ইসলামে স্ত্রীর সাথে সহবাসের সঠিক নিয়ম

স্ত্রীর সাথে সহবাসের সঠিক নিয়ম:

১. ভালােভাবে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা গ্রহণ করা । রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন পবিত্রতা ঈমানের অঙ্গ । (. সহীহ মুসলিম, ২২৩) সহবাসের পূর্বে পরিছন্নতা অনেক ক্ষেত্রে একে অন্যের প্রতি আকর্ষণ বাড়াতে বাধ্য করে।

২. শরীরের অবাঞ্ছিত লােম পরিষ্কার করে রাখা। নাভির নিচের পশম পুরুষের জন্য ব্লেড- খুর ইত্যাদি দ্বারা কামিয়ে ফেলা উত্তম । কোনরকম লােম নাশকের দ্বারাও উপড়ে ফেলা জায়েজ আছে। মেয়েদের জন্য বিভিন্ন গাছের আঠা কিংবা বাজারে প্রচলিত বিভিন্ন ক্রিম দ্বারা উপড়ে ফেলায় সুন্নতের মােয়াফেক । মেয়েরা ব্লেড ব্যবহার করলে ঘনত্ব বাড়ে এবং কোমলতা হারিয়ে যায় । তাই উপড়ে ফেলা উচিত। নাভির নিচের পশম কামানাের সময় নাভির দিক থেকে শুরু করা নিয়ম। অন্ডকোষ তার নিচে ও মলদ্বারে পশম থাকলে সময় কমিয়ে ফেলা । নাকের মধ্যে পশম না উপড়িয়ে কাটী দ্বারা কাটা উত্তম । বগলের পশম উপড়ে ফেলাই উত্তম তবে কামানাে ও জায়েজ । কানের মধ্যে পশম থাকলে তাও কেটে ফেলবে । বুক ও পিঠের পশম কামানাে জায়েজ আছে। তবে ভালাে নয় । বগলের পশম নাভির নিচের পশম, গােপ ইত্যাদি প্রত্যেক সপ্তাহে একবার পরিষ্কার করা মুস্তাহাব। শুক্রবার জুমার নামাজের আগেই এসব থেকে পাক সাফ হয়ে মসজিদে যাওয়া উত্তম । দুই সপ্তাহে একবার করলেও জায়েজ । একেবারে শেষ সীমা ৪০ দিন । এসব থেকে পাক-সাফ না হওয়া অবস্থায় ৪০ দিন অতিবাহিত হয়ে গেলে গােনাহ হবে ।

৩. ভালাে আতর বা সুগন্ধময় পারফিউম ব্যবহার করা । যা আপনার সঙ্গীকে মানসিক ভাবে প্রফুল্ল করতে কার্যকরী ভূমিকা রাখবে যা সহবাস করার আগ্রহ জন্মাবে । হযরত আয়েশা রাদিআল্লাহু তা’আলা আনহা বলেন আমি নবীজিকে সুগন্ধি লাগিয়ে দিতাম । অতঃপর তিনি তার স্ত্রী তার কাছে গমন করতেন । (সহীহ বুখারী,২৬৩)।

৪. লাইফ পার্টনার এর সামনে অন্য কারাে সৌন্দর্যের প্রশংসা না করে শুধু তার প্রশংসা করুন । কেননা প্রিয় জন প্রিয় মানুষের। প্রশংসা শুনতে ভালােবাসে। স্ত্রীর প্রশংসা করলে সে আরাে ভালােবাসা দেওয়ার জন্য খুশিমনে এগিয়ে আসবে।

. মুখের ভেতর মিষ্টি চকোলেট, চুইনগাম, ঝাঁঝালাে ফ্লেভারযুক্ত কোন খাবার যেমন দারুচিনি, লবঙ্গ ,খেজুর ইত্যাদি রাখা । এ ধরনের খাবার কণ্ঠ ও জিব্বাকে সতেজ রাখবে। মুখে দুর্গন্ধ থাকলে সেটা দূর করবে ।

৬. সহবাসের পূর্বে স্ত্রীকে শৃঙ্গার করতে হবে । শঙ্গার মানে হচ্ছে স্ত্রীর পুরাে শরীরে আদর করা । বিশেষ করে কপাল, দু ঠোঁট, জিহ্বা, দুটি স্তন , নাভি ,উরু , নিতম্ব ঘাড় কোমর , যােনির উপরের অংশ ইত্যাদি স্পর্শ কাতর স্থানে চুমু-খাওয়া , স্পর্শ করা , হাত দিয়ে ভাল করে মর্দন করা । দু-এক আংগুলের মাথা দিয়ে যােনির উপর বা ভেতরে ঢুকিয়ে হালকা ঘষাঘষি করা। এতে সেটা পিচ্ছিল হয়ে যাবে। স্ত্রী দ্রুত উত্তেজিত হবে এবং সহজে তার অর্গাজম হতে সহায়তা করবে। তাই ইত্যাদি বিষয়কে যত সময় দিয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে আদর করা সম্ভব ততই স্ত্রীকে দ্রুত ভালােবাসা ও তৃপ্তি দেওয়া সম্ভব।

