মহাসাগরের বিস্ময়কর ১১ টি রহস্য

মহাসাগরের বিস্ময়কর রহস্য সম্পর্কে জানতে চান? পৃথিবীর ভূভাগের তিনভাগের দুই ভাগই পানি। আবার এই পানির প্রায় ৯৮% পানি রয়েছে সমুদ্রে।

তো আমাদের পৃথিবী সম্পর্কে পুরোপুরি জানতে হলে আমাদের মহাসাগর গুলো সম্পর্কে জানতে হবে। আমাদের মহাসাগরগুলোর এখনো অনেক বিষয় বিজ্ঞানীদের কাছে রহস্যময়।

মহাসাগর অতল গহবরে লুকিয়ে আছে বিস্ময়কর সব রহস্য। ইনফো হকারের আজকের আয়োজনে সাজানো হয়েছে মহাসাগরের বিস্ময়কর ১১টি রহস্য নিয়ে।

যদিও বিজ্ঞানের অগ্রগতির সাথে সাথে আমরা সমুদ্রবিজ্ঞানে অনেকদূর এগিয়েছি। তবুও এখনও অনেক বিষয় রয়েছে যার রহস্যের পর্দা আজও উন্মোচিত হয়নি।

আজকের আর্টিকেলে আপনাদের নিয়ে যাব সমুদ্রের গহীন তলে। চলুন জেনে নেওয়া যাক মহাসাগরের বিস্ময়কর ১১টি রহস্য।

 

১। সমুদ্রের তল কোথায় রয়েছে

 

ভূপৃষ্ঠের ৭০% যেহেতু সমুদ্রের অন্তর্গত। তাই ভূপৃষ্ঠের ৭০% পৃষ্ঠ সমুদ্রের নিচে অবস্থিত। এবং এই পৃষ্ঠের অনেকটাই মানুষের চোখের বাইরে রয়ে গেছে।

ইতিমধ্যে আমরা যদিও সৌরজগতের বিভিন্ন জায়গায় আমাদের গবেষনা চালিয়েছি। তবে সেই তুলনায় সমুদ্রের বিষয় নিয়ে গবেষণার পরিমাণ অনেক কম।

 

আমরা সমুদ্রের বিভিন্ন স্থানের গভীরতা মাপতে সক্ষম হলেও সেখানে এখনো পৌঁছাতে পারিনি। তাই এখনও আমাদের কাছে সমুদ্রের তল অজানাই রয়ে গেছে।

সমুদ্রের তল আমাদের কাছে বিস্ময়কর একটি রহস্য।

 

২। দুধের সমুদ্র

 

না আপনাদের রূপকথার কোন গল্প শোনাতে বসিনি। কয়েক শত বছর ধরে সমুদ্রের বিভিন্ন নাবিকেরা দুধের ন্যায় সাদা সমুদ্রের কথা উল্লেখ করেছে। যদিও তাদের সকল তথ্য পুরোপুরিভাবে গোছানো নয়।

তবে এলোমেলো হলেও এ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দেশের নাবিকেরা রিপোর্ট করেছেন। তবে বিজ্ঞানীরা এই বিষয়ে এখনো তেমন কোনো আলোকপাত করতে পারেননি।

তাদের কাছে পুরো বিষয়টিই রহস্যময়। তবে তারা কোন বিষয়টি যে সত্য তা উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছেন। ২০০৬ সালে গবেষকদের একটি দল উপগ্রহের সাহায্যে দুধের সমুদ্রের একটি ছবি তুলতে পেরেছিলেন।

এরপরে বিজ্ঞানীরা এই বিষয়টি নিয়ে বেশ ভালোভাবে গবেষণা শুরু করে। তারা ধারণা করেন যে এই দুধের ন্যায় সাদা আভা একটি ব্যাকটেরিয়া থেকে পাওয়া যায়।

পরবর্তীতে তারা পরীক্ষা করে বিষয়টি নিশ্চিত হন। ব্যাকটেরিয়া টি নাম হচ্ছে বায়োলামিসেন্ট।

কিন্তু বিজ্ঞানীদের কাছে আরেকটি বিষয় রহস্য থেকেই গেছে। সেই বিষয়টি হলো কেন এত ব্যাকটেরিয়া এখানে একত্রিত হয়।

 

৩। বেগুনি রংয়ের অরব

 

ওসিয়ান এক্সপ্লোরেশন ট্রাস্টের গবেষকরা ২০১৬ সালে সমুদ্রের নিচে একটি গবেষণা কার্যকরী চালনা করছিলেন। তাদের এক্সপ্লোরেশন জাহাজের নাম ছিল নটিলাস।

