যেসব কারনে ছোট ব্যবসা ব্যর্থ হয়

সম্প্রতি ফোর্বস ব্যবসা সম্পর্কিত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যেখানে বলা হয়েছে, প্রতি ১০টি ছোট ব্যবসার মধ্যে ৭ টি ব্যবসাই আট থেকে দশ মাসে প্রায় ব্যর্থ হয়।

তাই যে কোন ছোট ব্যবসা শুরু করার পূর্বে কি কি কারণে ব্যবসাগুলো ব্যর্থ হয় সে সম্পর্কে জানতে হবে। এখানে আমরা সাধারণত যে কারণে ছোট ব্যবসা ব্যর্থ হয় এবং যেভাবে ব্যর্থতা এড়ানো যেতে পারে এমন কয়েকটি উপায় নিয়ে আলোচনা করবো।

 

নেতৃত্ব দিতে ব্যর্থ হওয়া

 

একজন উদ্যোক্তার মধ্যে যতগুলো গুণাবলী থাকে তার মধ্যে নেতৃত্ব দেওয়ার দক্ষতা অন্যতম। আপনি যদি সঠিক ভাবে ব্যবসাটি নেতৃত্ব দিতে না পারেন তাহলে ব্যবসাটি ব্যর্থ হবে।

একজন উদ্যোক্তা হিসাবে আপনার মধ্যে নেতৃত্ব দেওয়ার দক্ষতা থাকতে হবে। নেতৃত্ব এবং ব্যবসা পরিচালন ক্ষমতা এই দুইটি বিষয় একটি আরেকটির সাথে ওতপ্রোতভাবে ভাবে জড়িত।

নেতৃত্বের ব্যর্থতা এড়ানোর উপায়

আপনার ব্যবসার অকার্যকর নেতৃত্ব টাকা পয়সা পরিচালনা থেকে শুরু করে কর্মীদের মনোবল পর্যন্ত প্রভাবিত করতে পারে।

পাশাপাশি উৎপাদন কার্যক্রমকে ব্যহত করে ব্যর্থতার সম্ভাবনা প্রসারিত করে তুলতে পারে। তাই নেতৃত্বের ব্যর্থতাকে কাটাতে সর্বোচ্চ শ্রম এবং মেধা বিনিয়োগ করা দরকার।

 

এক্ষেত্রে আপনার উচিত হবে একজন পরামর্শদাতার পরামর্শ গ্রহন করা, প্রচুর পড়াশোনা করা এবং ব্যক্তিগত গবেষণা চালিয়ে যাওয়া।  

তাছাড়া ব্যবসা শুরু করার পূর্বে একজন সফল উদ্যোক্তা বা ব্যবসায়ীর সাথে কিছু দিন সময় দিলেও নেতৃত্বের অনেক বিষয় সম্পর্কে হাতে কলমে জানতে পারবেন।

নেতৃত্বের দক্ষতা আপনার মধ্যে হুট করেই চলে আসবে না, এটি একটি পক্রিয়া। এই দক্ষতা অর্জনের জন্য সব সময় নতুনত্বকে গ্রহন করার পাশাপাশি কমফোর্ট জোনের বাইরে থাকতে হবে।

 

 

ইউনিক না হওয়া এবং গুণগত মানের অভাব

 

ব্যবসায় সফল হতে হলে অবশ্যই পণ্য বা সেবার মানের সাথে আপোস করা যাবে না। অর্থাৎ আপনাকে অবশ্যই গুণগত মান সম্পন্ন পণ্য বা সেবা প্রদান করতে হবে। তাছাড়া বর্তমানে অনেক ব্যবসা ইউনিক না হওয়ার কারণেও ব্যর্থ হচ্ছে।

READ MORE:  যেসব সাধারণ ভুলে আপনি শেয়ার বাজারে ক্ষতির সম্মখীন হবেনই

অর্থাৎ আপনাকে সম্পূর্ণ নতুন একটি পণ্য বা সেবা নিয়ে বাজারে আসতে হবে। সম্পূর্ণ নতুন একটি পণ্য বা সেবা না আনতে পারলে ঐ একই জিনিসকে ভিন্ন ভাবে গ্রাহকদের কাছে উপস্থাপন করতে হবে।

এই অবস্থায় আপনার প্রতিযোগীদের নিয়ে কাজ করতে হবে। তারা সে সকল সুযোগ সুবিধা তাদের গ্রাহকদেরকে দিচ্ছে আপনাকেও সেই সকল সুযোগ সুবিধা গ্রাহকদেরকে দিতে হবে। এছাড়া তারা যে সকল সুযোগ সুবিধা গ্রাহকদেরকে দিতে ব্যর্থ হচ্ছে সেখানে আপনাকে সফল হতে হবে।

