কুরুলুস উসমান : ইতিহাস সৃষ্টিকারী এক তুর্কি সিরিজ

উসমানীয় সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা প্রথম ওসমানের জীবন গল্প কুরুলুস উসমান একটি অ্যাডভেঞ্চার টেলিভিশন ধারাবাহিক বা তুর্কি সিরিজ। এটি দিরিলিস: আরতুগ্রুল সিক্যুয়েল যা ওসমানের পিতা আরতুগ্রুলের জীবনকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছিল। এই সিরিজে, ওসমানের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন তুর্কি অভিনেতা বুরাক অ্যাজিভিট।

 

পটভূমি:

 

টিভি শোতে ওসমানের অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক সংগ্রাম এবং তিনি কীভাবে উসমানীয় রাজত্ব প্রতিষ্ঠা ও নিয়ন্ত্রণ করেন তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এটি বাইজান্টিয়াম এবং মঙ্গোলদের বিরুদ্ধে তাঁর সংগ্রাম এবং কীভাবে তিনি বাইজেন্টাইন এবং মঙ্গোল সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে এবং তুর্কিদের সম্মান জানাতে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য রুমের স্বাধীনতা সুলতানি ঘোষণা করতে সক্ষম হয়েছিল তা চিত্রিত করে।

 

এই টিভি শো’টি ওরগুজ তুর্কী সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতার ব্যক্তিগত জীবন এবং সুলতান প্রতিষ্ঠার তাদের ইতিহাস শুরুর দিকে অন্তর্দৃষ্টি দেয়। ওসমানের চরিত্রটি তার সন্ধানে অনেক শত্রু এবং বিশ্বাসঘাতকদের মুখোমুখি হয়েছিল এবং শোতে চিত্রিত হয় যে কীভাবে তিনি এই বাধাগুলি কাটিয়ে উঠতে পেরেছিলেন এবং তাঁর অনুগত সহচর, পরিবার এবং বন্ধুদের সহায়তায় তাঁর মিশনটি সম্পাদন করতে পেরেছিলেন।

 

ছবির গল্প:

 

সামরিক বিজয় উসমানে জীবনি নিয়ে লেখা |১২৯৯ সালের ১৭ জানুয়ারি উসমান রুম সালতানাত থেকে তার ক্ষুদ্র রাজ্যের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং কায়ি গোত্রের খান উপাধি ধারণ করেন। সেলজুকদের ভাঙনের পর আনাতোলিয়ায় উদ্ভূত ক্ষুদ্র তুর্কি রাজ্যসমূহের মধ্যে উসমানীয় রাজ্য অন্যতম ছিল। এসকল রাজ্যের মধ্যে উসমানীয়রা অবশেষে আনাতোলিয়াকে তুর্কি শাসনের অধীনে ঐক্যবদ্ধ করে।

পিতার মৃত্যুর পর উসমান প্রধান বা বে হন। এই সময় নাগাদ দুর্বল হয়ে পড়া বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য সমগ্র ইসলামি জগত থেকে সৈনিকরা তার শাসনাধীন অঞ্চলে এসে জড়ো হয়। এছাড়াও মোঙ্গলদের হাত থেকে বাঁচার জন্য অসংখ্য উদ্বাস্তু উসমানের আমিরাতে এসে আশ্রয় নেয়। তাদের মধ্যে অনেক গাজি ছিল। উসমানের দক্ষ নেতৃত্বে এই যোদ্ধারা দ্রুত কার্যকর বাহিনী হিসেবে গড়ে উঠে এবং এর ফলে সাম্রাজ্যের ভিত্তি স্থাপিত হয়।

 

