দাড়ি গজাবে ইসলামিক নিয়মে

Islamic rules of growing your beard। Sahih rules। Quran । Hadith। Hadis। Important things to know। Specially for men। Beautiful beard। Sunnah beard। Muslim। Islam। Health related। Fast growing beard।

 

   

 

 দাড়ি রাখার যেমন দুনিয়াবী উপকারিতা রয়েছে তেমনি এটি রেখে সুন্নাত পালনের মাধ্যমে জান্নাত লাভ করা যায়। সেজন্য রাসূল (ছাঃ) বা তাঁর লক্ষ লক্ষ ছাহাবীর কেউ দাড়ি মুন্ডন বা শেভ করেছেন এমন প্রমাণ পাওয়া যায় না। দাড়ি নিয়ে সমাজে রয়েছে নানা বিভ্রান্তি। কিছু আলেম নিজেদের দুর্বলতা ঢাকতে দাড়ি রাখাকে সুন্নাত বলে প্রচার করেন। কিন্তু বিশ্বের নিভর্রযোগ্য সকল আলেম দাড়ি রাখা ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে ঐক্যমত পোষণ করেছেন। শুধু আমাদের দেশেই নয়, বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই দাড়ি রাখা সম্পর্কে একটি ভ্রান্ত ধারণা আছে যে, দাড়ি রাখা সুন্নাত। অতএব দাড়ি রাখলে ভাল আর না রাখলে তেমন কোন সমস্যা নেই; একটা সুন্নাত পালন করা হ’ল না এই যা। এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। দাড়ি আল্লাহর একটি মহান ও বড় নে‘মত। দাড়ি দ্বারা তিনি পুরুষকে অনুগ্রহ করেছেন এবং নারী জাতি থেকে তাকে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত করেছেন। দাড়ি শুধুমাত্র মুখমন্ডলের উপর কয়েকটি কেশগুচ্ছই নয়; বরং এটি ইসলামের বাহ্যিক একটি নিদর্শন। দাড়ি যথাযথভাবে রেখে এবং তার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করার মাধ্যমে আমরা আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারি। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর আদেশ সমূহকে সম্মান করে, নিশ্চয়ই সেটি হৃদয় নিঃসৃত আল্লাহভীতির প্রকাশ’ (হজ ২২/৩২)।

 

দাড়ি রাখার গুরুত্ব : দাড়ি রাখার নির্দেশ দিয়ে রাসূল (ছাঃ) থেকে বিশটিরও অধিক হাদীছ বর্ণিত হয়েছে। যে নির্দেশগুলো পালন করার ক্ষেত্রে দু’টি বিষয় লক্ষণীয়। প্রথমতঃ দাড়ি রাখা মানুষের স্বভাবজাত তথা সুনানুল ফিৎরাত, যার উপর আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। সেজন্য সকল নবী-রাসূলের দাড়ি ছিল। এটি সকল নবী-রাসূল ও তাঁর উম্মতের জন্য স্বভাবজাত সুন্নাত। মুহাম্মাদ (ছাঃ) নবী-রাসূলগণের আকৃতির বর্ণনা দিতে গিয়ে যখন ইবরাহীম (আঃ)-এর আলোচনা আসল তখন তিনি বললেন,وَنَظَرْتُ إِلَى إِبْرَاهِيمَ فَلاَ أَنْظُرُ إِلَى إِرْبٍ مِنْ آرَابِهِ إِلاَّ نَظَرْتُ إِلَيْهِ مِنِّى كَأَنَّهُ صَاحِبُكُمْ، ‘আর আমি ইবরাহীম (আঃ)-এর দিকে দৃষ্টিপাত করলাম। আমি যখনই তার অঙ্গসমূহের কোন অঙ্গের দিকে তাকাচ্ছিলাম তখন মনে হচ্ছিল যেন আমারই অঙ্গের দিকে তাকাচ্ছি। যেন তিনি তোমাদেরই সাথী’।  অর্থাৎ মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর দেহের অবয়ব ইবরাহীম (আঃ)-এর অবয়বের মতই। তন্মধ্যে তাঁর দাড়িও ইবরাহীম (আঃ)-এর দাড়ির মত ছিল। সম্রাট হিরাক্লিয়াস এর নিকট মুসলিম দূত ইসলামের দাওয়াত নিয়ে গেলে তিনি তাকে পূর্ববর্তী নবী-রাসূলগণের ছবি প্রদর্শন করেন। সেখানে তিনি দেখেন যে, সকল নবীর দাড়ি ছিল। বিশেষ করে ইবরাহীম (আঃ)-এর সাদা ((أَبْيَضُ اللِّحْيَةِ দাড়ি ছিল। হারূণ (আঃ)-এর উপস্থিতিতে সামেরী কর্তৃক গো-বাছুর পূজা শুরু হ’লে মূসা (আঃ) রেগে হারূণ (আঃ)-এর দাড়ি ধরে সতর্ক করেছিলেন। যেমন আল্লাহ বলেন,يَبْنَؤُمَّ لَا تَأْخُذْ بِلِحْيَتِي وَلَا بِرَأْسِي، ‘হারূণ বলল, হে আমার সহোদর ভাই! আমার দাড়ি ও মাথার চুল ধরে টেনো না’ (তোয়াহা ২০/৯৪)। আয়াত প্রমাণ করে যে, তাদের দাড়ি ছিল। মে‘রাজ রজনীতে পঞ্চম আকাশে যখন রাসূল (ছাঃ) হারূন (আঃ)-এর সাথে সাক্ষাৎ করলেন তখন তিনি তার দাড়ি দেখলেন যে, وَنِصْفُ لِحْيَتِهِ بَيْضَاءُ وَنِصْفُهَا سَوْدَاءُ تَكَادُ لِحْيَتُهُ تُصِيبُ سُرَّتَهُ مِنْ طُولِهَا، ‘তার অর্ধেক দাড়ি সাদা ও অর্ধেক কালো ছিল। আর এতটাই লম্বা ছিল যে সেটি তার নাভি পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল’।

