আহ্লাদী মীরা

মীরা রেলিং এ ভর দিয়ে হেটে যাচ্ছে ছাদের দিকে যেন শরীরে শক্তি নেই। ছাদের এক কোণায় গিয়ে দাঁড়িয়ে কি যেন ভাবছে-
আজ তার বিয়ে অথচ এমনটা হওয়ার কথা ছিলো না।
সে ভাবতেই পারছে না কখন সে বড় হয়ে গেলো। অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে পড়লেও তার মানসিকতা বিয়ে করার জন্য তৈরী হয়ে ওঠে নাই। কদিন আগেই তো সে সালমান শাহ মারা গিয়েছে শোনে কত কান্নাকাটি করলো, স্কুল পালিয়ে স্টেডিয়ামে খেলা দেখতে যাওয়া, পিকনিক করা আর পাড়ার বাচ্চাদের নিয়ে মেতে থাকা স্বভাব মীরার।
সুন্দরী, সুশীলা, মিষ্টভাষী,আহ্লাদী মেয়ে মীরা। কত আদরের সে! এমন কিছুই অপ্রাপ্তি ছিলো না মীরার যা চেয়ে পায়নি। আদরে আহ্লাদে মাথায় তুলে রাখত সবাই। বেশী আদুরে ছিলো বলে পরিবারের কারো কাছে তার ভুল, বোকামি গুলো বড় হয়ে উঠে নাই।
মীরার বাবা ছিলেন একজন সরকারী কর্মচারী। এইত ক’দিন আগেই যেন স্থান বদলি হয়ে নিজের জেলা সদরে ৫ বছরের মীরা কে নিয়ে নিজেদের তৈরী বাসায় আসলো। আসার বছর সাতেকের মাথায় ই মীরার বাবা মারা যায়। মীরার বড় ভাই পড়াশুনা বাদ দিয়ে সংসারের হাল ধরে। ব্যবসা চালিয়ে যায় আর তাদের নিজস্ব একটা বাস (আমেনা বাস) চলাচল করে শহর থেকে উপশহরে।
মীরার মায়ের নাম আমেনা বেগম। রসিকতা জানা, সুরেলা গলার একজন মানুষ। হাদিস কুরআন থেকে শুরু করে সব ই তার মুখে ভালো শুনায়।
শহরের সফল একজন ব্যবসায়ীর ছেলের সাথে অনেক দিন থেকেই মেয়ের বিয়ের জন্য লেগে আছে।
ছেলেটিও সুদর্শন, বিচক্ষণতা আছে ব্যবসা বানিজ্যে। একই শহরে অদুরে বাসা হওয়ায় রাজী হয়ে যায় আমেনা বেগম একমাত্র মেয়ে কে দূরে পাঠাতে চান না উনি।
আরো বিশেষ কারন আছে, ক’দিন পরপরই ছেলের বাবা-মা আসতেন আর যখন আসতেন এক বস্তা জিনিস সাথে আমেনা বেগমের জন্য আনতেন এক বেরি পান। যে পান খেয়ে ঠোঁট লাল করে আমেনা বেগম হবু বেয়ানের সাথে রসালাপে মত্ত থাকতেন।
মীরা অনেকদিন দেখেছে একজন মহিলা যে নিয়মিত আসে আর তার দিকে দেখে। মীরা এড়িয়ে চলে নিজের মত করে। কে না কে এসেছে!! মা এর তো আবার ভক্ত অনেক।
মীরা ছাদে দাঁড়িয়ে কত কথা ভেবে চলেছে।
ওদিকে নিচতলায় বিয়ের ঘরোয়া আয়োজন। মীরা কে ডেকে নিচে নিয়ে যাওয়া হলো। রাত আটটার দিকে বিয়ে সম্পন্ন হয়। নতুন বউ কে শাশুড়ী মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করে কিছু কথা বলে, ছেলে কে আর সবাইকে নিয়ে বাসায় চলে যায়।
