কতটা ভয়ঙ্কর হবে কবরের শাস্তি?

Dangerous punishment after death।

Quran । Hadis। Hadith। Allah। Muhammad ( S.) । Islam। Muslim। Reason। Death । Death body। Jannat। Jahannam। Haram । Halal। Fire। 

মৃত্যুর পর মরদেহকে যেখানেই রাখা হোক না কেন কিংবা যেভাবেই রাখা হোক না কেন, সে কবরের অধিবাসী হয়ে যায়। বদকার হলে তার ওপর আজাব শুরু হয়ে যায়। আর নেককার হলে তার জন্য জান্নাতের আরাম-আয়েশের ব্যবস্থা করা হয়। কবর মূলত কোনো গর্তের নাম নয়।

বরং লাশকে যেখানেই দাফন করা হবে সেটাই তার কবর। আজাব হয় রুহের ওপর। আর দেহ সে আজাবের কষ্ট ভোগ করতে থাকে। তাই দেহ জ্বলেপুড়ে ছাই হয়ে গেলেও রুহের ওপর কবরের আজাব হতে কোনো বাধা নেই।

আর কবরের আজাব হওয়ার জন্য লাশ অবিকৃত অবস্থায় বাকি থাকা জরুরি নয়। বরং আল্লাহতায়ালা যেমন প্রথমে অত্যন্ত সহজভাবে দেহ সৃষ্টি করেছেন তেমনি লাশের বর্তমান দেহ জ্বলেপুড়ে ভস্ম হয়ে গেলেও ওই ব্যক্তির দেহকে পুনরায় নতুনভাবে সৃষ্টি করে শাস্তি দেবেন। কবর হলো আখেরাতের প্রথম ঘাঁটি। হাদিসে আছে, হজরত উসমান রাযি যখন কোনো কবরের পাশে দাঁড়াতেন, তখন এমনভাবে কাঁদতেন যে, নিজের দাড়ি মোবারক ভিজে যেত।

তাই একবার তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো আপনি জান্নাত ও জাহান্নাম স্মরণ করে এত কাঁদেন না, যতটুকু কাঁদেন কবর দেখে এর কারণ কী? তিনি বললেন, রসুল (সা.) বলেছেন, কবর হচ্ছে আখেরাতের প্রথম ঘাঁটি। এখানে যদি কেউ রক্ষা পেয়ে যায়, তাহলে পরবর্তী সব ঘাঁটি তার জন্য সহজ হয়ে যাবে। আর এখানে কেউ যদি রক্ষা না পায় তাহলে পরবর্তী সব ঘাঁটি তার জন্য খুব কঠিন হবে। তিনি আরও বললেন, রসুল (সা.) বলেছেন, মেরাজের রজনীতে আমি যত ভয়াবহ দৃশ্য দেখেছি তার মধ্যে কবরের আজাবই হচ্ছে সবচেয়ে ভয়াবহ। (তিরমিজি শরিফ, হাদিস নং-২৩০৮) কবরের আজাব সম্পর্কে অসংখ্য-অগণিত আয়াত ও হাদিস রয়েছে যা থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, কবরের আজাব সত্য, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