বাজার প্রতিযোগীদের চেয়ে কিভাবে আপনার পণ্য বা সেবাটি উন্নত ও সহজতর করা যায় তা চিন্তা করুন। নিজের মেধাকে কাজে লাগান। আপনার নিজের মনোযোগ ও আগ্রহ আছে এমন কিছু নিয়ে ব্যবসা শুরু করার পরিকল্পনা করতে পারেন।

আপনার ব্যবসার নাম পছন্দ করে সে অনুপাতে একটি ব্র্যান্ড তৈরি করার চেষ্টা করুন। সম্পূর্ণ আলাদা ও নান্দনিক একটি লোগো ডিজাইন করে সে ব্র্যান্ডের জন্য ব্যবহার করুন। এটি আপনার ব্যবসাটিকে সম্পূর্ণ ইউনিক ভাবে গ্রাহকদের কাছে উপস্থাপন করবে।

 

গ্রাহকদের প্রয়োজন বুঝতে না পারা

গ্রাহকদের প্রয়োজনীয়তাকে প্রাধান্য না দিয়ে নিজের ইচ্ছা মতো কোন একটি পণ্য বা সেবা নিয়ে হাজির হলে সে ব্যবসাটি কিছুতেই সফলতার মুখ দেখবে না।

তাই তাদের প্রয়োজনীয়তা ও প্রতিক্রিয়া অনুধাবন করে বাজার প্রতিযোগীতায় নিজেকে সামিল করতে হবে।

 

গ্রাহকদের প্রয়োজন অনুযায়ী বাজার প্রতিযোগীতায় হাজির হওয়ার উপায়

 

আপনি যে পণ্য বা পরিসেবাটি নিয়ে ব্যবসা শুরু করতে চাইছেন সে পণ্য বা সেবার চাহিদা কি পরিমাণ তা যাচাই করুন।

পাশাপাশি বাজার প্রতিযোগীদের কোন কোন বৈশিষ্ট্যের কারণে গ্রাহকরা তাদের পণ্য বা সেবাটি গ্রহণ করতে চাইছে না তা খুজেঁ বেন করুন এবং সে বৈশিষ্ট্যটি অবশ্যই পরিবর্তন করুন।

গ্রাহকদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করে তাদের চাহিদা ও আগ্রহ সম্পর্কে জানার চেষ্টা করুন এবং সে অনুযায়ী পণ্য বা সেবাটি প্রদান করুন। আর এজন্য বাজার গবেষণা ও গ্রাহকদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের কোন বিকল্প নাই।

READ MORE:  যেভাবে খুঁজে বের করবেন আপনার আদর্শ বিজনেস আইডিয়া

 

অলাভজনক ব্যবসার মডেল

 

সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ব্যতীত কিছুতেই কোন ব্যবসা সফল হতে পারে না। তই ব্যবসা শুরু করার পূর্বে একটি কেীশলগত মডেল বা পরিকল্পনা তৈরি করা জরুরী।

 

লাভজনক মডেল তৈরি করার উপায়

 

আপনি যে সেক্টরে ব্যবসা শুরু করতে চাইছেন সে সেক্টরের অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে পর্যালোচনা ও গবেষণা করুন। সম্ভাব্য সকল বাধা ও প্রতিদ্বন্দ্বীতা তৈরি করতে পারে এমন কার্যকলাপগুলো নিয়েও গবেষণা করুন।

পাশাপাশি এই সব বাধা ও প্রতিদ্বন্দ্বীতা কিভাবে কাটানো যাবে সে সম্পর্কে কর্মপরিকল্পনা ঠিক করুন। তাছাড়া কৌশলগত বিপণন পরিকল্পনাও গ্রহণ করুন।

 

দুর্বল আর্থিক ব্যবস্থাপনা

 

ব্যবসায় বিনিয়োগকৃত অর্থ কোথায় কিভাবে খরচ করতে হবে এবং কিভাবে মুনাফা অর্জন করতে হবে সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানা না থাকলে ব্যবসায় বিনিয়োগকৃত অর্থ হারাতে হবে। তাছাড়া আর্থিক সংকট দেখা দিলে সংকট মোকাবেলায় অগ্রিম জরুরী অর্থায়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

 

আর্থিক ব্যবস্থাপনা মজবুদ করার উপায়

আর্থিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত ভুলগুলো এড়াতে কোন একটি অ্যাকাউন্টিং সফটওয়্যার ব্যবহার করা যেতে পারে। এই সকল সফটওয়্যারের মাধ্যমে সহজেই সকল আর্থিক লেনদেনের রেকর্ড রাখা যায় এবং লাভ ক্ষতির বিবরণী তৈরি করা যায়।