শৈশব, কোথায় হারালো?

দেয়ালে সজোড়ে ছুড়ে দিলে ব্যাঙের মতো লাফাতে লাফাতে আবার হাতের মুঠোয় ফিরে আসে পিং পং বল।

খেলছিলাম। কি মজার! ছুড়ে দিলে ব্যাঙের মতো লাফায়।এ ব্যাঙ দেখতে ভাল্লাগে। 

 

     মা মাংস শুকাতে গিয়েছে। রোদে। কুরবানির মাংস কি সব মসলা মেখে কাঠির মধ্যে পুরে দিয়ে রোদের মাঝে শুকায়। এ শুকানো মাংস দিয়ে কি করে জানতে ইচ্ছা হয়। জিজ্ঞেস করবো করবো ভাবি। মনে থাকে না।

প্রকাশিকা

     মা আসতে আসতে যট্টুক খেলতে পারি..চলে আসলে খেলা ভেস্তে যাবে। ১-১০ পর্যন্ত লিখতে দিয়ে গিয়েছে। এসে দেখবে বলেছে। ৩ পর্যন্ত লিখে ব্যাঙ খেলতে চলে এসেছি। ১০ পর্যন্ত লিখতে পারবো। কিন্তু লুকিয়ে লুকিয়ে খেলায় একটা এডভেঞ্চার আছে (এডভেঞ্চার শব্দটা ভাইয়ার থেকে শিখেছি.. এই কয়দিন হলো। ঐ দিন ভাইয়া বললো,’শোন বাবু, ম্যাথ বই এর নিচে গল্পের বই লুকিয়ে পড়ায় না একটা এডভেঞ্চার আছে!’ গম্ভীর হয়ে শুনলাম।ঐ থেকে এডভেঞ্চার শিখে নিলাম)।

 

     হাওয়াই মিঠাই…হাওয়াই মিঠাই…লাল সাদা হাওয়াই মিঠাই।লাল নেন ২ টাকায়,সাদা নেন ১ টাকায়। হাওয়াই মিঠাই….

 

     মিঠাই চাচা! আহা… আস্ত সপ্তা অপেক্ষা করি চাচার জন্য। কি মজার হাওয়াই মিঠাই বানান! এর থেকে বেশি মজার হলো ঐ পেজো তুলাটা যেখান থেকে বের হয় ঐ মেশিনটা। চিনি দিলেই চরকির মতো ক্যাক ক্যাক আওয়াজ। ঘুরতে থাকে। একটু পর পেজো তুলাটা বের হয়।আসলে দুনিয়ার সবথেকে মজার খাদ্য। হাওয়াই মিঠাই।

আমি বড় হলে মেশিনটা কিনবোই কিনবো। 

 

     এখন আমি কি করি? ১০ পর্যন্ত তো লিখা হয় নাই।মা এসে লেখা না পেলে মারবে। আবার লিখতে লিখতে যদি মিঠাই চাচা চলে যান?

 

     আমার হাত ঘামছে। খুব বেশি চিন্তা হলেই এমনটা হয়। 

 

 এখন আমি অনেক বড়।

 

এ কাহিনি এখন কম করে হলেও দশ বছরের পুরনো। এডভেঞ্চারের নেশায়  পিং পং বল এখন আর দেয়ালে ছুড়ে মারি না মা এর থেকে লুকিয়ে লুকিয়ে। ইচ্ছে হলে মা এর সামনেই তো খেলতে পারি! কিন্তু বয়স নামক দোষে এসব ছেলেখেলায় এখন আর আগ্রহ পাই না  মা এখন আর এক থেকে দশ পর্যন্ত লিখতে দিয়ে যায় না লেখা ফাঁকি দিয়ে,পিং পং বল নিয়ে তাই আমার আর এডভেঞ্চারও করা হয়ে উঠে না।

 

আহা,,বয়সের অতল গহ্বরে হারিয়ে গেল আমার এডভেঞ্চার, হারিয়ে গেল সোনালি শৈশব।