তারা নটিলাসে করে ক্যালিফোর্নিয়ার সমুদ্র তলদেশ পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। হঠাৎ তাদের চোখ একটি বেগুনি রঙের অরব দিকে আটকে যায়।

তারা অবাক বিস্ময় এই বেগুনি রঙের বস্তুর দিকে তাকিয়ে থাকেন। প্রাথমিক অবস্থায় তারা এটিকে মাকড়সার ডিমের থোলি বা ক্ষুদ্র আকৃতির অক্টোপাস বলে নিজেরা নিজেদের মধ্যে তামাশা করেন।

পরবর্তীতে তারা এর একটি নমুনা সংগ্রহ করেন। তারা এখনও নিশ্চিত নয় এই জীবটি কিসের প্রজাতি। এই জীব নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে এখনো রয়ে গেছে।

 

৪। বাল্টিক সাগরে এলিয়েনের স্পেসশিপ?

 

আমরা তো মহাকাশে অনেক জায়গায় এলিয়েনদের খুঁজলাম। পাওয়া গেল না। তবে কি সমুদ্রের তলায় তারা তাদের ঘাটি করতে পারে?

২০১১ সালে সমুদ্র অনুসন্ধানকারী দের একটি দল বাল্টিক সাগরের নিচে অদ্ভুত চিহ্নযুক্ত ডিম্বাকৃতির একটি বস্তু খুঁজে পায়।

পরবর্তীতে এই বিষয়টি নিয়ে হইচই পড়ে যায়। অনেকই এটিকে এলিয়েনদের স্পেসশিপ বলে ধারণা করেন।

বিজ্ঞানীরা অবশ্য তাদের সাথে একমত নয়। তাদের ধারণা এই অদ্ভুত গঠনটি মূলত হিমবাহ দ্বারা সৃষ্টি।

অথবা খেয়ালী প্রকৃতি আপন-মনে সাজিয়েছে সাগরের তলদেশকে। তবে এটি আসলে কি? এবং কি থেকে সৃষ্টি এখনো বিজ্ঞানীদের কাছে রহস্য।

 

৫। বিশালাকৃতির স্কুইড

 

আপনি কি পাইরেটস অফ দ্য ক্যারাবিয়ান দেখেছেন? তাহলে নিশ্চয়ই সমুদ্রের দানব ক্রাকেন সম্পর্কে জানেন।

অথবা আপনি যদি জুল ভার্নের লেখা ২০০০ লীগ আন্ডার দা সি পড়ে থাকেন তাহলেও বিশালাকৃতির এই দানব সম্পর্কে আপনার ধারণা রয়েছে।

 

বেশ কয়েকটি সমুদ্রে ডুবে যাওয়া জাহাজের বেঁচে যাওয়া নাবিকেরা বলেছেন যে বিশালাকৃতির স্কুইড তাদের জাহাজ আক্রমণ করে ডুবিয়ে দিয়েছে। তবে বিজ্ঞানীরা এ তথ্য মানতে নারাজ।

তবে গভীর সমুদ্রের অনেক প্রাণী সম্পর্কে আমাদের কোনো ধারণা নেই। পরবর্তীতে ২০০৪ সালে বিজ্ঞানীরা জায়ান্ট স্কুইডের ছবি তুলতে সক্ষম হন।

তবে এরা গভীর সমুদ্রের প্রাণী হওয়ায় এদের জীবনযাপন প্রণালী সম্পর্কে জানা যায়নি। বিজ্ঞানীরা ধারণা করেন যে এরা আকৃতিতে প্রায় ৬৬-৭০ ফুট পর্যন্ত হতে পারে। এটিও একটি রহস্যময় প্রাণী।

 

৬। সর্ব বৃহত্তম জলপ্রপাত

 

আপনাকে যদি প্রশ্ন করা হয় পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ানক বৃহৎ জলপ্রপাত এর নাম কি? কি উত্তর দিবেন আপনি? নিশ্চয়ই আপনার মনে নায়াগ্রা জলপ্রপাতের কথা মাথায় আসবে।

তবে বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন যে গভীর সমুদ্রের তলদেশে একটি বিশাল জলপ্রপাত রয়েছে। যা পৃথিবীর সবচেয়ে বৃহত্তম জলপ্রপাত এর চেয়েও প্রায় ৪ গুন বড়।

চিন্তা করা যায় বিশাল জলপ্রপাত রয়েছে সমুদ্রের তলে। তবে বিজ্ঞানীদের কাছে রহস্যের বিষয় হলো সমুদ্রের তলে কিভাবে জলপ্রপাতের অস্তিত্ব বিদ্যমান। এর উত্তর তারা আজও জানতে পারেননি।

