স্বাস্থ্য রক্ষায় মটরশুঁটি এর ভূমিকা

মটরশুঁটি আমাদের জন্য খুবই উপকারী একটি সবজি। বিভিন্নভাবে তরকারি বা সালাদের সাথে আমরা এটা খেতে পারি। স্বাস্থ্য রক্ষায় মটরশুঁটি এর ভূমিকা অনেক।

 

১) মটরশুঁটি আঁশসমৃদ্ধ হওয়ায় দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকতে সাহায্য করে। তাছাড়া এতে ক্যালোরির পরিমাণও কম থাকে। এক কাপ মটরশুঁটিতে আনুমানিক ১১৮ ক্যালোরি থাকে। ওজন কমানোর দাওয়াই মটরশুঁটি।

 

(২) মটরশুঁটির অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ফ্রি র‌্যাডিকেলের ক্ষতি কমায় এবং শরীর থেকে ক্ষতিকর পদার্থ বের করে দেয়।

 

(৩) মটরশুঁটিতে নিয়াসিন থাকে, যা খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। মটরশুঁটিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রক্তনালী ব্লক হওয়া প্রতিরোধ করে।

 

(৪) মটরশুঁটিতে ভিটামিন কে থাকে যা ক্যালসিয়াম শোষণে সাহায্য করে, ফলে হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সাহায্য করে।

 

(৫) মটরশুঁটিতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টিইনফ্লামেটরি উপাদান থাকে। শরীর সুস্থ্য রাখার পাশাপাশি ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

 

(৬) ফাইবার সমৃদ্ধ মটরশুঁটি পেট পরিষ্কার করে। কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্ত হতে ফাইবার সমৃদ্ধ মটরশুঁটি বেশ কার‌্যকরী। মটরশুঁটি বিপাকের উন্নতি ঘটায়।

 

এছাড়াও 

 

মটরশুঁটির অ্যান্টিইনফ্লামেটরি ও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট উপাদান শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

এর অ্যান্টিইনফ্লামেটরি উপাদান শরীরের টক্সিন দূর করে ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলকে জমতে না দিয়ে হৃদরোগ থেকে দূরে রাখে এই মটরশুঁটি।

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রয়েছে মটরশুঁটির।

মটরশুঁটি থেকে প্রচুর প্রোটিন মেলে। তাই ওবেসিটির রোগীদের ফুল প্রোটিন ডায়েটে মটরশুঁটি অন্যতম উপাদান।

 

প্রোটিনের উৎসঃ প্রোটিন একটি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান যা শরীরের সমস্ত কাজে মূল ভূমিকা পালন করে। মটরশুঁটির মধ্যে রয়েছে অ্যামিনো অ্যাসিড, যা কিনা প্রোটিনের বিল্ডিং ব্লক। এটা নিরামিষাশীদের জন্য প্রোটিনের একটি দুর্দান্ত উৎস হিসেবে কাজ করে। দুগ্ধজাত পণ্যের মতো অন্যান্য কিছু ক্যালোরি ও স্যাচুরেটেড ফ্যাট সমৃদ্ধ প্রোটিনের তুলনায় উপকারি।

 

যৌবন ধরে রাখে: মটরশুঁটি যদি আপনি নিয়মিত খান, সেক্ষেত্রে আপনার শরীর তো সুস্থ থাকবেই, একইসঙ্গে চুল এবং ত্বকও হয়ে উঠবে ঝলমলে ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল। মটরশুঁটিতে এমন কিছু প্রাকৃতিক উপাদান রয়েছে, যা ত্বকের ক্ষেত্রে অ্যান্টি এজিংয়ের কাজ করে। অর্থাৎ ত্বক টানটান রাখে এবং জেল্লাদার করে তোলে। ত্বকে বলিরেখাও পড়তে দেয় না।

 

 

বাড়তি মেদ ও ওজন কমায়: বাড়তি মেদ ও ওজন আমাদের জীবনের একটি অন্যতম সমস্যা। নানা ডায়েট চার্ট মেনে চলার চেষ্টা করেও অনেকসময়েই ওজন কমতে চায় না। সেক্ষেত্রে প্রতিদিনের খাবারে আপনি মটরশুঁটি যোগ করতে পারেন। মটরশুঁটিতে ক্যালরির পরিমাণ খুব কম আর পেটও বেশ অনেকক্ষণ পর্যন্ত ভরা থাকে। ফলে ওজন বেড়ে যাওয়ার কোনো আশঙ্কাই নেই।

 

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে: যাদের ডায়েবেটিসের সমস্যা রয়েছে অর্থাৎ যাদের রক্তে শর্করার পরিমাণ বেশি, তারা কী খাবেন আর কী খাবেন না, তা নিয়ে খুব কনফিউশনে ভোগেন। যা-যা খেতে ইচ্ছে করে, তা খেতে পারেন না। আর যেগুলো খাওয়া যায়, সেগুলো হয়তো খেতে ভাল লাগে না। রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়ম করে প্রতিদিন খাবারে মটরশুঁটি খাওয়ার উপদেশ অনেক চিকিৎসক দিয়ে থাকেন। এর অ্যান্টিইনফ্লামেটরি উপাদান শরীরের টক্সিন দূর করে ও ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়।

 

হৃদরোগের থেকে বাঁচায়: মটরশুঁটিতে উপস্থিত অ্যান্টি অক্সিডেন্ট রক্ত চলাচল ঠিক রাখে। মটরশুঁটিতে উপস্থিত ভিটামিন বি, আর ফলেট‚ বিওয়ান‚ বিথ্রি‚ বিসিক্স শরীর থেকে হোমো কেইসেটেইন লেভেল কম করে। আর এর ফলে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটা কমে যায়। বাতাস থেকে নাইট্রোজেন নিয়ে মাটিতে চালান করতে সাহায্য করে মটরাশুঁটি গাছ। এর ফলে আর্টিফিসিয়াল সার দেওয়ার প্রয়োজন অনেকটা কমে যায়। মটরশুঁটি চাষ হয়ে গেলে মটরশুঁটি গাছ থেকে ভালো অর্গানিক সার তৈরি হয়। এছাড়াও মটরশুঁটি গাছের খুব কম আর্দ্রতা প্রয়োজন হয়। এতে উপস্থিত নিয়াসিন শরীরে ট্রাইগ্লিসারাইড আর লাইপো প্রোটিন কম করতে সাহায্য করে যার ফলে শরীরে ব্যাড কোলেস্টেরোল ও ট্রাইগ্লিসারাইড কম হয়।

 

ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাসঃ মটরশুঁটির অ্যান্টিইনফ্লামেটরি ও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট উপাদান শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে, মটরশুঁটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টিইনফ্লেমেটরি হিসাবে কাজ করে। এর প্রভাব ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস করতে পারে। ২০১৫ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় বিশ্লেষণ করা হয়েছে, অন্ত্রের ক্যান্সারের সাথে লড়াই করে এমন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে কালো মটরশুঁটিতে।