ভালোবাসার গল্প – স্কুলে প্রেম

ভালোবাসার গল্প > আলাপটা হয়েছিল অনলাইনে। একটা এডুকেশনাল ও স্টুডেন্টদের চ্যানেলে লেখা একটা ছেলের কমেন্টের রিপ্লাই দিতে গিয়ে। ছেলেটাও একটা মাধ্যমিক স্টুডেন্ট, সে তার কমেন্টে প্রশ্ন করে তার জিজ্ঞাস্য বিষয় নিয়ে। ছেলেটার অ্যাকাউন্ট এ ওর নাম 

ছেলেটা ভূগোল বিষয়ে কমেন্টে একটা প্রশ্ন করেছিল ইউটিউব স্যার এর কাছে , রীতিমত রিপ্লাই এর আশা প্রায় না করেই। কিন্তু কাকতালীয় ভাবে সেদিনই তাকে কোনো একটা অ্যাকাউন্ট রিপ্লাই দেয় তার প্রশ্নের।

নেট অন করে অনিরুদ্ধ দেখে যে রিপ্লাই দিয়েছে তার নাম- সুছন্দা ব্যানার্জি। অনিরুদ্ধ তার প্রশ্নের যথাযথ ও সুন্দর গুছিয়ে, লেখা উত্তর দেখে ধন্যবাদ জানায় সুছন্দার অ্যাকাউন্ট এ। সুছন্দা অনেক ক্ষণ একটা হাসির ইমোজি দেয় পাল্টা রিপ্লাই তে।

অনিরুদ্ধ এরপর ওর স্কুল, ক্লাস বলে। আর বলে সুছন্দা কি কোনো ছাত্রী??

স্কুলের ঠিকানা গ্ৰামের। মানে গ্ৰামের ছেলে সে। সুছন্দাও সব উত্তর দেয় অনিরুদ্ধ কে। হ্যাঁ সেও ছাত্রী, একই ক্লাসেই পাঠরতা অনিরুদ্ধর মতো তবে সে শহরের মেয়ে।

আস্তে আস্তে কমেন্ট বক্স প্রায় ভরে ওঠে দুইজনের পড়াশোনা সংক্রান্ত আলোচনায়। এ ওকে প্রশ্ন করে, উত্তর দেয় । আরো অনেক খুঁটিনাটি। ভালোবাসার গল্প

যাই হোক, অবশেষে অনিরুদ্ধ নিজের নম্বর দেয় প্রথম কোনো রকম দ্বিধা না রেখে আর বলে – “তোমার যদি পড়াশোনা সম্পর্কিত আলোচনা বা যদি অঙ্ক বা ভৌতবিজ্ঞান বা যে কোনো বিষয়ে কোনো সাহায্য দরকার হয় তো আমার সাথে যোগাযোগ করো কেমন!”

স্কুল লাইফের প্রেম
স্কুল লাইফের প্রেম school life love story
সুছন্দা তো রীতিমত অবাক। তাকে তো এই ছেলেটা চেনেই না। এই সবে আলাপ আর এত বিশ্বাস করে নিজের ফোন নাম্বার টাও দিয়ে দিল!

সুছন্দা বলে- “বেশ আমি তোমার নম্বর সেভ করে নিচ্ছি। তুমি প্লিজ এবার ডিলিট করে দাও তাড়াতাড়ি। কারণ তো বুঝতেই পারছ, এটা একটা পাবলিক প্লাটফর্ম, অসুবিধা হতে পারে তোমার নম্বরটা ছড়িয়ে গেলে। প্লিজ তাড়াতাড়ি ডিলিট করে দাও।”

-“আচ্ছা তুমি সেভ করেছ তো?”

-” হুম।”

– “তুমি আমাকে একটা পড়া সংক্রান্ত কোনো মেসেজ পাঠিও ঠিক আছে!”