READ MORE:  আল্লাহ'র নামসমূহ : অর্থ : ফজিলত

 

দ্বিতীয়তঃ সেটি রাখার ব্যাপারে রাসূল (ছাঃ)-এর নির্দেশ থাকার কারণে বিধানটি পালন করা ওয়াজিব হয়ে গেছে। কারণ রাসূল (ছাঃ) তার উম্মতকে নির্দেশ দিয়েছেন এবং দাড়ি মুন্ডন করা অন্য ধর্মের শে‘আর হওয়ার কারণে তাদের বিরোধিতা করতে বলেছেন, যা পালন করা সকল মুসলিমের জন্য আবশ্যক। যেমন হাদীছে এসেছে,

 

عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : قُصُّوا الشَّوَارِبَ وَأَعْفُوا اللِّحَى

 

আবু হুরায়রা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘তোমরা গোঁফ অধিক ছোট করবে এবং দাড়ি ছেড়ে দিবে’। অন্য একটি হাদীছে এসেছে,

 

عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَرَنَا بِإِحْفَاءِ الشَّوَارِبِ وَإِعْفَاءِ اللِّحَى

 

ইবনু ওমর (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আমাদেরকে গোঁফ খাটো করতে এবং দাড়ি লম্বা করতে আদেশ করেছেন’।

 

    দাড়ি রাখা ইসলামে ওয়াজিব বা বাধ্যতামূলক। কিন্তু অনেকের সখ বা ইচ্ছা থাকার সত্ত্বেও দাড়ি রাখতে পারে না। যারা এই সমস্যায় ভোগছেন তাদের সাহায্য করতে পারে এই ৯ টি টিপস।

 

দাড়ি গজানোর সহজ উপায় গুলো দিয়ে চেষ্টা করে দেখুন, আপনার দাড়ি ভালো গজাবে।

 

১. আমলকির তেল দ্রুত দাড়ি গজাতে সাহায্য করে। ১৫ থেকে ২০ মিনিট আমলকির তেল দিয়ে মুখে মালিশ করুন। এরপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

 

 

 

২. দিনে দুবার মৃদু ক্লিনজার দিয়ে মুখ ধুতে হবে। মুখ ধোয়ার সময় হালকা গরম পানি ব্যবহার করুন। পরিষ্কার ত্বক দাঁড়ির বৃদ্ধিকে বাড়িয়ে দেবে।

 

 

৩. ইউক্যালিপটাস দাড়ি বড় করতে সাহায্য করে। ইউক্যালিপটাস সমৃদ্ধ ময়েশ্চারাইজার দিয়ে ত্বক ম্যাসাজ করুন।

 

৪. দাড়ি ভালোভাবে এবং দ্রুত গজানোর জন্য ভালোভাবে ঘুম হওয়া জরুরি। এটি ক্ষতিগ্রস্ত কোষকে পুনর্গঠনে সাহায্য করে।

READ MORE:  অর্থ সহ মেয়ে বাবুর সুন্দর সব ইসলামিক নাম

 

৫. কিছু ভিটামিন এবং মিনারেল দ্রুত দাড়ি গজাতে সাহায্য করে। আপনার খাদ্য তালিকায় ভিটামিন এ, ভিটামিন ই, ভিটামিন সি এবং ভিটামিন ই-সমৃদ্ধ খাবার রাখুন।

 

৬. প্রতিদিন ২ দশমিক ৫ মিলিগ্রাম বায়োটিন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করুন। এটি চুল গজাতে কাজে দেবে। তবে যেকোনো ওষুধ গ্রহণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

 

৭. মানসিক চাপ কম থাকলে দাড়ি দ্রুত গজায়। তাই ধ্যান করে বা যোগব্যায়াম করে মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করুন।

 

৮. প্রোটিন-সমৃদ্ধ খাবার খাদ্য তালিকায় রাখুন। যেমন মাছ, মাংস, ডিম বাদাম ইত্যাদি খান। এতে আপনার দাড়ি দ্রুত গজাবে।

 

৯. মুখের ম্যাসাজ বা মালিশ রক্তের চলাচলকে বাড়ায় এবং এটি চুল গজাতে সাহায্য করে। তাই প্রায়ই মুখে ম্যাসাজ করুন। এ ছাড়া ছয় মাস পরপর দাড়ি ট্রিমিং করুন।