রসুনের বিস্ময়কর কিছু ওষুধি গুণ, যা জেনে অবাক হবেন।

“খাদ্যকে আপনার ঔষধ হতে দিন” বিখ্যাত এই উক্তিটি হিপোক্রেটাস নামক একজন গ্রিক দার্শনিকের যাকে পশ্চিমা চিকিৎসা শাস্ত্রের জনক হিসেবে বিবেচনা করা যায়। হিপোক্রটাস তার বেশিরভাগ রোগীকে চিকিৎসা করার সময় রসুন ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করতেন। হাজার বছর ধরেই রসুন মানব সভ্যতায় একটি খাবার এর পাশাপাশি ওষুধ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বর্তমান মেডিকেল সায়েন্স গবেষণা করে রসুন অসাধারণ সব পুষ্টিগুণ ও ওষুধি গুণের খোঁজ পেয়েছে। চলুন রসুনের কিছু বিষ্ময়কর পুষ্টিগুণ ও ওষুধি গুণের কথা জেনে আসি।

 

রসুন খুবই পুষ্টিকর। রসুনে মানব দেহের জন্য প্রয়োজনীয় অতি জরুরি কিছু পুষ্টি উপাদান রয়েছে। আমাদের দেহে ভিটামিন বি৬, ম্যাঙ্গানিজ, ভিটামিন সি, সেলেনিয়াম, ফাইবার ইত্যাদি পুষ্টি উপাদান খুবই দরকারী। আমরা যদি প্রতিদিন রসুনের মাত্র একটি কোয়া খাই তাহলে আমরা আমাদের এসব পুষ্টি উপাদানের দৈনন্দিন চাহিদার ২% ম্যাঙ্গানিজ, ২% ভিটামিন বি৬, ১% ভিটামিন সি, ০.২% প্রোটিন,১% সেলেনিয়াম ও ০.০০৬% ফাইবারের চাহিদা মেটাতে পারি৷ একটি রসুনের কোয়া থেকে আমরা ৪.৫ ক্যালরি শক্তি পাই। রসুনে প্রায় সব ধরনের পুষ্টি উপাদান সামান্য পরিমাণ হলেও বিদ্যমান আছে, যা আমাদের সুস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

 

রসুন আমাদের দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এক গবেষণায় দেখা গেছে জ্বর এর বিরুদ্ধে রসুন ওষুধের মতোই কার্যকরী। আর এই কার্যকারীতার মাত্রা প্রায় ৬৩%। রসুনের নির্যাস আমাদের সর্দি ভালো করতে অনেকটাই কার্যকর একটি ওষুধ হিসেবে কাজ করতে পারে। 

 

রসুনের ভেতর যে সব পুষ্টি উপাদান রয়েছে তা আমাদের রক্ত সংবহনতন্ত্র সুস্থ রাখে এবং হৃদরোগ প্রতিহত করে। রসুন উচ্চ রক্তচাপ কমায়। সম্প্রতি একটি গবেষণায় দেখা গেছে, বয়স্ক রসুনের ১৬০০ মিলি গ্রাম এর নির্যাস নিয়মিত গ্রহণ করার ফলে রক্তচাপ স্বাভাবিক পর্যায়ে নেমে এসেছে যা উচ্চরক্তচাপের ঔষধ এটেনলল এর মতোই অনেকাংশে  কার্যকর ছিল। 

 

রসুন আমাদের দেহে কোলেস্টেরলের স্বাভাবিক মাত্রা বজায় রাখে। যাদের দেহে উচ্চ কোলেস্টেরল আছে রসুন তাদের দেহে কোলেস্টেরল এর মাত্রা স্বাভাবিক পর্যায়ে নিয়ে আসতে পারে। রসুল কোলেস্টেরল কমায় এবং ব্লাড প্রেসার স্বাভাবিক রাখে। 

 

রসুনে রয়েছে এন্টি অক্সিডেন্ট। এন্টি অক্সিডেন্ট কোষের সুরক্ষা প্রদান করে। ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। শরীরে সহজে বার্ধক্য আসতে দেয় না এন্টি অক্সিডেন্ট। 

 

রসুনে রয়েছে সালফারের যৌগ। এই সালফারের যৌগগুলি ভারী ধাতুর বিষাক্ততা থেকে আমাদের অঙ্গ সমূহ রক্ষা করে। এক গবেষণায় দেখা যায় রসুন একজন ব্যাটারী কারখানা কর্মীর দেহ থেকে সীসার মাত্রা ২০% পর্যন্ত কমিয়েছে। 

 

রসুন আমাদের দেহের হাড় ও দাঁত এর গঠন মজবুত করে। রসুন হাড় ক্ষয় প্রতিরোধ করে। এছাড়াও যারা নিয়মিত রসুন খায় শরীর কেটে গেলে তাদের রক্ত তাড়াতাড়ি জমাট বাঁধে।

 

রসুনের মধ্যে পাওয়া যায় অর্গানো-সালফারের যৌগ যা থিওব্লাস্টোমাস কোষ ধ্বংস করে, যা কিনা ব্রেইন টিউমার সৃষ্টির জন্য দায়ী। রসুন ফুসফুসের ক্যান্সারের জন্য কেমো-প্রতিরোধক এজেন্ট হিসেবে কাজ করে। 

 

রসুনে রয়েছে ড্যামিল সালফাইড নামক যৌগ যা কিনা ক্যাম্পাইলোব্যাক্টর নামক ব্যাক্টেরিয়ার বিরুদ্ধে অ্যান্টি বায়োটিকের তুলনায় ১০০ গুণ বেশি কার্যকর। এই ব্যাক্টেরিয়াটি অন্ত্রের সংক্রমণের জন্য দায়ী। এছাড়া রসুন প্রস্টেট ক্যান্সার প্রতিহত করে। রসুনে রয়েছে এন্টিমাইক্রোবিয়াল কম্পাউন্ড যা অকাল গর্ভপাত প্রতিহত করে। 

 

রসুন হার্ট সুস্থ রাখে। রসুনে থাকা হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস হার্টকে সুস্থ রাখে। রসুন ডায়বেটিস রোগীদের জন্যও উপকারী। 

 

রসুনে থাকা এন্টি অক্সিডেন্ট এবং এন্টি মাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য ব্রণ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া মেরে আমাদের ত্বক সুস্থ রাখে। খাবারে রসুন ব্যবহার করলে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া সহজে খাবারে বিষক্রিয়া ঘটাতে পারে না। এভাবে রসুন খাবারও সুরক্ষিত রাখে।