মানসিক রোগ থেকে বাঁচতে করণীয়

আমরা সবাই এমন কিছু মুহূর্ত অনুভব করি যেখানে আমাদের ভাবনাচিন্তা, আচরণ এবং অনুভূতি অস্বাভাবিকভাবে প্রভাবিত হয়। এগুলো কোনও ঘটনা অথবা একজন ব্যক্তি অথবা এমন কিছু জিনিস যা আমরা আশা বা আগে থেকে অনুমান করতে পারিনি তার প্রতিক্রিয়ায় হতে পারে। যখন চরম বা অত্যধিক মাত্রায় দেখা যায়, এই অবস্থাগুলি অথবা উপসর্গগুলি কিছু বিশেষ পূর্ব-নির্ধারিত মানদণ্ডের উপর ভিত্তি করে মানসিক ব্যাধি হিসাবে স্বীকৃতি পায়। মানসিক ব্যাধির কারণগুলির একটা ব্যাপক ব্যাপ্তি আছে এবং অন্যান্য সবকিছুর মধ্যে এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে মানসিক আঘাতদায়ক ঘটনা, শৈশবকালের মানসিক আঘাত, অবহেলা, দুর্ঘটনাজনিত কারণে শারীরিক অক্ষমতা, কোনও প্রিয়জনকে হারানো, বংশগত গঠনবিন্যাসে গোলমাল, মস্তিষ্কে ত্রুটি বা আঘাত, বেড়ে ওঠার সময়ের ত্রুটি। কোনও মানসিক অসুস্থতার চিকিৎসা এর অন্তর্নিহিত কারণের উপর নির্ভর করে এবং এর মধ্যে থাকতে পারে পেশাদারের পরামর্শ, সাইকোথেরাপি (মনস্তাত্ত্বিক চিকিৎসা), হিপনোথেরাপি (সম্মোহন চিকিৎসা), ওষুধ, ইলেক্ট্রোকনভালসিভ থেরাপি (মস্তিষ্কে ইলেকট্রিক শক প্রয়োগ), অস্ত্রোপচার এবং অন্যান্য। অ্যাকোয়ার্ড মেন্টাল ইলনেস বা অর্জিত মানসিক অসুস্থতা প্রতিরোধ সম্ভব জীবনের প্রতি একটা ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গী থাকার দ্বারা, ধ্যান, বিভিন্ন ঘটনা এবং জীবনে মানসিক চাপ সামলাতে সক্ষম হওয়ার জন্য শিশুদের শিক্ষা, একটা স্বাস্থ্যকর ডায়েট, শারীরিক ক্রিয়াকলাপ এবং শখ বা মনের বিনোদন গড়ে তোলা যা জীবন এবং কাজে ভারসাম্য রাখতে সাহায্য করে।

 

মানসিক রোগ: উপসর্গ, কারণ, চিকিৎসা…

 

উপসর্গ:

 

মানসিক ব্যাধির প্রতিটি ধরণের উপসর্গগুলি বিভিন্ন রকমের হয়। এগুলো নিম্নরূপঃ

 

উদ্বেগের উপসর্গসমূহঃ

 

উদ্বেগ ব্যাধির কয়েকটি ধরণ আছে, এবং প্রতিটি এর নিজের পথে ভিন্ন ভিন্ন হয়। কিছু প্রচলিত উপসর্গ আছে যেগুলি উদ্বেগে অনুভূত হয়, যার মধ্যে রয়েছেঃ

 

  • পেশা, আর্থিক সংস্থান, এবং স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ঘটনা

 

এবং জীবনের পরিস্থিতি সম্বন্ধে ক্রমাগত দুশ্চিন্তা

 

করা।

 

°বিপর্যস্ত ঘুমের অভ্যাস বা অনিদ্রা।

 

  • ব্যাখ্যার অযোগ্য মাথা, দেহ, বা পেশীর ব্যথা।

 

  • বুক ধড়ফড় অর্থাৎ, অনিয়মিত, জোরে এবং দ্রুত হৃদস্পন্দন, যা ব্যক্তিটির দ্বারা অনুভব করা যেতে পারে।

 

°বমি বমি ভাব এবং মাথাঘোরা।

 