মীরা বিয়ের শাড়ি গয়না খুলে ফ্রেশ হয়ে ঘুমাতে যায়। সবাই জোর করলেও তার আর খেতে ইচ্ছে করে না।
শুয়ে ভাবতে থাকে পুনরায়-বিয়ে টা করবে না বলে সে কত ফন্দি ই না এটেছে। ছেলেমানুষী স্বভাবে-তার বান্ধবীকে দিয়ে চিঠি লিখিয়ে আমেনা বেগমের কাছে পাঠায় যে-ওই ছেলের প্রেমিকা সে,অনেক খারাপ ছেলে, মীরা কে যেন তার সাথে বিয়ে না দেয় এভাবে বানিয়ে বুনিয়ে লিখছে।
কদিন পর দুই বান্ধবীর গল্পে যদিও তার বড় ভাইয়ের কাছে ধরা পড়ে যায়। বড় ভাইয়ের সাথে বয়সের তফাৎ টা বেশি হওয়ায় দূরত্ব টা আছে যার কারনে ভয় পায় বেশি। ধরা পড়া চোরের মত হাল হয়েছিলো সেদিন। মনে পড়লেও আবার হাসি পায় মীরার। কিন্তু ভাই বোন কে ভীষণ ভালোবাসে যদিও প্রকাশ করেনা কখনও সামনে।
এসব ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে যায়।
পরদিন থেকেই কিছুটা সাভাবিক হয়ে যায়, সে ভুলে যায় যে সে বিবাহিত।
ফুটে উঠে তার প্রাণবন্ত, চঞ্চল রূপ। অনেকেই তা দেখে বলতে থাকে, বিয়ে হয়েছে তোমার… এবার তো একটু শান্ত স্বভাবা হও।কথাগুলো তার গায়ে লাগলেও পরক্ষণেই ভুলে আনন্দে মেতে যেত।
এর মাঝে মীরার স্বামী দেখা করতে আসত ঘুরতে নিয়ে যেতে চাইতো মীরা ঠিক করে কথাই বলে না। এমনকি নাস্তা,খাবার গুলা মীরার মা,ভাবি কে দিতে হত।
মীরার ভাই খেয়াল করে বউ কে বলে, জামাই এলে মীরা কে ভালো করে কথা বলতে বলো, ঘুরতে কেনো যায় না? এমনটা আচরণ আমি সইবো না।
কদিন পর ঈদ ছিলো
মীরার স্বামীকে দুদিনের দাওয়াত করে আনলো তার ভাই।
বোন কে আগেই শাসিয়ে দিয়েছে।মীরা বুজে গেছে ঠিক করে কথা বলতে হবে। সন্ধে বেলায় নাস্তা দিয়ে বসে কম কথায় উত্তর দিয়ে চলছিলো মীরা। ভয় ছিলো তার যে, কত কি ই না বলেছে তার নামে!! এ কথা তার স্বামীর কানেও গেছে জানে মীরা। কি না কি বলে!!!
রাতের খাবার খেতে ডাকতে গিয়েই মীরার ভাবি দেখে জ্বরে গা পুড়ে যাচ্ছে।
সবাই হাজির হয় মাথায় পানি ঢালতে থাকে।
মীরার স্বামী আর ভাই ও আসে দেখে এই অবস্থা। মীরার স্বামী শহরের অন্যতম ডাক্তার কে ডাকিয়ে বাসায় নিয়ে আসে যিনি চেম্বার ছেড়ে কোথাও যায় না।
সবাই চিন্তায় পড়ে যায় মেয়ে কে সামলাবে নাকি জামাইকে আপ্যায়ন করবে!!