উসমান বাইজেন্টাইনদের দিকে সীমানা বৃদ্ধি এবং তার তুর্কি প্রতিবেশিদের সাথে সংঘর্ষ এড়িয়ে চলার কৌশল গ্রহণ করেন। উত্তর ফ্রিজিয়ার অনুর্ব‌র এলাকা থেকে বিথিনিয়ার উর্বর সমভূমির দিকে যাওয়া গিরিপথের মধ্য দিয়ে তিনি প্রথমে অগ্রসর হন। স্ট্যানফোর্ড শর মতে এসকল বিজয় স্থানীয় বাইজেন্টাইন অভিজাত ব্যক্তিবর্গে‌র বিরুদ্ধে সংঘটিত হয়, তাদের মধ্যে কিছু যুদ্ধে পরাজিত হন এবং অন্যান্যরা বিভিন্ন চুক্তির মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে অধীনস্ত করা হয়।

 

অভিনয়: প্রধান চরিত্রসমূহ

 

বুরাক অ্যাজিভিট – ওসমান বে; আরতুগ্রুল গাজী এবং হালিমা হাতুন এর ছোট ছেলে।

ওজগে টোরের – রাবিয়া বালা হাতুন।বালা হাতুন; শেখ এদেবালির কন্যা। উসমান গাজীর প্রথম স্ত্রী।

রাগিপ সাভাস – দুন্দার বে; আরতুগ্রুল গাজীর ছোট ভাই, ওসমান বের চাচা।

এমরে বাসালাক – গুন্দুজ বে; আরতুগ্রুল গাজীর বড় ছেলে ও উসমানের বড় ভাই।

নুরেটিন সানমেজ – বামাসে বেয়েরেক।বামসী বেইম; আরতুগ্রুল গাজীর সহচর ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু, বর্তমানে বসতির একজন বে। উসমানকে আইবার্সের খুনিদের খুঁজে পেতে সহায়তা করে।

ইগিত উজান – বোরান আল্প; উসমান বে-র অন্যতম ঘনিষ্ঠ আল্প।

এরেন ভুরডেম – কোনুর আল্প; উসমান বে-র অন্যতম বিশ্বস্ত বন্ধু।

ইসমাইল হাক্কি উরুন – সামসা বে। সামশা চাভুস; প্রবীণ, নির্মম সৈনিক যিনি বিভিন্ন সময়ে উসমান বে-কে সহায়তা করেন।

বুরাক চেলিক– গোকতু আল্প; কোনুর আল্পের ছোট ভাই। প্রথমদিকে মোঙ্গল কমান্ডার ছিলো। পরবর্তীতে উসমান বে-ষ্ঠ আল্প হয়ে যায়।

 

সিজন-২ এ আগত নতুন চরিত্রসমূহ:

 

তামের ইগিত – আরতুগ্রুল গাজী। কায়ি বসতি এবং সোগুতের প্রধান। গুন্দোজ, সাভচি, উসমানের বাবা। দুন্দার বে-র বড় ভাই।

কানবোলাত গোরকেম আরসালান – সাভচি বে। গুন্দোজ ও উসমানের ভাই। আরতুগ্রুল গাজীর মেজ ছেলে। বসতির বীমের পদ নিয়ে উসমানের সাথে দ্বন্দ থাকলেও পরে তা সমাধান হয়ে যায়।

সেরায় কায়া – লেনা হাতুন। সাভচি বের স্ত্রী এবং বায়হোজার মা।

ইয়াজিজকান দিকমেন – বায়হোজা। সাভচি বের ছেলে। এরিমানিবেলির যুদ্ধে তীরবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন।

এরকান আভচি – টেকফুর আয়া নিকোলা। ইনেগোল দুর্গের প্রধান টেকফুর।

 

সফল পরিচালক ও প্রযোজক :

 

মেহমেদ বোজদাগ ( জন্ম ১ জানুয়ারি, ১৯৮৩ কায়সারিতে) একজন তুর্কি চিত্রনাট্যকার, প্রযোজক এবং পরিচালক। তিনি ঐতিহাসিক চলচ্চিত্র দিরিলিস আরতুগ্রুল ও কুরুলুস ওসমান ধারাবাহিকের প্রযোজক ছিলেন।তিনি বর্তমানে টিভি সিরিজ কুরুলুস ওসমান লিখছেন এবং প্রযোজনা করছেন।

 

তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া,অবহেলাজীবন,রোয়ারমিডিয়া,