ঈদের দিনের সুন্নাহসম্মত আমল

ঈদের দিনের সুন্নাহসম্মত আমল

১. ঈদের দিন গোসল করা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অর্জন করা ও সুগন্ধি ব্যবহার করা ঈদের দিন গোসল করার মাধ্যমে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অর্জন করা মুস্তাহাব। কারণ এ দিনে সকল মানুষ নামায আদায়ের জন্য মিলিত হয়। ইবনে উমর রা. থেকে বিশুদ্ধ সূত্রে বর্ণিত, তিনি ঈদুল-ফিতরের দিনে ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বে গোসল করতেন। (মুআত্তা ইমাম মালেক ১/১৭৭)

 

সায়ীদ ইবনে মুসাইয়াব রহ. বলেন, ঈদুল ফিতরের সুন্নত তিনটি :

১। ঈদগাহে পায়ে হেঁটে যাওয়া

২। ঈদগাহের দিকে যাত্রা করার পূর্বে কিছু আহার করা

৩। গোসল করা। (ইরওয়াউল গালীল ৩/১০৭)

তদ্রূপ সুগন্ধি ব্যবহার করা ও উত্তম পোশাক পরিধান করাও মুস্তাহাব।

ইবনে উমর রা. থেকে বিশুদ্ধ সনদে বর্ণিত,তিনি দু’ঈদের দিনে সর্বোত্তম পোশাক পরিধান করতেন। (ফাতহুলবারী ২/৫১০)

ইমাম মালেক রহ. বলেন, আমি উলামায়ে কেরামের কাছ থেকে শুনেছি, তারা প্রত্যেক ঈদে সুগন্ধি ব্যবহার ও সাজসজ্জাকে মুস্তাহাব বলেছেন। (আলমুগনী লিইবনে কুদামা ঈদ অধ্যায় ফাতহুলবারী ২/৫১০)

২. ঈদের দিনে খাবার গ্রহণ প্রসঙ্গ

সুন্নত হলো ঈদুল ফিতরের দিনে ঈদের নামায আদায়ের পূর্বে খাবার গ্রহণ করা। আর ঈদুল আজহা-তে সুন্নাত হলো ঈদের নামাযের পূর্বে কিছু না খেয়ে নামায আদায়ের পর কোরবানির গোশত দ্বারা আহার গ্রহণ করা।

বুরাইদা রা. থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতরের দিনে কিছু না খেয়ে বের হতেন না। আর ঈদুল আজহার দিনে ঈদের নামাযের পূর্বে কিছু খেতেন না। নামায থেকে ফিরে এসে কোরবানির গোশত দ্বারা আহার গ্রহণ করতেন। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ১৪২২)

৩. পায়ে হেঁটে ঈদগাহে যাওয়া

আগে আগে ঈদগাহে উপস্থিত হওয়া উত্তম। যাতে ইমাম সাহেবের নিকটবর্তী স্থানে বসা যায় ও ভালো কাজ দ্রুত করার সওয়াব অর্জন করা যায় এবং নামাযের অপেক্ষায় থাকার সওয়াব লাভ করা যায়।

আলী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সুন্নত হলো ঈদগাহে পায়ে হেঁটে যাওয়া। (সুনানুত তিরমিযী হাদীস নং ৪৩৭, বাদাইউস সানায়ে’ ১/৬২৫)

৪। ঈদগাহের যাতায়াত পথ পরিবর্তন করা

সুন্নত হলো যে পথে ঈদগাহে যাবে সে পথে না ফিরে অন্য পথে ফিরে আসা।

জাবের রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের দিনে যাতায়াতের পথ পরিবর্তন করতেন। (সহীহ বুখারী, হাদীস ৯৮৬)

৫. ঈদের তাকবীর আদায়

ঈদগাহে যাওয়ার পথে তাকবীর পাঠ করা মুস্তাহাব।

পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে,

হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতরের দিন ঘর থেকে বের হয়ে ঈদগাহে পৌঁছা পর্যন্ত তাকবীর পাঠ করতেন। ঈদের নামায শেষ হওয়া পর্যন্ত তাকবীর পাঠ করতেন। যখন নামায শেষ হয়ে যেত তখন আর তাকবীর পাঠ করতেন না। (সুনানে দারা কুতনী ২/৩৪)

অন্য বর্ণনায় এসেছে, ইবনে উমর রা. ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিনে ঈদগাহে আসা পর্যন্ত উচ্চস্বরে তাকবীর পাঠ করতেন। ঈদগাহে এসে ইমামের আগমন পর্যন্ত এভাবে তাকবীর পাঠ করতেন। (সুনানে দারাকুতনী ২/৩৩; আসসুনানুল কুবরা লিলবাইহাকী ৩/২৭৯)

ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ রহ. বলেন, ঈদুল ফিতরের সময় সশব্দে তাকবীর পাঠ করা উত্তম। ইবনে উমর রা., আলী রা., আবু উমামা রহ.সহ বহু সাহাবা তাবিয়ী রা. ঈদুল ফিতরের সময়ও সশব্দে তাকবীর পাঠ করতেন। (গুনয়াতুল মুতামাল্লী ৫৬৭, হাশিয়াতু তাহতাবী আলাদ্দুর ১/৩৫৩, বাদায়িউস সানায়ি’ ১৬২৫)