মুঘল সম্রাট হুমায়ূন – পর্ব – ১

 

পর্ব – ১

সারাক্ষণ  যুদ্ধ, হাঙ্গামা, রাজ্য জয় এসব নিয়ে মেতে উঠবেন এমন চিন্তাই চলে আসে বাদশা নামক শব্দটি শুনলেই। ইতিহাসের দ্বিতীয় মুঘল সম্রাট নাসিরুদ্দিন মোহাম্মদ হুমায়ুন তথাকথিত অন্যান্য বাদশাহ দের  মত ছিলেন না। ছিলেন অনেকটাই ব্যতিক্রম । বাদশা হুমায়ুন অবশ্যই যুদ্ধ করতেন কিন্তু তার জীবনভর প্রাধান্যে কখনোই যুদ্ধ প্রথমে ছিল না। যুদ্ধ করা থেকে তিনি জাদুমন্ত্র, জ্যোতির্বিদ্যার মতো যুদ্ধ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের বিষয়গুলো নিয়ে পড়ে থাকতে পছন্দ করতেন। সমগ্র জীবনে তিনি ঠিক তথাকথিত বাদশাহ দের মত আচরণ করতেন না। তিনি নিজের মতো বাদশাহির এক দর্শন নিজেই তৈরি করেছিলেন যে দর্শন জুড়ে ছিল খামখেয়ালিপনা। প্রচন্ড আবেগ ছিল সেই খামখেয়ালিপনায় আবৃত। শুধু নিজের ইচ্ছা হলো বলে শত শত বছরের বাদশাহি নীতি ভঙ্গ করতে তিনি দ্বিতীয়বার  ভাবতেন না, আপন ভাই তার বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হলেও  ভাইয়ের প্রতি মমতায় তার চোখে পানি চলে আসতো নিমিষেই, ক্ষমা করে দিতেন। বড়ই রহস্যময় ছিল তার জগত। রহস্যময় বাদশা হুমায়ূনের রঙিন দুনিয়ার কিছু ঘটনা আমরা এ আয়োজনে জানব …

 

১. লাল পোশাক

সম্রাট হুমায়ুনের নিজস্ব একটি রেওয়াজ ছিল। তিনি এক এক দিন এক এক রঙের পোশাক পরতেন। একেকটি রঙের পোশাক ভিন্ন ভিন্ন অর্থে অর্থবহ ছিল। যেমনঃ রবিবারে হলুদ পোশাক, যেদিন তিনি রাজ্য পরিচালনা বিষয়ক সভা করতেন ; সোমবারে সবুজ পোশাক, এদিন তিনি আনন্দে থাকতেন; মঙ্গলবারে পড়তেন লাল পোশাক, সেদিন সারাদিন তিনি রেগে থাকতেন, ছোট ছোট কারনেও মঙ্গলবারে তিনি  মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়ে দিতেন।

 

একটি বিশেষ ঘটনার পর এই ভয়ঙ্কর লাল পোশাক সম্রাট হুমায়ুন চিরতরে পড়া বন্ধ করে দেন। 

 

একবার বাহাদুর শাহর প্রতি যুদ্ধ ঘোষণা করে সম্রাট হুমায়ুন তাকে ধাওয়া করছিলেন। একসময় বাহাদুর শাহর কম্ব দুর্গ দখল করে নেন সম্রাট। দুর্গের ভিতরে কোন ওয়াক্ত নামাজের পর খেয়াল করলেন বাহাদুর শাহর এই দুর্গের ইমাম সূরা ফীল দিয়ে নামাজ পড়িছেন। যে সূরায় ছোট আবাবিল পাখি দিয়ে ইয়েমেনের বাদশার বিশাল হস্তী বাহিনীকে পরাস্ত করার কথা বলা হয়েছে। ইয়েমেনের বাদশার এই ঘটনার মাধ্যমে সম্রাট হুমায়ুন কে সতর্ক করে দেওয়া এখানে স্পষ্ট। সম্রাটের শরীরে তখন ভয়ঙ্কর লাল পোশাক। ইমামের ধৃষ্টতার শাস্তিস্বরূপ তাকে হাতির পায়ে পিষ্ট করে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন সম্রাট। 

 

ইমামের মৃত্যুর পর সম্রাট হুমায়ুন অত্যন্ত অনুতপ্ত হন। তিনি এতটাই কষ্ট পান যে তিনি তার লাল পোশাক পুড়িয়ে ফেলেন এবং এ লাল পোশাক আর না পরার সিদ্ধান্ত নেন।  এরপর আর কখনোই এ ভয়ঙ্কর পোশাকে তাকে আর দেখা যায়নি।

চলবে…