সহিহ্ নিয়মে বিতর নামাজ

 আরবিতে যাকে বলা হয় (الوتر)। বাংলাতে বলা হয় বিতর। বিতর অর্থ হলো বিজোড়। বিতর নামাজ তিন রাকাত বিশিষ্ট হওয়ায় এ নামাজকে বিতর বা الوتر বলা হয়।

 

বিতর বা বেতের নামাজের নিয়ত আরবিতে

 

تويت أن أصلى لله تعالى ثلاث ركعات صلوة الوتر واجب الله تعالی متوجها إلى جهة الكعبة الشريفة الله اكبر

 

বাংলা উচ্চারণ : নাওয়াইতু আন উছাল্লিয়া লিল্লাহি তাআলা ছালাছা রাকাআতি ছলাতিল বিতরি ওয়াজিবুল্লাহি তাআলা মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারীফাতি আল্লাহু আকবার।

 

অনুবাদ: কা’বা শরীফমুখী হয়ে আল্লাহর ওয়াস্তে তিন রাকাত বিতরের ওয়াজিব নামায পড়তে নিয়ত করলাম । আল্লাহ আকবার।

আরো দেখুন: তারাবির নামাজ পড়ার নিয়ম

 

বিতর নামাজ / বেতের নামাজের নিয়ম

১. বিতর নামাজ মোট ৩ রাকাত। প্রথম ২ রাকাতে সুরা ফাতিহার সাথে যেকোন সুরা মিলাতে হবে।

 

২. প্রথম ২ রাকাত শেষে বসে তাশাহুদ পড়ে আবার দাড়াতে হবে।

 

৩. তৃতীয় রাকাতে দাড়িয়ে সুরা ফাতিহা পড়ার পর যেকোন সুরা মিলাতে হবে। তারপর আল্লাহু আকবার বলে কানের লতি পর্যন্ত হাত উঠাবে। পুনরায় হাত বাধতে হবে।

 

৪. হাত বাধার পর দোয়া কুনুত পড়তে হবে। দোয়া কুনুত পড়ার পর রুকু ও সিজদা করে বসে তাশাহুদ,  দরুদ শরীফ ও দোয়ায়ে মাছুরা পড়ে সলাম ফিরাবে।

 

 

বিতর / বেতের নামাজের ইতিহাস

বর্ণিত আছে,  রাসুল সাঃ যখন মিরাজে গমন করলেন। তখন ষষ্ঠ আসমানে হযরত মুসা আঃ এর সাথে দেখা হয়। হযরত মুসা আঃ হযরত মুহাম্মদ সাঃ কে বললেন,  আপনি যখন সিদরাতুলমুনতাহা পৌঁছে যাবেন। আমার জন্য ১ রাকাত নামাজ পড়বেন। তখন হযরত মুহাম্মদ সাঃ বললেন, হে মুসা আঃ ঠিক আছে।  আমি সিদরাতুলমুনতাহা গিয়ে আপনার জন্য ১ রাকাত নামাজ পড়বো। তারপর রাসুল সাঃ সিদরাতুলমুনতাহা গিয়ে হযরত মুসা আঃ এর সাথে ওয়াদা দেওয়ার কথা মনে পড়ে। তখন তিনি ১ রাকাত পড়ার পর আবার দাড়িয়ে আল্লহর জন্য ১ রাকাত পড়লেন। রাসুল সাঃ ২ রাকাত নামাজ পড়ার পর আবার দাড়িয়ে নিজের জন্য ১ রাকাত পড়তে গিয়ে রুকুতে যাওয়ার আগে তিনি আল্লাহু আকবার বা উল্টা তাকবির দিলেন। এ নামাজ আল্লাহর কাছে পছন্দ হয়। আর তাই আল্লাহ তায়ালা আমাদের জন্য বিতর /বেতের নামাজ ওয়াজিব করে দেন।