বিষণ্ণতা বা মনমরা ভাবের উপসর্গসমূহ :

 

*একটা বিষণ্ন মনের মধ্যে অনেক কিছু চলতে থাকে। সেগুলোর মধ্যে কিছু পুরোপুরিভাবে অবদমিত চিন্তা হতে পারে যেগুলো নজর করা যায়না। যাই হোক, কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপসর্গ আছে যেগুলো তৎক্ষণাৎ বিপদসূচক ঘন্টা বাজাতে সাহায্য করতে পারে।

 

*বিমর্ষতা বা শূন্যতার অনুভূতি।

 

*হয় অনিয়ন্ত্রিত খাওয়াদাওয়া অথবা নিজেকে উপবাসী রাখা যথাক্রমে ওজন বাড়া অথবা ওজন কমা – ঘটানো।

 

*ঘুমের অভাব অথবা অত্যধিক ঘুমানো।

 

*অবসাদের অবিরত অনুভূতি।

 

*শরীরে ব্যথা এবং যন্ত্রণা।

 

* হজম-সংক্রান্ত সমস্যা।

 

*আশাবাদের অভাব।

 

*অপদার্থতার অনুভূতি।

 

*উদ্বেগ এবং অপরাধবোধের অনুভূতি।

 

*আত্মহত্যামূলক চিন্তা এবং প্রবণতা।

 

স্কিৎজোফ্রেনিয়ার উপসর্গসমূহ :

 

স্কিৎজোফ্রেনিয়ার উপসর্গসমূহ ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে বিভিন্ন ধরণের হয়, বিশেষ করে কিশোরবয়স্ক এবং প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে।

 

°কিশোর বয়সীরা

 

°হ্যালুসিনেশন (যার অস্তিত্ব নেই তা অনুভব করা)

 

  • নিদ্রাহীনতা।

 

  • পারস্পরিক ক্রিয়া থেকে গুটিয়ে নেওয়া।
READ MORE:  ভিটামিন ই ক্যাপসুল খাওয়া কি স্বাস্থ্যের জন্য ভালো?

 

°উদ্যমের অভাব।

 

  • পড়াশোনাসংক্রান্ত খারাপ প্রদর্শন।

 

  • প্রাপ্তবয়স্করা

 

°ডিলিউশন বা বিভ্রম (অলীক বিশ্বাস) এবং হ্যালুসিনেশন (অলীক কিছুর অস্তিত্বে বিশ্বাস)। অস্পষ্ট, খাপছাড়া, এবং অসম্পূর্ণ কথাবার্তা।

 

°পশ্চাদমুখী আচরণ, রাগ অথবা আগ্রাসনের

 

°বিস্ফোরণ, আবেগপ্রবণতা।

 

°সঠিক যত্ন এবং স্বাস্থ্যবিধির অভাব।

 

  • সামাজিক পারস্পরিক ক্রিয়ার থেকে দূরে থাকা।

 

অটিজম-এর (আত্মমগ্নতা) উপসর্গসমূহঃ

 

অটিস্টিক স্পেকট্রাম-এর (সামাজিক আদানপ্রদান এবং পারস্পরিক ক্রিয়ার দ্বারা চিহ্নিত বিকাশগত অক্ষমতা) একটা অতি ব্যাপক ব্যাপ্তি আছে, এবং এই ব্যাপ্তিতে নিছক পর্যবেক্ষণযোগ্য উপসর্গগুলির সংখ্যা বিস্ময়কর। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য এবং সাধারণ রূপের মধ্যে

 

নীচের বিষয়গুলিকে প্রভাবিত করার মধ্যে রয়েছেঃ

 

  • যোগাযোগ বা আদানপ্রদানঃ

 

এটা কখনও কখনও দেরী হতে পারে এবং দুবছরের বেশি সময় ধরে অগ্রগতি নাও হতে পারে, এবং বাচ্চারা কথা বলা থেকে আধো আধো কথা বলায় প্রত্যাবর্তন (পশ্চাদগমন) করতে পারে। এছাড়াও, বাচ্চারা আবেগ দেখাতে এবং তাদের আদানপ্রদানে মুখের ভাব প্রকাশ করতে সক্ষম নাও হতে পারে, বিদ্রূপ বুঝতে পারেনা, ডাকলে সাড়া দেয়না, এবং যখন আদানপ্রদান করছে তখন বুঝতে এবং অন্যের অনুভূতি ভাগ করে নিতে পারার ক্ষমতা নাও দেখাতে পারে।

