মাইগ্রেন এর ভয়াবহতা সম্পর্কে আজই সচেতন হোন

মাইগ্রেন বাংলায় যাকে বলে আধকপালে হলো এমন একটি স্নায়বিক অবস্থা যেখানে পুনরাবৃত্তিমূলক, গুরুতর থেকে মাঝারি ধরনের মাথাব্যথা হয়। আধকপালে হলে বিশেষত মাথার এক পাশে ব্যথায় ধকধক করে। দেখা গিয়েছে যে একজন যখন তীব্র আধকপালে রােগে কষ্ট পাচ্ছেন তখন তিনি অন্ধকার এবং বিশেষত নিস্তব্ধ জায়গায় বিশ্রাম নিতে পছন্দ করছেন। কারুর কারুর ক্ষেত্রে আধকপালে হওয়ার আগে বা তার সাথে কয়েকটি সাধারণ উপসর্গ। হয় যেমন আলাের ঝলকানি দেখা, অন্ধকার বিন্দু দেখা অথবা হাত বা পায়ে শিহরণ অনুভূত হওয়া এবং তার। সাথে বমির ভাব বা বমি হওয়া। যদিও আধকপালে সম্পূর্ণ সারানাের ওষুধ পাওয়া যায় না, তবে কয়েকটি প্রেসক্রিকশান করা ওষুধ এবং জীবনধারার পরিবর্তন আধকপালে হওয়ার পুনরাবৃত্তির হার এবং তীব্রতা কমাতে পারে।

 

মাইগ্রেন কি –

 

মাথাব্যথা বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে। তাদের সবগুলিতেই অস্বস্তি ও ব্যথা হয়। আধকপালে হলে ধকধকানি মূলক ব্যথা হয়। আধকপালেকে সব চেয়ে দুর্বল করা মাথাব্যথা বলে মনে করা হয়। আধকপালের উপরে করা উল্লেখযােগ্য গবেষণাগুলি থেকে ধারণা করা যাচ্ছে যে পুরুষদের চেয়ে তিন গুণ বেশি মহিলারা এই রােগে ভােগেন। কিছু তীব্র আধকপালের আক্রমণের সাথে কখনও কখনও চাক্ষুষ সতর্কবার্তার লক্ষণ বা জ্যোতি দেখা যায়। আপনার কি প্রকারের আধকপালে হয়েছে তা বিভিন্ন সময়ের ব্যবধানে আপনার ডাক্তারবাবু এর পুনরাবৃত্তির হার এবং তীব্রতা নিরীক্ষণ করে বলতে পারবেন। এটা বলা হয় যে কতবার আধকপালের পুনরাবৃত্তি হয় তার উপরে আধকপালের প্রকার নির্ধারণ করা হয়। কিছু আধকপালে এক বছরে এক বার থেকে এক সপ্তাহে কয়েকবার হতে পারে।

 

আপনি জানেন কি? 

  • কিছু ব্যক্তি,যারা প্রায়ই আধকপালে রােগে ভােগেন তারা এর কারণ চিহ্নিত করতে পারেন, যেমন এলার্জি, মানসিক চাপ, আলাে এবং বিশেষ কয়েকটি খাদ্য।

 

  • অনেক রােগী অনুভব করতে পারেন যে আধকপালের আক্রমণ আসন্ন। তারা মাথাব্যথা শুরুর আগেই সতর্কতার সংকেত পেয়ে যান। যেমন বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া বা আলাের ঝলকানি।

 

  • অনেক আধকপালে রােগী সতর্কতার সংকেত পেয়েই ওষুধ গ্রহণ করে রােগের তীব্রতা থেকে রক্ষা পান।

 

  • যাদের তীব্র আক্রমণ হয় তারা প্রতিরােধী ওষুধ গ্রহণ করে আক্রমণের সংখ্যা কম করতে পারেন।

 

মাইগ্রেনের উপসর্গ 

 

আধকপালে শৈশব, কিশাের বা প্রারম্ভিক প্রাপ্তবয়স্কতা থেকেই শুরু হতে পারে। একজন ব্যক্তির নিম্ন লিখিত লক্ষণগুলির কয়েকটি বা সবকটি লক্ষণ এবং উপসর্গ থাকতে পারে: কয়েকটি সাধারণ লক্ষণ নিচে দেওয়া আছে। 

 

আধকপালের সাধারণ লক্ষণগুলি

  • মাঝারি থেকে তীব্র ব্যথা, যা সাধারণত মাথার এক পাশে হয় বা দুই পাশেই হয়।

 

  • ব্যথা ধকধক করে। 

 

  • শারীরিক কাজ করলে ব্যথা আরও বৃদ্ধি পায়।

 

  • ব্যথা দৈনিক কাজ কর্মে বাধা দেয়।

 

  • বমির ভাব; বমি হতেও পারে, নাও পারে।

 

  • আলাে এবং শব্দের প্রতি সংবেদনশীল। 

 

সাধারণ আধকপালের লক্ষণগুলি

 

  • মাথার এক পাশ ব্যথায় ধকধক করে।

 

  • আলাে, শব্দ এবং গন্ধ অসহ্য লাগে।

 

  • শরীর খুবই দুর্বল লাগে।

 