কবরের আজাবের কিছু নিদর্শন মাঝেমধ্যে আল্লাহপাক দুনিয়াবাসীকে দেখান, যার দ্বারা মানুষের আল্লাহর ওপর ইয়াকিন ও বিশ্বাস বেড়ে যায়। যেমন : শায়খুল হাদিস আল্লামা জাকারিয়া (রহ.) ফাজায়েলে আমল নামক কিতাবে একটি ঘটনা উল্লেখ করেছেন, এক ব্যক্তি তার এক আত্মীয়াকে কবর দিতে যেয়ে, টাকার থলি কবরে ভুলে ফেলে রেখে আসে। তারপর মনে পড়লে গোপনে কবর খুঁড়ে টাকার থলি আনতে গেল। গিয়ে দেখে কবরের মধ্যে আগুন দাউ দাউ করে জ্বলছে। এই আগুনই হলো কবরের আজাব। (ফাজায়েলে আমল) কবরের আজাব সম্পর্কে হাদিসে অনেক ধরনের শাস্তির কথা উল্লেখ আছে। যেমন হাদিসে আছে, কবর হয়তোবা জান্নাতের বাগানসমূহের মধ্য হতে একটি বাগান অথবা জাহান্নামের গর্তসমূহের মধ্য হতে একটি গর্ত। কবরবাসী যদি নেককার হয় তাহলে তার কবর হবে জান্নাতের বাগান। আর যদি বদকার হয় তাহলে তার কবর হবে জাহান্নামের গর্ত। কাশফের অধিকারী এক বুজুর্গ ব্যক্তি এক গ্রামে যান। তাঁকে দেখে সেখানকার লোক বলল, হজরত! এখানে এমন একটি কলসি আছে, কোনো সময়ই তার পানি ঠাণ্ডা হয় না। সবসময়ই গরম থাকে। ব্যাপারটি কী তা আমাদের বোধগম্য নয়। তিনি বললেন, ঠিক আছে। কলসিটি আজ রাতে আমার কাছে রেখে যেও। লোকেরা কলসিটি এনে তাঁর কাছে রেখে গেল। সকালে তিনি তাদের বললেন, এবার দেখ কলসির পানি ঠাণ্ডা হয় কিনা? দেখা গেল, পানি ঠাণ্ডা হয়ে গেছে। লোকেরা আশ্চর্য হয়ে এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, এ কলসিটি এক মুর্দার মাটি দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল। আর তখন সেই মুর্দাকে বরজখে (জাহান্নামিদের স্থানে) আজাব দেওয়া হচ্ছিল। সেই আজাবের প্রতিক্রিয়া এ কলসির মাটিতেও ছিল। এই বিষয়টি আল্লাহ পাকের কুদরতে জানতে পেরে আমি মুর্দার জন্য মাগফিরাতের দোয়া করলাম। আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিলেন। ফলে কলসি থেকে আজাবের প্রতিক্রিয়াও দূর হয়ে গেছে। (পছন্দিদা ওয়াকেয়াহ) এ থেকে কবরের আজাবের অবস্থা কিছুটা আন্দাজ করা যায়। কবরে আজাবের সাপের কথা বর্ণনা দিয়ে একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে, ‘রসুল (সা.) বলেছেন, পাপীদের শাস্তি দেওয়ার জন্য কবরে এমন এক বিষাক্ত সাপ নিযুক্ত করা হবে, যে সাপের বিষ তো দূরের কথা তার নিঃশ্বাসেও এমন বিষ হবে যে, দুনিয়াতে সে যদি একটি নিঃশ্বাস ত্যাগ করে, তাহলে তার বিষ্ক্রিয়ায় সব সবুজ গাছপালা মরে শুকিয়ে যাবে। পৃথিবীর মাটিতে কেয়ামত পর্যন্ত আর সবুজ গাছপালা গজাবে না। (তিরমিজি, দারেমি) বেনামাজির কবরে কী ধরনের আজাব হবে এ সম্পর্কে হাদিসে আছে, বেনামাজির কবরে তিন প্রকারের শাস্তি হবে :

 ১। কবর তার জন্য এমন সংকীর্ণ হবে যে, এক পাশের বুকের হাড় আরেক পাশে ঢুকে যাবে।

 ২। তার কবরে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হবে।

 ৩। তার কবরে এমন একটি সাপ নিযুক্ত করা হবে যার চক্ষু হবে আগুনের। আর নখগুলো হবে লোহার। তার প্রত্যেকটি নখ লম্বা হবে একদিনের দূরত্বের পথ। সাপের আওয়াজ হবে বজ্রের ন্যায় বিকট।

READ MORE:  সহিহ্ পদ্ধতিতে আকিকা ( Akika)