 

  • আচরণ

 

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য আচরণ হলঃ

 

একটা পুনরাবৃত্তিমূলক ধরণ, যার মধ্যে থাকতে পারে শ্লথভাবে ঝুলতে থাকা অথবা এপাশ-ওপাশ দুলতে থাকা। অদ্ভুত বস্তুর প্রতি অনুরক্তি হচ্ছে বহু পরিচিত। তারা বহুবিধ নির্দেশ বুঝতে পারেনা এবং মনোযোগের সংক্ষিপ্ত ব্যাপ্তি থাকে। তাদের দক্ষতার অভাব থাকে এবং তাদের উপলব্ধিতে এবং চলাফেরায় আনাড়িপনা থাকতে পারে। তারা শব্দ, আলো, এবং স্পর্শের প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়।

 

°সামাজিক পরস্পর আদানপ্রদানঃ

 

একা থাকার একটা সাধারণ প্রবণতা এবং একটা সীমাবদ্ধ বা যৎসামান্য সামাজিক আদানপ্রদান থাকে। তাদের নিজেদের মত ছেড়ে দিলে তারা সুখী থাকে, প্রায়ই দীর্ঘ সময় ধরে একই কাজ করে যায়। অনুভূতি প্রকাশ করার জন্য তারা চোখের সংযোগ রাখেনা এবং সচরাচর একটা শব্দে বা একটা ছোট বাক্যাংশে, যদি আদৌ করে, সাড়া দেয়।

 

°পশ্চাদ্গতিঃ

 

কোনও শিশুর উপসর্গে উন্নতি দেখানোর পরেও আবার শিশু-সুলভ অবস্থায় প্রত্যাবর্তন করা হচ্ছে খুব বেশি দেখা ঘটনা।

 

মানসিক বাধার উপসর্গসমূহঃ

 

আইডির উপসর্গগুলি সামগ্রিক বৈশিষ্ট্যে পরিণত করা কঠিন যেহেতু সেগুলি সাধারণতঃ ধরণের উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়। কিছু কিছু উপসর্গ সমস্ত ক্ষেত্রে লক্ষ্য করার সম্ভাবনা, যার মধ্যে নীচে উল্লিখিত বিষয়গুলি আছেঃ

 

১.বিলম্বিত বৃদ্ধির ধারাবাহিক ধাপগুলি, যেমন বসা,

 

হামাগুড়ি দেওয়া, দাঁড়ানো, এবং হাঁটা।

 

২.বিলম্বিত বা অস্পষ্ট কথা।

 

৩. আচরণ যা বয়সের হিসাবে অনুপযুক্ত।

 

৪.আইকিউ মাত্রা 70-এর চেয়ে কম।

 

৫.নিয়মিত দৈনন্দিন কাজকর্ম করার এবং নিজের তত্ত্বাবধান করায় অক্ষমতা।

 

৬.স্মৃতিশক্তির ঘাটতি।

 

৭.যুক্তিসম্মত বিশ্লেষণের অভাব অথবা

 

৮.পরিণতি আগে থেকে জানার অক্ষমতা।

 

৯.আবেগপ্রবণতা এবং কৌতূহলের অভাব।

 

১০.নির্ভরতা এবং কম আত্মমর্যাদা।

 

১১.মনোযোগের ঘাটতি, অনমনীয়তা, এবং হতাশা।

 

১২.নিষ্ক্রিয়তা এবং সামাজিক কার্যকলাপ থেকে গুটিয়ে থাকা।

 

মনোযোগের ঘাটতি অতিসক্রিয়তা ব্যাধির উপসর্গসমূহ

 

এডিএইচডির কিছু অপৃথকীকৃত উপসর্গ হচ্ছে নিম্নরূপঃ

READ MORE:  জেনে নিন চুল সিল্কি করার ঘরোয়া উপায়

 

১.স্মৃতিশক্তির ঘাটতি।

 

২.বিশ্লেষণের

বা

অভাব অথবা

 

৩.পরিণতি আগে থেকে জানার অক্ষমতা।

 