  • বমির ভাব এবং বমি হয়।

 

  • যন্ত্রণা এবং মেজাজ পরিবর্তন হয়।

 

  • কাজে মনােযােগ দেওয়া যায় না।

 

  • চলাফেরা করলে অবস্থা শােচনীয় হয়।

 

একটি বিশুদ্ধ আধকপালের উপসর্গ

  • চোখে আলাের ঝলকানি বা ঝাপসা বিন্দু দেখা। 

 

  • অসাড় অবস্থা অথবা অসস্তিকর অনুভূতি।

 

  • কথা বলতে অসুবিধা এবং বিশৃঙ্খলা।

 

  • অদ্ভুত গন্ধ অনুভব হওয়া বা কানে রিনরিন শব্দ শােনা। 

 

  • বমির ভাব এবং খাওয়ার ইচ্ছে চলে যাওয়া।

 

  • রােগের চূড়ান্ত পর্যায়ে সম্পূর্ণ বা আংশিক অন্ধত্ব। একটি বিশুদ্ধ আধকপালের লক্ষণগুলি 

 

  • সারা দিন ধরে অসহ্য মাথাব্যথা। 

 

  • অনবরত বমির ভাব ও বমি হওয়া। 

 

  • দৃষ্টি শক্তি ও ক্ষুধা হারানাে ফ্যামিলিয়াল হেমিপ্লেগিক আধকপালের লক্ষণগুলি 

 

  • শরীরের এক দিকে পক্ষাঘাত।

 

  • হঠাৎ মাথাঘােড়া শুরু। 

 

  • পিন ফোটানাের মতন বা ছুড়ি মারার মত অনুভূতি।

 

  • পিন ফোটানাের মতন বা ছুড়ি মারার মত অনুভূতি। 

 

  • স্ট্রোকের মতন লক্ষণ (ব্যথা, বমি হওয়া, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া)।

 

ব্যাসিলার আর্টারি আধকপালের লক্ষণগুলি

 

  • মাথার একপাশে কিম্বা দুই পাশেই হঠাৎ বা ধকধক করা ব্যথা হয়। 

 

  • আংশিক বা সম্পূর্ণ দৃষ্টি শক্তি হারানাে।

 

  • বমির ভাব ও বমি হওয়া।

 

  • মাথা ঘােরা, ভারসাম্য হ্রাস এবং জ্ঞান হারানাে।

 

  • কথা বলতে অসুবিধা। 

 

  • পেশীর সমন্বয় হ্রাস।

 

 মাইগ্রেন এর চিকিৎসা

 

যদি কখনও আপনার আধকপালে হয়ে থাকে, তাহলে আপনি বুঝবেন ব্যথা শুরু হওয়ার আগেই তাকে আটকানাে ততটাই জরুরী যতটা তার শুরু হওয়ার পর। তাই আধকপালের চিকিৎসা দুইটি শ্রেণীতে ভাগ করা যায়:

 

  • আটকানাে মাথাব্যথা শুরু হওয়ার আগেই তাকে

বাধা দেওয়া), এবং

 

  • তীব্র/ব্যর্থ (শুরু হওয়া মাত্রই তাকে আটকানাে)।

 

প্রতিরােধমূলক চিকিৎসা

 

  • জীবনধারার পরিবর্তন

 

  • ওষুধ-পত্র সেবন

 

  • ওষুধ ছাড়া অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতি (ঔষধসংক্রান্ত বিজ্ঞান বহির্ভূত বিকল্প যেমন শারীরিক চিকিৎসা, ম্যাসেজ, আকুপাংচার বা

একজন চেরােপ্রাকটর’এর সঙ্গে পরামর্শ)।

 

  • খাদ্যে পুষ্টির পরিপূরক (ম্যাগনেসিয়াম, সি-ও

কিউ10, অথবা ভিটামিন বি 2 বা বি 12)। তীব্র এবং ব্যর্থ করার চিকিৎসা 

 

  • বাজার চলতি ওষুধ: কিছু আছে যেগুলি মূলত ব্যথা কমানাের ওষুধ (যেমন এসপিরিন, ইবুপ্রােফেন, ন্যেপ্রক্সেন এবং এসিটামিনফেন) এবং অন্যান্য মিশ্রণ (উদাহরণস্বরূপ এক্সেড্রিন মাইগ্রেইন হচ্ছে এসিটামিনােফেন, এসপিরিন এবং ক্যাফিন’এর মিশ্রণ, এবং এলাকা সেলটজার হচ্ছে এসপিরিন এবং দুইটি এন্টাসিডের মিশ্রণ। 

 

  • প্রেসক্রিপশান করা ওষুধ।

 

  • আলাদা থাকা এবং দেহের জল বৃদ্ধি (একটি

অন্ধকার, নিস্তব্ধ ঘরে থাকা, প্রচুর জল খাওয়া এবং তারপর ঘুমানাের চেষ্টা করা)।

 

কখন ডাক্তার বাবুর সাথে দেখা করবেন?

যদি ব্যথা ভালো না হয় এবং মাসে ১০-১৫ বার ওষুধ খেতে হয়, তবে দেরি না করে ডাক্তার এর সরনাপন্ন হোন।