বিট লবণ কি স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী?

বিট লবণ কি? 

 

 বিট লবণ বা বিট নুন এক ধরনের খনিজ লবণ, যা হিমালয়ের আশপাশের লবণসমৃদ্ধ মাটির নিচ থেকে পাথর আকারে উত্তোলন করা হয়। এই লবণটি | সােডিয়াম ক্লোরাইড ও অল্প সােডিয়াম সালফেট,

সােডিয়াম বাইসালফেট, সােডিয়াম সালফাইড, আয়রন সালফাইড এবং হাইড্রোজেন সালফাইডের অপদ্রব্য দিয়ে তৈরি। এটি আমাদের দেশে মসলা হিসেবে | ব্যাপকহারে ব্যবহার হয়ে থাকে। আয়ুর্বেদশাস্ত্রে বিট

লবণকে “শীতল মসলা” বলা হয়। এই লবণে উপস্থিত সােডিয়াম ক্লোরাইড থেকে এটির নােনতা স্বাদ আসে। এই লবণটি একটু গাঢ় বেগুনি রঙের হয়ে থাকে। সালফারের মিশ্রণ বিট লবণের স্বাদ ও বৈশিষ্ট্যসূচক গন্ধ প্রদান করে

 

বিট লবণ এর উপকারিতা: | বিট লবণকে একই সঙ্গে ‘রক সল্ট’ কিংবা ‘ব্ল্যাক সল্ট নামেও ডাকা হয়। সাধারণ নুন অপেক্ষা বিট নুনের স্বাস্থ্য উপকারিতা বেশি। নীচে বিট লবণের উপকারিতা বিস্তারিত তুলে ধরা হলাে:

 

ক) অ্যাসিডিটি কমায়: বিট লবণ অ্যাসিডিটির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। এটি | পিত্ত উৎপাদনকে উদ্দীপিত করে। এটি রক্তের অম্লত্বের

পরিমাণকেও নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

.

খ) ঘুমের সমস্যা দূর করে: ইনসােমনিয়া বা ঘুমের সমস্যা দূরীকরণে আমাদের বিট নুন খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তােলা উচিত। প্রধানত শরীরে মেলাটোনিনের মাত্রার তারতম্য দেখা দিলে ঘুমের সমস্যা দেখা দেয়। এই লবণটি মেলাটোনিনের মাত্রাকে স্থিতিশীল অবস্থায় করতে সাহায্য করে। গ) রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কাজ করে: বিট লবণ উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। অন্যদিকে সাদা লবণ রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়। এমনকি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাণের বিপরীতে বিট লবণ খাওয়ার উপদেশ দেন।

 

এছাড়াও 

 

বিট লবণ ডায়াবেটিস, হতাশা এবং পেট সম্পর্কিত অনেক সমস্যা দূর করতে কার্যকর বলে বিবেচিত হয়।

 

বিট লবণের উপকারিতা :

 

১. ফ্যাট পোড়াতে সহায়ক

 

আমাদের দেহে উপস্থিত বিপজ্জনক ব্যাকটিরিয়া দূর করে এবং দেহে বর্ধিত ফ্যাট পোড়াতে সহায়ক।

READ MORE:  সাদা চিনি নীরব ঘাতক, বাঁচতে চাইলে খান লাল চিনি

 

শুধু এটিই নয়, এটি খাবারের স্বাদকে বহুগুণ বাড়িয়ে তোলে। আয়ুর্বেদ বিশ্বাস করেন যে প্রতিদিন সকালে সকালে উত্তপ্ত জলে বিট নুন মিশ্রণ শরীর সুস্থ রাখে।

 

২. হাড় শক্ত হয়

 

বিট লবণ অনেক পুষ্টি এবং খনিজ সমৃদ্ধ। এটি নিয়মিত খাওয়া হলে শরীরের হাড় শক্ত হয়ে যায় ।

 

৩. ডায়বেটিস রোগীদের জন্য উপকারী

 

চডায়বেটিস রোগীদের সাদা লবণের চেয়ে বিট লবণের বেশি ব্যবহার করা উচিত্‍। বিট নুন শরীরে রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে কাজ করে এবং তারা আরও সুস্থ বোধ করবে।

 

৪. অল্প বয়স্ক শিশুদের জন্য সবচেয়ে উপকারী

 

ছোট বাচ্চাদের জন্য বিট নুনকে সবচেয়ে উপকারী বলে মনে করা হয়। এটি বুক থেকে বদহজম এবং কফ জমে সরিয়ে দেয়। আপনার শিশুর খাবারে প্রতিদিন খানিকটা বিট লবণ যুক্ত করুন, কারণ এটি পাকস্থলিকেও ঠিক রাখে এবং ক্লেদ ইত্যাদি থেকে মুক্তি পাবে।

 

৫. হজম শক্তি প্রচার করতে পারে

 

বিট নুন আমাদের হজম শক্তি বাড়িয়ে তুলতে পারে। উপরন্তু, এটি সেরেটোনিন হরমোনও বাড়িয়ে তুলতে পারে, যা আমাদের শিথিল রাখতে সহায়তা করতে পারে।

 

বিট লবণ কি ক্ষতিকর

 

আমাদের বয়ােজ্যেষ্ঠরা বলেছেন, কোনাে কিছুরই অতি কখনাে ভালাে না। বিট লবণের শত উপকারিতা থাকা সত্ত্বেও এর অতিরিক্ত ব্যবহার কুফল বয়ে নিয়ে আসতে পারে। অতিরিক্ত বিট লবণের ব্যবহার ফ্লুরাইড | বিষক্রিয়ার সৃষ্টি করতে পারে।