৪.কাজকর্মের অক্ষমতা। 

 

৫. আবেগপ্রবণতা এবং কৌতূহলের অভাব।

 

৬.নির্ভরতা এবং কম আত্মমর্যাদা।

 

৭.মনোযোগের ঘাটতি, অনমনীয়তা, এবং হতাশা। নিষ্ক্রিয়তা এবং সামাজিক কার্যকলাপ থেকে গুটিয়ে

 

থাকা।

 

মনোযোগের ঘাটতি অতিসক্রিয়তা ব্যাধির উপসর্গসমূহ এডিএইচডির কিছু অপৃথকীকৃত উপসর্গ হচ্ছে নিম্নরূপঃ

 

*মনোযোগের অভাব।

 

*দুর্বল একাগ্রতা।

 

*উচ্চ মাত্রার চিত্তবিক্ষেপ (মনোযোগ দেবার অক্ষমতা)।

 

*ভুলে যাওয়ার অভ্যাস।

 

*কাজ সম্পূর্ণ করার অক্ষমতা।

 

*নির্দেশ অনুসরণ করায় অক্ষমতা। একটা নির্দিষ্ট সময় ধরে শান্তভাবে বসা বা স্থির থাকায় অসুবিধা অনুভূত।

 

*অস্থিরতা এবং অধৈর্য্যতার প্রবণতা।

 

*অন্যরা কথা বলার সময় বাধা দেওয়া।

 

মানসিক রোগ এর চিকিৎসা( Treatment of Mental Disorder)ঃ

 

উদ্বেগের চিকিৎসাঃ

 

উদ্বেগের জন্য কোনও নির্দিষ্ট যথাবিহিত চিকিৎসার রীতি নাও হতে পারে যেহেতু বিভিন্ন মানুষ বিভিন্ন পদ্ধতিতে ভাল সাড়া দেন। যাই হোক, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে, চিকিৎসার বিভিন্ন রীতির একটা সংমিশ্রণ ব্যবহার করা হয়।

 

একটা পুঙ্খানুপুঙ্খ চিকিৎসাগত পরামর্শ জরুরি এটা নিশ্চিত করার জন্য যে অবস্থাটা শুধুমাত্র শারীরিক বা সেরকম কিছুর কারণে ঘটেনি।

 

উপসর্গগুলির মোকাবিলা করায় সাহায্য করতে ওষুধের বিধান দেওয়া হয়। উদ্বেগ-উপশমকারী ওষুধগুলি চরম ক্ষেত্রগুলিতে জরুরি হতে পারে।

 

  • রোগীকে বোঝাতে এবং আত্মস্থ করাতে সে কি অনুভব করছে এবং সেটা সামলাতে এবং তার সাথে মানিয়ে নিতে আরও ভাল উপায় খুঁজে বার করায় সাহায্য করতে জ্ঞানসম্বন্ধীয় আচরণ থেরাপি (কগনিটিভ বিহেভিয়ার থেরাপি)ব্যবহার করা হয়।

 

বিষণ্ণতার চিকিৎসাঃ

 

বিষণ্নতার চিকিৎসায় জড়িত তিন-অংশযুক্ত বিষয়। চিকিৎসার প্রধান কোর্স-এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নীচে উল্লিখিত বিষয়গুলিঃ

 

অবস্থাটার চিকিৎসা করতে অবসাদ-প্রতিরোধক ব্যবহার করা হয়। এগুলো বেশির ভাগ সময় গুরুতর কেসগুলির জন্য পরামর্শ দেওয়া হয় এবং বাচ্চাদের ক্ষেত্রে কখনও পরামর্শ দেওয়া হয়না।

 

সাইকোথেরাপি আন্তঃব্যক্তিগত সমস্যাগুলি সামলানো এবং সমস্যাগুলির সাথে মোকাবিলা করার উপর মনোযোগ দেয়। কোনও কোনও ক্ষেত্রে, গ্রুপ থেরাপির জন্যও পরামর্শ দেওয়া হতে পারে।

 