মীরার স্বামী তাদেরকে দুশ্চিন্তামুক্ত করতে নিজে মাথায় পানি ঢালে। খাবে না মীরা তাও ভাবি কে দিয়ে জোর করে খাবার খাইয়ে মেডিসিন আনিয়ে খাইয়ে দেয়।
নিজেও রাতের খাবার শেষ করে ১১টার পর পর সবার অনুরোধ ফেলে বাসায় চলে যায়।
পরদিন সকালেই আবার মীরার পছন্দের সব খাবার নিয়ে হাজির হয়। মীরা ঘুম থেকে জেগেই দেখে পাশে তার স্বামী, মা আর ভাবি বসে।
মীরা ভাবতে থাকে যে মানুষটাকে বিয়ে করবে না বলে এত করেছে সে একেবারে মন্দ নয়।
তারপর থেকে ঘুরতে বের হত ভয় কাটিয়ে উঠে।
২মাস পর ই মীরা কে শশুর বাড়িতে নিয়ে যায়। বাসায় একমাত্র বউ অনেক আদরের। আত্নীয় – প্রতিবেশীরা বউ দেখে বলে যাচ্ছে সুন্দরী বউমা পাইছো। এতে করে শাশুড়ীর আরো মন ভরে যাচ্ছে।
সংসার শুরু হয় মীরার কিন্তু তার ছেলেমানুষী স্বভাব চলেই।
এজন্য মাঝে মাঝে দু একটা কথা শুনতে হয় তাকে তবু মীরা কিছু মনে করে না। এমন মনের মানুষগুলা কারো উপর রাগ করে থাকতে পারে না বলেই হয়ত ভালো থাকে।
আর প্রধান কারন তাকে মানসিক স্বস্তিদাতা হিসেবে মীরার স্বামী সবসময়ই পাশে থাকে।সব আহলাদ কে মানিয়ে নেয়।
মাঝেই মীরার কিছু ছেলেমানুষী এমনটা ছিলো
একদিন মীরার চাচাতো ভাই বোন ওর শশুড়বাড়িতে ঘুরতে আসে। সবার পছন্দের খাবার তৈরী করে মীরা।
একটা বোনের জন্য করছে সরষে ইলিশ।
খেতে খেতেই গলায় কাটা বিধে যায়।
মীরা সে কি বকা -ভালো হুইছে তোর এমনটা হওয়ার ছিলো,কত কইলাম দে বেছে দেই দিলি না এবার বোঝ কোনদিন ভালো হবি না।আরো যা যা মুখে আসে বলেই চলেছে।
বোনটি লজ্জা পাচ্ছে সবার সামনে এভাবে বকা শুনায় আর  ভাবছে কেন যে বেছে নিলাম না!!পরপরই এসে বোন কে কাছে নিয়ে বলছে দেখি সোনাপাখি আমার কিচ্ছু হবে না খুব কষ্ট হচ্ছে নারে, এই যে ভাত পরিয়ে এনে দিচ্ছি ঠিক হয়ে যাবে।
সবাই তো অবাক মীরার কান্ড কারখানা দেখে।মীরা এমনই ভালোবাসার মানুষদের বকে আর কোথায় কাকে কি বলবে বুঝে না পায়।
কদিন পরে আবার ছেলেমানুষী।
 মীরার ভাইপোর বিয়ে ছিলো।
বিয়ের কদিন বাসায় অনেক আত্নীয় স্বজন রাত্রীবেলা ড্র‍্যয়িংরুমে তোষক এনে ফ্লোরিং করে শুয়েছে অনেকেই।মীরা দেখতে আসছে কয়েল জ্বালিয়ে দিবে কিনা। আলো না জ্বালিয়ে আসে মীরা।
ওদিকে নতুন বউ টি পানি শেষ বলে পানি নিতে ড্রয়িংরুম হয়ে রান্না ঘরের দিকে যাচ্ছে।একটু শব্দ হয় রান্না ঘরের দিকে।
মীরা তো চোর ঢুকেছে বলে চিল্লানি শুরু করে বউটি দ্রুত বাইরে আসে।সবাই জেগে যায় মীরা কে নিয়ে হাসাহাসি করে তুই আর বড় হবি না এই ভোর রাত্রে কে এমন করে? চোর কিভাবে আসবে!!মীরা বুঝে উঠে নাই কিকরবে তার ছেলেমানুষী নিয়ে।