– “আচ্ছা।” 

সুছন্দা দ্রুত নম্বরটা সেভ করে আর অনিরুদ্ধ ডিলিট করে দেয়। এরপর চলে আসা ইউটিউব থেকে হোয়াটস অ্যাপ এ। প্রোফাইলে একটা সরল, নির্ভীক ছেলের মুখ। সুছন্দার প্রোফাইলে অবশ্য ফুল ছিল। সে নিজের ছবি দেয় না তখন। এরপর সুছন্দা ইতিহাস, ভৌতবিজ্ঞান এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন পাঠায়। যেগুলো মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। ভালোবাসার গল্প

অনিরুদ্ধ ধন্যবাদ জানায়।

সুছন্দা বলে, বন্ধুত্বে কখনো ধন্যবাদ হয় না।

অনিরুদ্ধ বলে, না তবুও। ব্যবহার ই মানুষের পরিচয়। আচ্ছা রাত আটটা বাজতে চলল খেয়ে নাও এবার, আমি রাখছি। শুভ রাত্রি।

সুছন্দা “হুম” বলে অফ হয়ে যায়।

পরদিন সকালে “শুভ সকাল” এই মেসেজের সাথে আরো অনেক প্রশ্ন উত্তর, অঙ্কের সমাধান লেখা পাঠিয়েছে যা দেখে সুছন্দা বুঝতে পারে যে অনিরুদ্ধ ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে রোজ পড়াশোনা করে। তবুও জিজ্ঞাসা করে একথা। অনিরুদ্ধ টাইপ করে লেখে “হুম” আর একটা হাসির ইমোজি।

– “কি পড়েছ আজ?” সুছন্দা বলে।

-“সবই তো পড়েছি, যা পড়া বলবে।”

-“তাই নাকি! তাহলে পড়া ধরব একটু?”

-” হুম ধরো।”

-” এই তোমার পাশে বই খোলা নেই তো?” সুছন্দা হঠাৎ করে বলে ওঠে।

অনিরুদ্ধ বলে, “বই খোলা না হয় আজ থাকবে, পরীক্ষা তে তো সেটা সম্ভব নয়। তবে আমার বই খোলাও নেই বা পাশে রাখাও নেই, তুমি প্রশ্ন করো আমি সঙ্গে সঙ্গে তোমাকে অডিও করে উত্তর দিয়ে দেবো।”

সুছন্দা মনে মনে হাসে। দেখাই যাক কেমন পারে? ভালোবাসার গল্প

সুছন্দা প্রশ্ন করে বাংলার একটা জটিল কঠিন অধ্যায় থেকে।

অনিরুদ্ধ অডিও করে। একদম সঠিক উত্তর, আত্মবিশ্বাস এর সাথে।

প্রথম ভয়েস শুনল সুছন্দা অনিরুদ্ধর।

“কি অসাধারণ!” টাইপ করে পাঠায় সুছন্দা অডিওর উত্তর শুনে।

একে একে সব বিষয় থেকে তারপর কড়া কড়া অঙ্ক। খসখস করে সঙ্গে সঙ্গে লিখে ছবি তুলে পাঠিয়ে দেয়।

READ MORE:  মানবতা পর্ব-২ ছোটগল্প

সুছন্দা অভিভূত। এই ছেলেটা এত ভালো পড়াশোনায়! ওর স্কুলেও তো এত ভালো কোনো স্টুডেন্ট নেই। এত ভালো! সব রেডি। মাধ্যমিক পরীক্ষায় তো মনে হচ্ছে কিছু একটা হবে!

অনিরুদ্ধ সুছন্দা কে বলে, “তোমাকে আমি পড়া ধরব?”

-“হ্যাঁ ধরো।” বলে সুছন্দা।

-“আচ্ছা আমি তোমাকে ফিরে এসে পড়া ধরব।”

– “কোথায় যাবে এখন?”

-“মাঠে যাবো, ক্ষেতের কিছু কাজ আছে।”

-” তুমি মাঠে কাজ করো?”

-” হুম। এখন ধানের বীজ রোপণ করার সময়, তাই আর কি!”

এত কম আলাপেও ছেলেটা এত সহজভাবে, কুন্ঠা না করে যেভাবে কথা বলে, সেটা শহরে অনেক চেষ্টা করেও খুব একটা কেউ পারে না আর তার উদাহরণ সুছন্দা নিজেই।

– “আচ্ছা আমি রাখলাম এখন।” বলে অনিরুদ্ধ।

সুছন্দা দেখে ছেলেটা গতকাল বলেছিল “ব্যবহারই মানুষের পরিচয়”। আজ সে তার স্টাটাসে ঈশ্বরের নাম গান দিয়েছে।

কিন্তু সুছন্দা মনে মনে এগুলোই খুব ভালোবাসে। তার সব বান্ধবীদেরই প্রেমিক আছে। তার নেই মানে বলা ভালো হয়নি। কারণ সুছন্দা কোনো বড়লোক, সুন্দর, হ্যান্ডসাম ছেলে নয়। সে চায় একটা সুন্দর মনের সৎ ছেলে। যে তাকে কখনো কিছু লুকোবে না। চরিত্রে খাঁটি হবে আর ভালোবাসাটাও যেন খাঁটি হয়। ঈশ্বরের অনুরাগী, পড়াশোনায় একাগ্র, সহবৎ জানা, সহমর্মিতা জানা, মানবিক একজন মানুষ।