  • সহায়ক গোষ্ঠী, যার মধ্যে আছেন সমকক্ষ ব্যক্তিগণ, বন্ধুরা, সহকর্মী, এবং পরিবার, বিষণ্ণতা প্রতিরোধ করায় ব্যবহারিক উপায়ের পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করার পক্ষে আদর্শ, এবং তাঁরা ব্যক্তিটিকে অবস্থার সাথে আরও ভালোভাবে মানিয়ে নিতে সাহায্য করেন।

 

কিছু চরম ক্ষেত্রে এবং মনোরোগজনিত বিষণ্নতার ক্ষেত্রগুলিতে, ইলেক্ট্রোকনভালসিভ থেরাপির (মস্তিষ্কে ইলেকট্রিক শক দেওয়া) পরামর্শ দেওয়া হতে পারে।

 

স্কিৎজোফ্রেনিয়ার চিকিৎসাঃ

 

স্কিৎজোফ্রেনিয়ার চিকিৎসার মধ্যে আছে বিভিন্ন রকমের ব্যবস্থা যা সমস্যাটা সামলানো এবং দীর্ঘস্থায়ী অগ্রগতি নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়। চিকিৎসার অন্তর্ভুক্ত রয়েছেঃ

 

ওষুধ:

 

সবচেয়ে প্রচলিতভাবে বিধান দেওয়া ওষুধ হল মনোরোগ-প্রতিরোধক (অ্যান্টিসাইকোটিক) ওষুধ। এটা অনুভূত বৈশিষ্ট্যপূর্ণ উপসর্গগুলি সামলাতে সাহায্য করে। অ্যান্টিসাইকোটিক ব্যবহার করে চিকিৎসায় সম্ভাব্য সবচেয়ে কম ডোজ বাছাই করা হয়।

 

ইলেক্ট্রোকনভালসিভ এবং ম্যাগনেটিক থেরাপিঃ

 

হ্যালুসিনেশন বা অলীক কিছুর অস্তিত্বে বিশ্বাস অনুভব করা মানুষদের মধ্যে উপসর্গগুলি সামলানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

 

সাইকোসোশ্যাল থেরাপি কগনিটিভ বিহেভিয়ার থেরাপি, গ্রুপ থেরাপি, পুনর্বাসনের জন্য দক্ষতা-ভিত্তিক প্রশিক্ষণ, চাকরির সহায়তা, এবং মদ এবং নেশা করার বস্তুর অপব্যবহারের সাথে লড়াই করার থেরাপিসহ চিকিৎসার এই রীতি হচ্ছে জটিল।

READ MORE:  কিউই ফল- মাত্র একটি ফলেই এত উপকার?

 

অটিজম (আত্মমগ্নতা) চিকিৎসাঃ

 

১.অটিজম-এর চিকিৎসা বস্তুতঃ অসম্ভব, এবং ব্যক্তিটিকে প্রস্তুত করতে এবং পরিবারকে পরিস্থিতির সাথে সর্বাপেক্ষা সন্তোষজনকভাবে মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াগুলির লক্ষ্য স্থির থাকে। সমস্ত 

বাঞ্ছিত আচরণকে উৎসাহিত করতে এবং যা অবাঞ্ছিত সেটা কমাতে বিহেভিয়ার ম্যানেজমেন্ট (আচরণগত ব্যবস্থাপনা)।

 

২.কগনিটিভ বিহেভিয়ার থেরাপি যা ব্যক্তিটিকে ভাবনাচিন্তাগুলি, অনুভূতিগুলি, এবং পরিস্থিতিগুলির সাথে বোঝাপড়া করানোর উপরে মনোযোগ দেয়।

 

৩.স্বাধীনতার একটা অনুভূতি এবং অন্যদের উপর নির্ভরতা কমাতে পেশাগত থেরাপি (অকুপেশনাল থেরাপি)।

 

৪.সাধারণ শরীরের নড়াচড়া এবং সেই সাথে সূক্ষ্ণ পেশীচালনার দক্ষতার দ্বারা সাহায্য করার জন্য ফিজিক্যাল থেরাপি (শারীরিক থেরাপি)।

 

৫.চিন্তা এবং অনুভূতির স্বচ্ছতা এবং স্পষ্ট উচ্চারণ

 

করতে সাহায্য বা উন্নত করার জন্য স্পিচ থেরাপি।

 