 

৭। অদ্ভুত সুন্দর শব্দ সৃষ্টিকারী প্রাণী

 

১৯৯৭ সালে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে অদ্ভুত সুন্দর একটি শব্দ শুনতে পাওয়া যায়। ওই সময় সমুদ্রে পরিভ্রমণকারী জাহাজের বেশ কয়েকজন লোক শব্দটি রেকর্ড করে রাখে।

পরবর্তীতে বিজ্ঞানীদের কাছে এই শব্দটি হস্তান্তর করা হয়। তারা শব্দটি শুনে অবাক হয়ে যায়। তারা নিশ্চিত করেন যে এটি মানুষের তৈরি কোন ইঞ্জিনের শব্দ নয়। শব্দটি বেশ জোরে এবং কম ফ্রিকুয়েন্সিতে শোনা যাচ্ছিল।

এবং শব্দটির মধ্যে অদ্ভুত সুন্দর একটি প্যাটান ছিল। বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন হয়তো গভীর সমুদ্রের অনাবিষ্কৃত কোন প্রাণী। এখনো পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা এই শব্দের রহস্য ভেদ করতে পারেননি।

 

৮। বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল

 

বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল নিয়ে বিস্তারিত কথা বলা সবচেয়ে বড় বোকামি হবে। কারণ এই বিষয়টি রহস্যময় হলেও ছোট বড় সবাই কমবেশি এই বিষয়ে জানে।

তবে দীর্ঘদিন পর্যন্ত এই জায়গায় অনেক জাহাজ এমনকি আকাশের চলাচলকারি বিমানও পর্যন্ত নিখোঁজ হয়ে গেছে।

বিজ্ঞানীরা এখনো এই জায়গায় জাহাজ ও বিমানের নিখোঁজ হওয়ার রহস্য ভেদ করতে পারেননি। এটি এখনও একটি রহস্যময় অঞ্চল।

 

৯। মারিয়ানা ট্রেঞ্চ

 

মারিয়ানা ট্রেঞ্চ পৃথিবীর সবচেয়ে গভীরতম স্থান। এটির গভীরতা হিমালয় পর্বত এর চেয়েও বিশাল। এই স্থানের গভীরতা এত বেশি থাকায় এখানকার প্রাণ নিয়ে বিজ্ঞানীদের রহস্যের শেষ নেই।

তারা এখনো জানেন না এখানে কোন ধরনের প্রাণী বাস করে। এর তলদেশ সম্পূর্ণ অন্ধকারাচ্ছন্ন। সূর্যের আলো এই গভীরতার প্রবেশ করতে পারে না।

 

১০। দৈত্যাকৃতির ওরাফিশ

 

ওরাফিশ দেখতে সাপের আকৃতির। এরা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় হাড়যুক্ত  মাছ। এরা লম্বায় প্রায় ৫৫-৬০ ফুট পর্যন্ত হতে পারে। এবং এদের ওজন প্রায় ৬০০-৬২০ পাউন্ডের মত।

এরা সমুদ্রের গভীরতম দেশে বাস করে। এরা সমুদ্রের প্রায় ৩৩০০-৩৪০০ ফুট গভীরে বাস করে। এই গভীরতার প্রাণী সম্পর্কে আমাদের খুব বেশি ধারণা নেই।

তবে ২০১৩ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার সি বিচে দুটি মরা মাছ খুঁজে পান বিজ্ঞানীরা। সেই থেকেই মাস সম্পর্কে আমাদের ধারণা সৃষ্টি হয়।

বিজ্ঞানীরা এখনো এর প্রজাতি সম্পর্কে কিছুই জানেন না। এর কোন  উপপ্রজাতি আছে কিনা তাও জানা নেই।

 

 

১১। ইয়নাগমি মনুমেন্ট

 

আপনাদের কোন স্মৃতিস্তম্ভের কথা বলতে যাচ্ছি না যা মানুষ বানিয়েছে। এখন আপনাদের এমন এক অদ্ভুত গঠনের কথা বলব যা শুনে হয়তো আপনি অবাক হয়ে যাবেন। জাপানের উপকূলে জলের তলায় রয়েছে অদ্ভুত কাঠামো।

যা জাপানের আটলান্টিস নামে পরিচিত। আপনি এটাকে দেখলে মনে করবেন সমুদ্রের তলায় কোনো শিল্পী যেন তার আপন মনের মাধুরী মিশিয়ে একটি স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করেছ।

কিন্তু বিজ্ঞানীদের কাছে এখনো রহস্য এটি কিভাবে তৈরি হলো।