ক’দিন পর হঠাৎ ই ডায়রিয়ার ছুতোয় আমেনা বেগম মারা যায়। মীরা একেবারে ভেঙ্গে পড়ে।
এত দ্রুত এতিম হয়ে যাবে ভাবতেই পারছে না।
শোক সামলিয়ে উঠতে অনেকদিন লেগে যায়।
মা তো মা ই-ভুলতে পারে না,অনেকটা শান্ত হয়ে যায় মীরা।
কয়েক মাস পর
মীরার ছোট চাচা-চাচী অস্ট্রেলিয়া থেকে দেশে আসায় গ্রামের বাড়িতে ঘুরতে যায় মীরা।যেন প্রাণ ফিরে পায় সবুজে শ্যামলে।সবাইকে নিয়ে সারা দিন ঘুরে রাত্রি বেলা কেউ খোলা উঠনে কেরাম খেলছে,কেউ গল্প করছে,কেউ বা রান্না করছে। মীরার মেজো চাচার হুংকার সবাই দ্রুত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ো গিয়ে।এলাকায় দাপট আছে মীরার বংশের। যে কারনে চাচার সভাব ও এমন দাপুটে।
সবাই অনেকদিন পর খোলা আকাশের নিচে বসে খাবার খাচ্ছে তৃপ্তি করে-ছোট মাছের চড়চড়ি, কাঠালের সবজি, নদীর বোয়াল মাছের ঝোল আর দেশি মোরগের মাংস।
খেতে খেতে হঠাৎ ই খালার স্বামী কে ভাইয়া ডেকে ফেলে মীরা।আসলে শহরে বড় হওয়া ছেলে মেয়েরা সম্পর্কের মানটা কম বোঝে।
সবাই হাসাহাসি শুরু করে।
মীরা বুঝতে পারে সে ভুল বলেছে।তারপর বলে আমরা খালার স্বামী কে ভাইয়াই ডাকি।
এটা শুনে সবাই আরো হাসি।এমনকি মীরার স্বামী ও হেসে যাচ্ছেই।
মীরা তখন বলে-তুমি আসতেই চাচ্ছিলে না গ্রামে পঁচা- ডোবা ক্ষেত-সেঁতসেঁতে এখন যাবো না।আবার দাঁত কেলানো হাসি!!সবাজ অবাক হয় তাদের মনভুলানো জামাই এর বলা এম্ন কথায়
অনেকদিন পর মীরার ছেলেমানুষী।অভিমান হয়ে যায় তার।
পরদিন ভোরবেলা উঠে একাই চলে যায় সূদুরে বিলের মাঝে কাঁচা রাস্তায় যেখানে একটা বটগাছের নিচে বসে।ঠান্ডা বাতাস বইছে।ঘাসের উপরে গিয়ে বসে আর ভাবে কেউ তাকে বোঝে না,মা থাকলে ঠিকি বুঝত কত কষ্ট তার!
কিছুক্ষণ পর মীরার স্বামী আসে মান ভাঙ্গাতে যদিও মীর তাকে গতদিন সবার সামনে ওমন বলেছিলো তবু্ও আসে।বউ এর কাছে নাকি চিরকালই সব পুরুষ অসহায় সেরুপ দেখায় মীরার স্বামী। অনেক্ক্ষণ চেষ্টা করে মন ভুলাতে শেষ-মেষ মীরার মন নরম হয়ে যায়।চোখ সরিয়ে মিষ্টি মিষ্টি হাসছে কিন্তু মুখে অভিমানি ভাব দেখায় আর বলে আবার কি মজা নেয়ার জন্য আসা হইছে চলে যান।মীরার স্বামী ফিরে যায় ভাবতে ভাবতে যে কিকরে খুশি করবে।
কিছুক্ষণ পর ই মীরা দেখে ১৩/১৪ বছর বয়সী একটা ছেলে  মাছ ধরে নিয়ে আসছে।পথিমধ্যে দেখে তার ই পাশের বাসার একজন মহিলাকে যিনি বাচ্চা কোলে নিয়ে আসছেন।অসহায় মহিলা স্বামী অন্যত্র বিয়ে করেছে বলে বাপের বাড়িতে থাকে খেটে খায় সে।ছেলেটা অর্ধেক মাছ দিয়ে দিলো।
একটু এগিয়ে গিয়ে অন্য লোকের ধানের বোঝার ভাড় কমাতে নিজে কিছু টা নিয়ে নিলো।
