শীতকালে আমাদের ঠোঁট কেনও ফাটে? শীতকালে ঠোঁটের যত্নে করণীয় কি?

শীতকালে আমাদের সবারই ঠোঁট ফেটে চৌচির হয়ে যায়। সারা বছর তো ঠোঁট দিব্যি ভালো থাকে, কিন্তু শীত আসলেই ঠোঁট ফেটে একাকার হয়ে যায়। কিন্তু গরমকাল এবং বর্ষাকালে কিন্তু ঠোঁট ফাটে না। শুধু শীতকাল আসলেই ঠোঁট ফাটা শুরু হয়ে যায়। এই ঠোঁট ফেটে যাওয়ার ফলে আমাদের ঠোঁট জ্বলে, প্রদাহ হয়। অনেক সময় ঠোঁট এতটাই ফেটে যায় যে রক্ত বের হয়। শীতকাল আসার সাথে সাথেই আমাদের সবাইকে এই সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। কখনও কি ভেবে দেখেছি শীতের সময়ই  কেনও এমন হয়? শীতকাল আসলেই কেনও ঠোঁট ফাটে? শুধু ঠোঁটই কেনও ফাটে? শরীরের অন্যান্য অংশের চামড়া তো ফাটে না। শুধু ঠোঁটেরই চামড়া ফাটে। ঠোঁট ফাটার সাথে শীতকালের কি সম্পর্ক? চলুন জেনে আসার চেষ্টা করি এই ব্যাপারটি সম্বন্ধে। 

 

শীতকালে ঠোঁট ফাটার পিছনে শীতের বিশেষ আবহাওয়া দায়ী। শীতকালের বাতাস এবং গরমকালের বাতাসের মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। গরমকালের বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকে। এখন আর্দ্রতা কি? সহজ কথায় আর্দ্রতা বলতে আমরা বুঝি আমাদের চারপাশের বাতাস কতটুকু ভেজা অর্থাৎ বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ কতটুকু সেটা বুঝায়। গরমকালে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকে। অন্যদিকে শীতকালের বাতাস থাকে শুষ্ক। শীতকালে বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ কমে যায়। আমাদের শরীরের ত্বক ফাটার সাথে বাতাসের জলীয়বাষ্পের বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। বাতাসের জলীয়বাষ্পের পরিমাণ অর্থাৎ আর্দ্রতা কমে গেলে ঠোঁট ফেটে যায়। কারণ বাতাসে জলীয়বাষ্প কমে যাওয়ার ফলে ঠোঁট তখন শুষ্ক হয়ে থাকে। এর ফলে ঠোঁটের ত্বক শুকিয়ে ফেটে যায়। কিন্তু দেহের অন্যান্য অংশের ত্বক কেনও ফাটে না? কারণ হলো ঠোঁটের ত্বকে শরীরের অন্যান্য অংশের মতো তেল গ্রন্থি থাকে না। তেল গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত তেল আমাদের ত্বক আর্দ্র রাখে। কিন্তু ঠোঁটে কোনো তেল গ্রন্থি না থাকার কারণে শীতকালে ঠোঁট শুকিয়ে যায়। উপরন্তু ঠোঁটের ঠিক ওপরেই নাকের অবস্থান হওয়ার কারণে নাক থেকে বের হওয়া গরম বাতাস আমাদের ঠোঁটকে আরও শুকিয়ে দেয়। আর বাতাস তো শীতকালে শুষ্ক থাকেই। সবমিলিয়ে শীতকালে এসব কারণে আমাদের ঠোঁট ফেটে চৌচির হয়ে যায়। 

 

শীতকালে ঠোঁটের যত্ন 

 

শীতকালে ঠোঁটের বিশেষ যত্ন নিতে হবে। যেহেতু 

আর্দ্রতার অভাবে শীতে ঠোঁট ফেটে যায়, তাই শীতকালে প্রচুর পানি পান করতে হবে। ঠান্ডা বাতাস শুষ্ক হয়। ঠান্ডা বাতাস থেকে ঠোঁটের ত্বককে বাঁচাতে কোথাও বাইরে গেলে ঠোঁট কাপড় বা মাফলার দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করতে হবে ঠোঁটের ত্বকে। এতে করে ঠোঁট আদ্র থাকে। ঠোঁট ফাটার হাত থেকে রক্ষা পায়।