ইস! আপনমনে এসব কি ভাবতে বসেছে সুছন্দা! ভাবনা থেকে বেরিয়ে এলো চট করে। সকাল দশটায় স্কুল যাবে অনিরুদ্ধ মাঠ থেকে এসে। হোয়াটস অ্যাপ এ মেসেজ করে, “খাওয়া হয়েছে তোমার?”

সুছন্দা অজান্তে যেন অপেক্ষা করছিল ওর মেসেজ আসার। সঙ্গে সঙ্গে রিপ্লাই করে, “হ্যাঁ তুমি? আর হ্যাঁ পড়া ধরবে না আমায়?”

– “না গো পরে ধরব, আমার অনেক দেরি হয়ে গেছে তাই আমি এখন খাবো।”

-“এত দেরি!”

অনিরুদ্ধ বলে, “হ্যাঁ গো। অনেক কাজ থাকে তো তাই ঠিক সময়ে খেতে পারি না। স্কুল যাবে না?”

– “আমার স্কুল ছুটি।” বলে সুছন্দা।

– “ও আচ্ছা তাহলে পড়ো বরং। আমি যাবো স্কুলে।” ভালোবাসার গল্প

গোটা দিনটা অপেক্ষা। কেন এমনটা হচ্ছে সুছন্দার। কই যার জন্য অপেক্ষা আসছে, তার কি অপেক্ষা আসে সুছন্দার জন্য। সুছন্দা অনেক চেষ্টা করে এসব না ভাবার। গতকাল মাত্র আলাপ আর এখন এরকম হলে হবে!

কিন্তু তবুও হচ্ছে। সে এখনো নিজের ছবি অনিরুদ্ধ কে দেখায়নি বা প্রোফাইলে দেয়নি। কিন্তু খুব আশ্চর্যজনক ব্যাপার, অনিরুদ্ধ মোটেও বলে না ছবি দিতে বা প্রোফাইলে রাখতে।

পড়াশোনার আলোচনার সাথে একে অপরের পরিবার সম্পর্কে জানতে পারে। দুজনে দুজনার পছন্দ গুলোও শেয়ার করে। পুরো যেন বেস্ট ফ্রেন্ড।

এভাবে কয়েকদিন কেটে গেল। ছেলেটা অত্যন্ত ভদ্র, সভ্য, গালাগালি করে না। আর পড়াশোনায় অসম্ভব মেধাবী।

সুছন্দা একদিন জানতে পারে ছেলেটা ক্লাসের প্রথম। এখনো পর্যন্ত দেখেনি অনিরুদ্ধ, সুছন্দা কে।

হঠাৎ একদিন বলে, “তুমি কি তোমার একটা ছবি দেবে আমাকে। আমি তো তোমাকে কখনো দেখিনি।”

সুছন্দা খুব একটা ছবি তোলে না। ওর কাছে যে কটা ছবি ছিল তার মধ্যে একটা দিল। আর বলল, “দেখে যেন ভয় পেও না। আমি মানবীই, পেত্নী না!”

অনিরুদ্ধ হাসির ইমোজি দেয়। বলে, “কি যে বলো, তুমি তো অনেক সুন্দর দেখতে একটা মেয়ে!”

আরো অনেক গুলো দিন যায়। দু’জনের মধ্যে অনেক ভালো বন্ধুত্ব। কিন্তু শুধু কি বন্ধুত্ব, অনিরুদ্ধ হয়ত অজান্তে ভালোবেসে ফেলেছে সুছন্দা কে। কিন্তু ভয়ে বলছে না কারণ সুছন্দা তাকে তীব্রভাবে বন্ধুজ্ঞানে ভাবে। আর আরো বড় কথা এখন সামনে পরীক্ষা, ভালো করে পরীক্ষা দিতে হবে। এসব মনে আনলে চলবে না।

কিন্তু উল্টো দিকে সুছন্দাও অনিরুদ্ধ কে নিয়ে ভাবে সবসময়। চিন্তা করে ওকে নিয়ে। কেন করে তা সে নিজেও জানে না। ভালোবাসার গল্প