 

স্ত্রী সহবাসের সুন্নাত নিয়ম:

. সহবাস শুরু করার পূর্বে নিয়ত সহীহ করে নেওয়া । অর্থাৎ এই নিয়ত করা যে এই হালাল পন্থায় যৌন চাহিদা পূরণ করা দ্বারা হারামে পতিত হওয়া থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। তৃপ্তি লাভ করা যাবে এবং তার দ্বারা কষ্ট সহিষ্ণু হওয়া । নেকী হাসিল হবে এবং সন্তান লাভ হবে।

২. কোন শিশু বা পশুর সামনে সহবাসে রপ্ত না হওয়া ।

৩. পর্দা ঘেরা স্থানে সঙ্গম করা ।

৪. সঙ্গম শুরু করার পূর্বে শৃঙ্গার করা( চুম্বন, স্তন মর্দন) ইত্যাদি করা ।

৫. বীর্য, যৌনাঙ্গের রস ইত্যাদি মােছার জন্য এক টুকরা কাপড় রাখা ।

 

৬. শয়তান থেকে পানাহ চাওয়া । এই দোয়া পড়া ا يشي الشي اللي كندا الشتا وجب الشان ما ر অনুবাদ: আমি আল্লাহর নাম নিয়ে এই কাজ শুরু করছি । হে আল্লাহ শয়তানকে আমাদের থেকে দূরে রাখ এবং যে সন্তান তুমি আমাদেরকে দান করবে তার থেকেও শয়তানকে দূরে রাখ । (মুসলিম, হাদীস নং- ১৪৩৪)

৭. সহবাস অবস্থায় বেশি কথা না বলা । প্রয়ােজন অনুপাতে কথা বলা এবং সঙ্গীকে উৎসাহ মূলক বাক্য বলা। তাহলে আরাে মধুর হবে সহবাস ।

৮. সঙ্গম অবস্থায় স্ত্রীর যােনির দিকে নজর না দেওয়া। তবে হযরত ইবনে ওমর রাদিআল্লাহু আনহু সঙ্গম অবস্থায় স্ত্রী যৌনীর দিকে দৃষ্টি দেওয়া উত্তেজনা বৃদ্ধির সহায়ক বিধায় এটাকে উত্তম বলতেন এবং কখনাে সখনাে এটাই উত্তম।

৯. হযরত ইবনে মাসউদ রাদিআল্লাহু আনহু বীর্যপাতের সময় এই দোয়া পাঠ করতেন اللهم لا تجعل الشيلان فيما رزقتني تتصيبا

অনুবাদঃ হে আল্লাহ যে সন্তান তুমি আমাদেরকে দান করবে তার মধ্যে শয়তানের কোন অংশ তথা প্রভাব রেখাে না। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা)

১০. একান্ত প্রয়ােজন ছাড়া বীর্যের প্রতি দীর্ঘদৃষ্টি না দেওয়া ।

১১. বীর্যপাতের পর স্বামীর নেমে না যাওয়া বরং স্ত্রীর উপর অপেক্ষা করা যেন স্ত্রী ও তার খায়েশ পূর্ণ মাত্রায় মিটিয়ে নিতে পারে । (মাজমাউজ জাওয়ায়েদ)

১২. সঙ্গম শেষে পেশাব করে নেওয়া জরুরি।

১৩. সঙ্গমের পর সাথে সাথে গােসল করে নেওয়া উত্তম। অন্তত অজু করে নেওয়া।

১৪. স্বপ্নদোষের পর বা একাধিক বার সঙ্গম করতে হলে পেশাব করা এবং যৌনাঙ্গ ধুয়ে নেওয়া ।

১৫. সঙ্গমের পর অন্তত কিছুক্ষণ ঘুমানাে উত্তম ।

১৬. সঙ্গমের বিষয়ও কারাে নিকট প্রকাশ করা নিষেধ। এটা একদিকে যেমন নির্লজ্জতা, অন্যদিকে তেমন স্বামী স্ত্রীর হক নষ্ট।