৫.তাদের চারপাশের সাথে একীভূত করতে এবং অর্থপূর্ণ মেলামেশা গড়ে তোলায় উৎসাহিত করার জন্য সোশ্যাল স্কিল থেরাপি (সামাজিক দক্ষতা থেরাপি)।

 

৬.তাদের স্বাস্থ্য উন্নত করতে এবং খাদ্যের অভাবজনিত ব্যাধি প্রতিরোধ করতে সাহায্য করতে নিউট্রিশন থেরাপি।

 

৭.যেখানে তড়কা বা খিঁচুনি কিংবা বিষণ্ণতা লক্ষ্য করা গিয়েছে সেইসমস্ত ক্ষেত্রগুলিতে ওষুধের বিধান দেওয়া

 

যেতে পারে।

 

মানসিক বাধার চিকিৎসাঃ

 

আইডির জন্য চিকিৎসা হচ্ছে একটা দীর্ঘায়িত প্রক্রিয়া, যার সাথে জড়িত নিয়মিত পেশাদারি পরামর্শ। বিশেষভাবে কৃত মানানসই প্রোগ্রামগুলি আইডি থাকা শিশুদের জন্য প্রেসক্রাইব করা হয় তাদের স্কুলে সাহায্য করতে এবং একজন বিশেষ শিক্ষাদাতার প্রয়োজন যিনি শুধুমাত্র শিশুটির ব্যক্তিগত চাহিদার যোগানের দিকেই নয় বরঞ্চ জীবনযাত্রার দক্ষতা আরও ভালোভাবে অর্জন করতে তাকে সাহায্য করতেও পারবেন।

 

আইডির কেসগুলিতে খাপ খাইয়ে নেবার মূল মানদণ্ডগুলির মধ্যে আছে বাচ্চাদের যতদূর সম্ভব সর্বোচ্চ সীমা পর্যন্ত তাদের শেখার অভিজ্ঞতাকে বাস্তবে কাজে পরিণত করতে সাহায্য করা এবং সামাজিক দক্ষতা এবং জীবনের দক্ষতা উন্নত করা। এটা অর্জন করার জন্য, নীচের থেরাপিগুলির একটা সংমিশ্রণ ব্যবহার করা যেতে পারেঃ

 

অকুপেশনাল থেরাপি (পেশাগত চিকিৎসা)ঃ

 

আইডির কেসগুলিতে খাপ খাইয়ে নেবার মূল মানদণ্ডগুলির মধ্যে আছে বাচ্চাদের যতদূর সম্ভব সর্বোচ্চ সীমা পর্যন্ত তাদের শেখার অভিজ্ঞতাকে বাস্তবে কাজে পরিণত করতে সাহায্য করা এবং সামাজিক দক্ষতা এবং জীবনের দক্ষতা উন্নত করা। এটা অর্জন করার জন্য, নীচের থেরাপিগুলির একটা সংমিশ্রণ ব্যবহার করা যেতে পারেঃ

 

*পরামর্শদান 

 

* আচরণগত থেরাপি

 

*ওষুধ (খুব অল্প ক্ষেত্রে)

 

এডিএইচডির চিকিৎসাঃ

 

চিকিৎসার বিভিন্ন ধারা রয়েছে, যার মধ্যে বিকল্প এবং প্রাকৃতিক থেরাপিগুলি আছে। মস্তিষ্কে ডোপামিন-এর মাত্রা বাড়াতে অথবা নোরেপিনেফ্রিন-এর মাত্রা বাড়াতে উত্তেজক (শারীরবৃত্তীয় এবং স্নায়বিক কাজকর্মের মাত্রা বাড়াতে) এবং অ-উত্তেজক রূপে ওষুধের বিধান দেওয়া যেতে পারে। যদিও উপকারিতাগুলি স্পষ্ট, কতগুলি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও হতে পারে।

 

প্রাকৃতিক প্রতিকারগুলির মধ্যে আছে স্বাস্থ্যকর খাবার, শারীরিক কাজকর্ম, এবং ঘুমোবার একটা আদর্শ নমুনা মেনে চলা। কাজকর্ম, যেমন যোগব্যায়াম এবং ধ্যানও মনোযোগ প্রভাবিত করতে এবং বিষণ্নতা শান্ত করতে দেখা গেছে।