দুমাস কেটে গেল। এর মধ্যে মাত্র দুইবার ফোন হয়েছে। দুইজনেই ফোনে কথা বলতে লজ্জা পাচ্ছে। হিসেব মতো সুছন্দার প্রথম কথা বলা উচিত কারণ হোয়াটস অ্যাপ এ অনিরুদ্ধ প্রথম অডিও করে তার ভয়েস শুনিয়েছে।

READ MORE:  আরজ আলী মাতুব্বর জীবনী | Biography of Arj Ali Matubbar

ফোন টোনের দরকার নেই বাবা, হোয়াটস অ্যাপ এ টাইপ ই ভালো।

যতদিন যাচ্ছে তত যেন দুজনের প্রতি দুজনের টান অনেক বাড়ছে। শারীরিক ভাবে তারা একে অপরের থেকে অনেক দূরে থাকলেও মানসিকভাবে যেন অনেক কাছাকাছি।

কষ্টের ভালোবাসার গল্প
কষ্টের ভালোবাসার গল্প
অনিরুদ্ধ কি সুন্দর, সহজভাবে সব কথা দিনশেষে শেয়ার করে সুছন্দা কে। সব কথা, ব্যক্তিগত, অব্যক্তিগত, পরিবারগত ইত্যাদি ইত্যাদি। এমনকি নিজের দূর্বলতাও বলেছে সুছন্দা কে।

সুছন্দা বলে, “তুমি যে আমাকে তোমার দূর্বলতা বলছ, আমি যদি তোমাকে সেই দূর্বল স্থানে আঘাত করি তখন কি হবে?”

– “কি আর হবে? আমি তোমাকে প্রথম থেকেই অনেক বিশ্বাস করি। এখন যদি এমন কিছু হয় তাহলে সেটা তোমার নয়, আমার দোষ। কারণ আমার বিশ্বাস অত্যন্ত ভুল।”

– “এই রাগ করলে নাকি?” ভালোবাসার গল্প

– “না গো, রাগ নামের রিপু আমার নেই। তবে তুমি খুব ভালো মেয়ে। আমাকে তুমি অনেক হেল্প করেছ , করছ। অনেক অনেক। আমি তোমাকে কখনো ভুলব না।”

অনেক দিন পরে হঠাৎ সুছন্দাই একদিন বলে দেয় যে সে অনিরুদ্ধ কে খুব ভালোবাসে। অনিরুদ্ধ শুনে খুব খুশি। সেও বলে, আমিও তোমাকে অনেক ভালোবাসি সুছন্দা। কিন্তু বলতে পারিনি যদি তুমি কিছু মনে করো।

ব্যস্ আর কি, একে অপরকে ভালোবাসতে বাসতে ভালোবাসার কথা জানিয়ে দিল। জীবনটা পুরো যেন পাল্টে গেল। দুজনেই দুজনের মনের মতো। আর অদ্ভুতভাবে দুজনের মধ্যে খুব মিল। তবে অনেক ঝগড়া, মান অভিমান হয় খুব। ‌

অনিরুদ্ধ অনেক গরীব ঘরের ছেলে। সে সবকিছুই সত্যি বলে এসেছে প্রথম থেকে, আজও, এখনও। ভয় হয় সুছন্দা কে হারিয়ে ফেলার। সুছন্দা কত দূর শহরে থাকে। অনলাইনে আলাপ শুনলে সকলেই ভ্রু কুঁচকে দেয়। কিন্তু সব পরিচয়তেই কি প্রতারণা থাকে? ভালোবাসা, যত্ন, মান অভিমানও তো থাকে! কে বুঝবে সে কথা!

মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ। হিসেব মতো সত্যিই অনিরুদ্ধ মাধ্যমিকে কৃতি হয়েছে। অনেক খুশি সুছন্দা।

তবে অনিরুদ্ধ যেহেতু গরীব ঘরের তাই সে স্বপ্ন দেখতে ভয় পায়। তবুও দেখছে সুছন্দার ভালোবাসার জন্য। সুছন্দা মেয়েটা আজকের দিনের মেয়েদের মতো নয়। সবার থেকে অনেক আলাদা তবে খুব রাগী স্বভাবের! সুছন্দা অনিরুদ্ধর খারাপ ভালো দুইসময়তেই ওর পাশে ছিল। দূরে আছি তো কি হয়েছে, মনের দিক থেকে তোমার কাছে।

