনুসারে এই সার্কেল কোন দেবতা দ্বারা তৈরি করা হয়েছে কিন্তু এটি রহস্য হিসেবে রয়ে গেছে এটি কে তৈরি করেছে। 

 

 

মবিল কেভ রোমানিয়া

 

রোমানিয়া তে অবস্থিত এটি এক রহস্যময় গুহা। হাজার বছর পুরনো এই রহস্যময় গুহা থেকে আজও বিষাক্ত গ্যাস এখান থেকে তৈরি হচ্ছে। তারপরও এখানে প্রায় 40 প্রজাতির প্রাণী খুঁজে পাওয়া যায় সাথে এই গোহা থেকে এক রহস্যময় আলোক রশ্মিও খুঁজে পাওয়া যায় যা গুহার ভেতর পর্যন্ত থাকে যা এই গোহাকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে। এত এত বিষাক্ত গ্যাস থাকার পরেও এখানে প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে। এইখানে প্রাণের অস্তিত্ব থাকাটা বিজ্ঞানী কাছে এখনও এক রহস্য যেখানে না অক্সিজেন আছে এমনকি সূর্যের আলোও এসে পৌঁছায় না।

 

 

দ্যা ভয়লিক রিভার

 

আমাজন রেনফরেস্ট এর অনেক গভীরে রহস্যময় চার মাইল লম্বা এক নদী বহমান। এই নদীর পানি প্রচন্ড গরম এবং তার মধ্যে দিয়ে বুদবুদ হতে থাকে। এই নদীর তাপমাত্রা প্রায় 91 সেন্টিগ্রেড এর কাছাকাছি থাকে। যদি এই নদীতে কোন প্রাণী ভুলক্রমে নেমে যায় তাহলে ওই প্রাণী মুহুর্তের মধ্যেই সিদ্ধ হয়ে যাবে আর এই নদীর পানি বিজ্ঞানের জন্য এক রহস্যময় ঘটনা হিসেবে রয়ে গেছে। 

 

 

বসুন্ধরা ওয়াটারফল বাদ্রীনাথ

 

ভারতে অবস্থিত পবিত্র বাদ্রিনাথ থেকে 8 কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এক রহস্যময় ঝর্ণা যাকে বসুন্ধরা ঝর্ণা হিসেবে জানা হয়। এই ঝর্ণা নাকি প্রায় 400 মিটার উপর থেকে ঝরে। খুব সুন্দর হওয়ার পাশাপাশি এই ছড়াটি একটি রহস্যময়ও বটে। আর যে জিনিসটি এই ঝর্না থেকে রহস্যময় বানিয়েছে তা হল এই ঝর্ণার পানি। বিশ্বাস করা হয় এই ঝর্না থেকে পড়া পানি কোন পাপী ব্যাক্তির উপর ঝরে না। আর যারা পাপী মানুষ তারও এই ঝর্ণা থেকে দূরেই থাকে। প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ এই জনা দেখতে এখানে আসে। যেই জিনিসটি বিজ্ঞানীদের কাছে বেশী আশ্চর্য মনে হয়েছে তা হলো, ঝর্ণা থেকে পড়া পানি সমান পরিমান  আকারে নিচের দিকে প্রবাহিত হতে থাকে যা আজও একটি রহস্যময় রয়েছে।