স্বাস্থ্য সাথী কার্ড প্রকল্প কি?

১৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৬ তারিখে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শ্রীমতী মমতা ব্যানার্জী সাস্থ্য সাথী প্রকল্প চালু করেন । যে প্রকল্পের দ্বারা পশ্চিম বঙ্গের মানুষ বিনামূল্যে তাদের চিকিত্সা করতে পারবেন। সাধারনত এতদিন চিকিত্সার জন্য সাধারণ মানুষকে মোটা টাকা খরচ করতে হতো কিন্তু এখন এই প্রকল্পে সাধারন মানুষের অনেক সুবিধা হয়ে যায়। পশ্চিমবঙ্গ সরকার চিকিত্সা ব্যবস্থাকে উন্নত করার জন্য হাসপাতালে ন্যায্য় মূল্যের ওষুধের দোকান, ন্যায্য় মূল্যের ডায়গনস্টিক সেন্টার, ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট ইত্যাদি ৫০ মিটার এর মধ্যে করছে । অনেক জায়গায় সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল তৈরি করছেন এবং এগুলিতে যেন ন্যায্য় দাম নেওয়া হয় সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে ।

 

হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কারণে বাসিন্দাদের বিপর্যয় মূলক ব্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য স্বাস্থ্য সুরক্ষা প্রদানের জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সক্রিয় বিবেচনার ফলে গোষ্ঠী সুরক্ষা প্রকল্প চালু করা হয়েছে , ” স্বাস্থ্য সাথী” ।

 

স্কীমের লক্ষবস্তু জনসংখ্যা হলো বৈচিত্রময় কম উপার্জনকারী এবং রাজ্য সরকারের বিভিন্ন বিভাগ দ্বারা পরিচালিত বিভিন্ন প্রকল্পের সাথে যুক্ত স্বেচ্ছাসেবক য অর্থ বিভাগ দ্বারা সময়ে সময়ে অনুমোদিত হচ্ছে ।

 

স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পের প্রধান বৈশিষ্ট্য

 

  • বেসিক হেল্থ কভার সেকেন্ডারি ও টারশিয়ারি কেয়ারের জন্য প্রতি পরিবার ৫ লক্ষ টাকা পাবে ।
  • ইন্সুরেন্স মোডের মাধ্যমে ১.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত এবং আসুরেন্স মোডের মাধ্যমে ১.৫ লক্ষ থেকে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত পাওয়া যাবে ।
  • প্রকল্পটি ০১.০২.২০১৭ থেকে চালু করা হয়েছিল । ন্যাশনাল ইন্সুরেন্স কোম্পানি ৯ জেলায় বীমা অংশীদার ছিল এবং ২৮.০২.২০১৮ পর্যন্ত ১১ জেলায় ইউনাইটেড ইন্ডিয়া ইন্সুরেন্স কোম্পানি ছিল । ২০১৮ সালের মার্চ মাসের জন্য নিশ্চয়তা মোডে স্কীমটি বাস্তবায়িত হয়েছিল ।
  • ০১.০৪.২০১৮ থেকে ১৫.০১.২০২০ পর্যন্ত বাজাজ আলিআঞ্জ ১৮ জেলায় বীমা অংশীদার হিসেবে এবং ২৮.০২.২০১৮ থেকে ৩১.১২.২০১৯ পর্যন্ত ইফকো টকিও ৫ টি জেলায় বীমা অংশীদার হিসাবে নির্বাচিত হয়েছিল। স্বাস্থ্য সাথী আশ্বাস মোড দ্বারা ৫ টি জেলার পরিষেবা ১৫.০১.২০২০ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল ।
  • ১৬.০১.২০২০ থেকে নতুন ইন্সুরেন্স কোম্পানি এই পরিষেবা চালিয়ে যাচ্ছে । ন্যাশনাল ইন্সুরেন্স কোম্পানি ৬ জেলায় (ক্লাস্টার -১) বীমা অংশীদার হিসেবে নির্বাচিত হয়, ওরিয়েন্টাল ইন্সুরেন্স কোম্পানি ৯ জেলায় (ক্লাস্টার -২) বীমা অংশীদার নির্বাচিত হয়, ইউনাইটেড ইন্সুরেন্স কোম্পানি ৪ জেলায় বীমা অংশীদার হিসাবে নিরচিত হয় (ক্লাস্টার -৩)।
  • কাগজবিহীন, ক্যাশলেস, স্মার্ট কার্ড ভিত্তিক ।
  • পারিবারিক আকারের কোন ক্যাপ নেই এবং স্বামী/স্ত্রী উভয়েরই পিতামাতার অন্তর্ভুক্ত । পরিবারের সব নির্ভরশীল শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও এই প্রকল্পের আওতায় আসবে ।
  • আগের কোন প্রকার রোগ থাকলেও সেটি এই প্রকল্পের আওতায় আসবে ।
  • পুরো প্রিমিয়াম রাজ্য সরকার বহন করে এবং উপকরভোগীর কোন অবদান নেই ।
  • তালিকা তৈরির দিন প্রতিটি পরিবারকে অনলাইন স্বাস্থ্য সাথী কার্ড প্রদান করা হয় । স্মার্ট কার্ডে থাকে পরিবারের সদস্যদের বিবরণ, ছবি,বায়মেট্রিক, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর, এসইসিসি আইডি।
  • স্কীমের ব্যবস্থাপনা প্রথম দিন থেকেই কাগজবিহীন আইটি প্লাটফর্মে রয়েছে ।
  • উপলভ্য পরিষেবা এবং অবকাঠামোর উপর ভিত্তি করে হাসপাতালগুলি অনলাইন তালিকা করা হয় । ২৪ ঘন্টার মধ্যে ১০০% অনলাইন প্রাক-অনুমোদন।
  • কার্ড ব্লক করার সুবিধা ভোগীদের এসএমএস ট্রিগার এবং সেই সময়েই সতর্কতা ।
  • ডিসচার্জের সময় সুবিধাভোগীদের ই-স্বাস্থ্য রেকর্ডের রিয়েল টাইম আপলোড করা ।
  • ৩০ দিনের টিএটি সহ হাসপাতালে ফেরত দাবি করুন অন্যথায় দেরি করার জন্য কোম্পানিকে সুদ দিতে হবে।
  • প্রতিক্রিয়া বিকল্প সহ ২৪x৭ টোল ফ্রী নম্বরে ১৮০০৩৪৫৫৩৮৪ অনলাইন অভিযোগ করুন ।
  • আপনার কার্ড জালিয়াতি হচ্ছে কি না সেটা জানার জন্য অনলাইন ট্রিগার এবং সতর্কতা।
  • সুবিধাভোগীদের সহায্য়ের জন্য অ্যান্ড্রয়েড ভিত্তিক মোবাইল এপ
  • হাসপাতাল থেকে ডিসচার্জ পাওয়ার পর সুবিধাভোগীকে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য সরকারী ২০০ টাকা ভাড়া বাবদ দেওয়া হয়।

 

প্রকল্পে আবেদন প্রক্রিয়া

স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পে আবেদন করার জন্য ফর্ম- ফিলআপ করতে হবে আর সেটি আপনি অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করতে পারেন বা আপনি আপনার গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন আর শহুরে এলাকার যারা বাসিন্দা তার মিউনিসিপালিটি অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন । এই ফর্মটি অনলাইনে ফিলআপ করার কোন অপশন এখন পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ সরকার আনে নি। হয়তো ভবিষ্যতে অনলাইন আবেদন হতে পারে কিন্তু আপাতত অনলাইন আবেদন করা যাচ্ছে না ।