কিন্তু অনিরুদ্ধর সব চিন্তার সাথে এটাও চিন্তা হয় যে সুছন্দা কে সে কখনো হারিয়ে ফেলবে না তো! ওকে হারিয়ে ফেললে অনিরুদ্ধর কি হবে তা সে জানে না। তার প্রথম ভালবাসা সুছন্দা।

উল্টো দিকে সুছন্দাও তাই ভাবে। খুব কাঁদেও একেকসময়। অনিরুদ্ধ তাকে বোঝায়, কাঁদতে বারণ করে। অনিরুদ্ধরও মাঝে মাঝে খুব কষ্ট হয়। কবে ওদের সামনাসামনি দেখা হবে? কবে ওর হাত ধরে ঘুরবে? কবে ওর কাঁদার সময়ে ওকে বুকে জড়িয়ে ধরে বলবে “কেঁদো না সুছন্দা, আমি তো আছি তোমার সাথে।” ওকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখে অনিরুদ্ধ। ও ওর বৌ হবে। টুকটুকে লাল শাড়ি পরে কি সুন্দরীই না লাগবে! এক্কেবারে তার রানী! সুছন্দা কখনো কোনো আবদার করে না বরং কিছু কেনার কথা বা দেওয়ার কথা উঠলেই রেগে গিয়ে বলে, “শোনো আমি তোমাকে ভালবাসি, তোমার টাকাকে নয়, বুঝেছ। আমার তোমাকে হলেই হবে আর কিচ্ছু চাই না।”

কে জানে, শহরের বড়ঘরের মেয়ে গ্ৰামে গরীব ঘরে থাকতে পারবে কিনা! এখন আগের মতো দুইমাসে দুইবার ফোন নয়, প্রতিদিন শত ব্যস্ততার মাঝেও একটু কথা হবেই হবে । সুছন্দা খুব হিংসুটেপনা করে যদি কোনো মেয়ে অনিরুদ্ধর সাথে কথা বলে বা দেখেছে এই কথাটা শুনলে।

খুব রেগে গিয়ে নানান বকাঝকা করে। আবার দুঃখ করেও বলে, “তোমার সাথে যদি অন্য কারোর বিয়ে হয়ে যায়!”

“মনে মনে তো আমি তোমাকে বিয়ে করেছি সুছন্দা। কিন্তু তোমাকে যদি তোমার বাড়ির লোক কারোর সাথে বিয়ে দিয়ে দেয়! তারা কি চাইবে তাদের একমাত্র মেয়েকে গ্ৰামে, তাও আবার গরীব ঘরে পাঠাতে!”

সুছন্দা বলে, “না গো তুমি দেখো, এসব কিচ্ছু হবে না। আমি শুধু তোমারই।”

READ MORE:  নোমান আলী খান জীবনী | Biography of Noman Ali Khan

উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষাও হয়ে যায়। অনিরুদ্ধ আর পড়তে পারে না পরিবারের অভাব অনটনের মাঝে। সে চাকরি খোঁজে, একসময়ে পেয়েও যায়। চাকরির পরেই সুছন্দা কে বৌ করে আনবে সে।

এরমধ্যে অনেক অনেক ঝগড়া, অনেক বার ব্লক আনব্লক, অনেক কান্নাকাটি আর অনেক ভালোবাসা হয়। কিন্তু ভিডিও কলে দেখাটা সামনাসামনি ও কাছ থেকে কবে হবে। দুইজনেই দিন গোনে। অনিরুদ্ধর অসুবিধা নেই কিন্তু সুছন্দা আসবে কার সাথে? ওর তো সেরকম বান্ধবীও নেই।

অনিরুদ্ধ বারবার বলে, তুমি একা যাওয়া আসা করবে না সুছন্দা। রাস্তাঘাটে অনেক খারাপ লোক ঘুরে বেড়াচ্ছে। সাবধানে থাকবে কেমন, গাড়িঘোড়া দেখে।

প্রচুর চিন্তা একে অপরের জন্য। একটু আড়াল হলেই মিস করা থেকে দুশ্চিন্তা তারপর অনেকদিন হয়ে গেলে রাত্রে কাঁদা। এই বুঝি হারিয়ে ফেলল ভালোবাসার মানুষ টি কে!

