শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর যে উপায়গুলো জানতেই হবে

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কি? 

 

ইংরেজি ইমিউন সিস্টেম এর বাংলা হলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। আমাদের শরীর কোন রোগ প্রতিরোধে কেমন প্রতিক্রিয়া করে তা এ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হলে একজন ব্যক্তি সহজে যে কোন রোগে আক্রান্ত হয় না আবার রোগে আক্রান্ত হলে দ্রুত রোগ থেকে নিরাময় লাভ করবে। অন্যদিকে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হলে এর বিপরীত অবস্থার সৃষ্টি হয়। সহজেই যে কোন রোগে আক্রান্ত হবে, রোগ সাড়তেও তুলনামূলক বেশি সময় লাগবে। 

 

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হওয়ার লক্ষণ:

 

১. ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে বেশিরভাগ সময়   ঠান্ডা জর লেগে থাকলে বুঝতে হবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল। 

২. আবহাওয়ার পরিবর্তনের সাথে সাথে নিয়মিত চোখ থেকে পানি পড়া বা শরীরে জ্বালাপোড়া করা। 

৩. যথেষ্ট খাবার খাওয়ার পরও দিনের প্রায় সব সময় শরীর দুর্বল থাকা। 

৪. বেশিরভাগ সময় হজমের সমস্যা হওয়া।

 

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর উপায়: 

 

১. হাসি-খুশি থাকতে হবে

 

এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, রসবোধসম্পন্ন মানুষের গড় আয়ু সাধারণ অন্যান্য মানুষের থেকে বেশি। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য হাস্যজ্জল আবহে জীবন-যাপন করতে হবে। 

 

২. পানি জাতীয় খাবার খেতে হবে

 

যে সকল খাবারে যথেষ্ট পানি রয়েছে (রসালো খাবার) যেমন: লেবু, তরমুজ, আঙ্গুর, মালটা, আমলকি দৈনিক খাবার তালিকায় রাখতে হবে। 

আর এক দিনে দুই থেকে তিন লিটার পানি অবশ্যই পান করতে হবে। 

 

৩. নেশাদ্রব্য পরিহার করা

 

যেকোনো নেশাদ্রব্য শরীরের ভিতর থেকে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কে অকেজো করতে থাকে এবং দ্রুত মারাত্মক সব রোগে আক্রান্ত করার জন্য দায়ী। 

 

৪. স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস

 

টক দই, রসুন, আদা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য কার্যকরী সব খাবার। 

তবে শুধু এসব খাবার খেলেই হবে না সেই সাথে অস্বাস্থ্যকর সব খাবার, ভাজাপোড়া খাবার খাদ্য তালিকা থেকে পরিহার করতে হবে। 

 

৫. নিয়মিত হাঁটা ও শরীরচর্চা করতে হবে

 

যোগব্যায়াম, হাঁটা বা হালকা ধরনের ব্যায়াম দৈনিক ৩০ মিনিটের জন্য হলেও করতে হবে যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি একজন ব্যক্তির আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়তা করে। 

 

৬. বিশ্রাম 

 

উপরের সবগুলো উপায় সঠিকভাবে মেনে চলার পরও যদি পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও ঘুমানো না হয় তাহলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর পদক্ষেপ গুলো কাজে আসবে না। পদক্ষেপ গুলো মেনে চলার পর শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের প্রক্রিয়ার জন্য সময় দরকার পড়ে আর বিশ্রাম এর মাধ্যমে শরীর এ সময়টা পায়। তাই পর্যাপ্ত বিশ্রাম একান্ত প্রয়োজন আর ঘুম একটি কার্যকরী বিশ্রামের উপায়। প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘন্টা ঘুমানো প্রয়োজন। রাত্রে দশটার মধ্যে ঘুমাতে যাওয়া উচিত এবং সকাল ছয়টার মধ্যে থেকে ঘুম থেকে উঠা উচিত।