কি মায়াবী চেহারা ছেলেটার।পড়নে স্বল্প মুল্যের পোশাক ও যেন তার সৌন্দর্য কে কমাতে পারে নি।কে হবে যে এত হাস্যোজ্জল ছেলে।
মীরা পিছু নিয়ে ওর বাড়ি যায়।
দেখে বাড়িতে এক মহিলা অনেক বকা দিচ্ছে মাছ কম বলে যে-আমার খাস আমার পড়িস আর গ্রামের লোকের উপকার করে বেড়াস। এ ভাড় সইতে পারবো না আমি যেখানে খুশি চলে যা।
ছেলে টা যেন গায়েই মাখলো না।
পরদিন মীরা আবার যায় সেখানে গাছতলায়। দেখে আজকে ঘুড়ি উড়াচ্ছে শরতের আকাশে যেন ওই ছেলেটার হাসির রেখা পড়ছে।
আজ দ্রুতই বাড়ি ফিরছিলো চোখ পড়ে ছেলেটা অন্যের বাসায় বেড়া দিয়ে দিচ্ছে।
এবার মীরা কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করে ভাই নাম কি তোমার? কাল তোমাকে এত বকলো তাও কেন করছো এসব।
ছেলেটার নাম জয়।বাপ মা মারা গিয়ে চাচা চাচির কাছে মানুষ। নানী বেচে আছে ওই একজন মানুষ ই তাকে ভালোবাসে কিন্তু মামার অভাবের সংসার হওয়ায় কাছে নিতে পারে না নাতি কে।
জয় বলে সে ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত পড়েছে এরপর চাচার কাজে সাহায্য করে যদিও চাচার একটা মাত্র ২বছরের ছেলে তাও জয় কে তাদের বোঝা মনে হয়।
এসব বলে জয় আবার কাজে মন দেয় সবার সাথে হাসছে আপন মনে।
মীরা অবাক হয় কত কষ্ট সয়ে জয়ের এই ভালোথাকা মানুষকে সাহায্য করা।
বাড়ি ফিরে স্বামীর কাছে আবদার জয় কে সে সাথে নিবে।মীরার স্বামী জানে মীরা কতটা মানবতাবোধ সম্পন্ন।
মীরার স্বামী পরদিন মীরা কে সাথে নিয়ে জয়ের বাড়িতে যায়। জয়ের চাচা চাচি মুখে মিষ্টতা রেখে বেশ কয়েকবার বললোঃতাই কিকরে হয় ছেলেটা আমাদের কাছ ছাড়া হবে.. কিন্তু ভিতরে ভিতরে আপদ বালাই করলে বাঁচে এমন।
মীরার বুঝতে বাকি রইলো না।
বেশী জোর করতে হয় নাই মীরা জয় কে নিয়ে বাসায় ফিরে।
নতুন করে দায়িত্ব নিয়েছে সে।পরিবারে পাকা গিন্নি হয়ে উঠছে শশুরবাড়ির সবার সব প্রয়োজনে ডাক পরে মীরার।
সে এখন অনেকটা বুঝে গেছে জীবন।
জয় কে স্কুলে ভর্তি করায় নিজেকে ব্যাস্ত রেখে মা এর শোক সামলে উঠে।একবছর যেতেই মামা হয় জয়।
সবাই খুশিতে মেতে উঠে আবার নতুন একটা পথ চলা সবাইকে নিয়ে ভালো থাকা।সেদিনের আহ্লাদী, ছেলেমী স্বভাবের মীরা আজ পরিপক্ক।
জীবনের কত মোড়ে কতভাবে চলে এই দিনগুলো।
ভালো থাকার জন্য চাই একটা ভালো মানসিকতা তার পরিচয় দেয় মীরা।
সময়ের পরিবর্তন এ কত কিছু বদলে যায় বদলে যায় চলন।তবু একটা অংশে রয়ে যায় সেই টান সেই মায়া।
লেখক,’
নাসরিন আখতার
হাজী মোহাম্মাদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।