যাই হোক অনিরুদ্ধ দেখা করতে বলে অনেক বার কিন্তু সুছন্দার পক্ষে ইচ্ছা থাকলেও তা সম্ভব হয়ে ওঠে না। এভাবেই দিন গড়ায়। সুছন্দা মরিয়া হয়ে উঠেছে ও একদিন ঠিক করেই ফেলল যে ও একাই যাবে দেখা করতে। অনিরুদ্ধ বারণ করে এমনটা করতে। কিন্তু সুছন্দা শুনবে না কিছুতেই।

এই কয়েকবছরে দুইজনের বাড়ির লোক ই একটু বিরক্ত তাদের ছেলে ও মেয়ের প্রতি। সবসময় কার সাথে কথা এত! খুব রেগে যায় মাঝে মাঝে পরিবার। কিন্তু কি আর করা যাবে, অনলাইনে আলাপ বললে নয় সম্পর্ক শেষ করতে বলবে নয়তো বলবে অত দূরের সাথে কোনো সম্পর্ক নয়। কিন্তু ওরা কি জেনেশুনে এসব করেছে। ভালোবাসা কখন কার জীবনে কীভাবে ধরা দেয় কেউ জানে না। অবশ্য অনিরুদ্ধ ওর কিছু বন্ধুদের জানিয়েছে।

কিন্তু এত ভালোবাসা টা সত্যিই হারিয়ে গেল যেন কোথায়!! সত্যিই ছাড়তে হলো একে অপরকে।

একদিন দুজনে মিলে ঠিক করে যেভাবেই হোক দেখা করবে। কিন্তু সেইদিনই সকালে সুছন্দা দেখে ওর ফোন টা নেই, আর সকাল থেকেই বাড়ির সবাইকে এত ব্যস্ত দেখাচ্ছে কেন! জিজ্ঞেস করতেই সবাই বলে ওঠে, “আজ তোমার বিয়ে। যাও তৈরি হও। পার্লার থেকে লোক আসবে।”

-“কি বলছ এসব? হতচকিত হয়ে বলে সুছন্দা।”

– “ঠিকই বলছি। ধমকে বলে ওঠে সকলে।”

– “না না এ হতে পারে না।” চিৎকার করে ডুকরে কেঁদে ওঠে সুছন্দা।

school life love story
school life love story কষ্টের ভালোবাসার গল্প ভালোবাসার গল্প

তার পরিবারের সবাই তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে সেদিন জোর করে তার বিয়ে দেয়। ফোনটা অনেকবার চেয়েও পায়না সারাদিন যে যোগাযোগ করবে অনিরুদ্ধর সাথে।

ওদিকে অনিরুদ্ধ ফোন করে, মেসেজ করে, অনলাইনে আসে অনেকবার। ও তো গন্তব্যস্থলে হাজির। তাহলে সুছন্দা কি পথ চিনতে ভুল করল? বারবার বারণ করেছিলাম একা একা না আসতে, কে শোনে কার কথা ! নানার রকম চিন্তা শুরু হলো। আর আরো বেশী করে চিন্তা হচ্ছিল যে ফোন টা ধরছে না দেখে।

অনেকক্ষণ অপেক্ষা করার পর খুব দুশ্চিন্তা শুরু হয় অনিরুদ্ধর। কি হলো সুছন্দার ? ও তো এমন করবে না কখনো।

সুছন্দার খুব কষ্ট হয়। কারণ আজ তার অনিরুদ্ধর সাথে প্রথম সাক্ষাতের দিন, সেটা আর হলো না। দ্বিতীয়ত, তার পরিবারের সবাই তার অমতে, তাকে না জানিয়ে জোর করে আইনসম্মত ভাবে বিয়ে দিচ্ছে। আর এইকথাটা সে শেষবারের মতো জানাতেও পারল না অপেক্ষারত অনিরুদ্ধ কে!!

বিকেল পেরিয়ে সন্ধ্যা হয়। সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত। তখনো পাগলের মতো অপেক্ষা করেই চলেছে অনিরুদ্ধ। কারোর ফোন ধরেনি শুধু সুছন্দা কে ফোন করে চলেছে। কিন্তু সুছন্দা হয়ত আর কখনোই তার ভালবাসার মানুষের সাথে দেখা কোনো ফোনটাও করতে পাড়বে না!

পনেরো টা বছর কেটে গেছে। আজকেও অনিরুদ্ধ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে সুছন্দার সাথে দেখা হওয়ার জন্য । সেই অপেক্ষাটায় হয়ত স্বাভাবিক, সুস্থ অনিরুদ্ধ নেই কিন্তু একটা বদ্ধ উন্মাদ অনিরুদ্ধ ঠিকই অপেক্ষা করছে তার সুছন্দার। কারণ সেদিন তো দেখা করা আর হলো না ওদের!