মাছি তাড়ানোর ঘরোয়া উপায়

অতিরিক্ত মাছির উপদ্রব এ আমরা মোটামুটি সবাই অতিষ্ঠ।  বিরক্তকর এই মাছগুলো শুধু যে বিরক্ত করে যাচ্ছে এমনটা নয়, বিভিন্ন ময়লা আবর্জনা থেকে রোগজীবাণু এনে এরা আমাদের খাবার কেউ করে তুলছে দূষিত। ফলে আমরা সহজেই রোগাক্রান্ত হচ্ছি। তবে আমরা কি কখনো ভেবে দেখেছি মাছি কেন আমাদের ঘরে প্রবেশ করে? এর উত্তর হতে পারে আমরাই হয়তো তাদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। চলুন নিচের পয়েন্ট গুলো দেখে আসি সাথে সাথে মাছি তাড়ানোর ঘরোয়া উপায় গুলোও জেনে আসি, 

 

 

মাছির খাবারের উৎস নষ্ট করুন

নোংরা ময়লা আবর্জনা মাছির খাবারের প্রধান উৎস। আপনি যদি মাত্রাতিরিক্ত মাছির যন্ত্রণায় অস্থির হয়ে থাকেন তবে এর প্রধান কারণ হচ্ছে উন্মুক্ত অবস্থায় খাবার রাখা অথবা নোংরা ময়লা  বাসার আশেপাশে উন্মুক্ত স্থানে ফেলে রাখা। আপনি যদি সাধারণভাবে লক্ষ্য করে থাকেন তবে খেয়াল করবেন বিশেষ করে রান্নার জন্য কাঁচা মাছ মাংস কাটার পরপরই যে ময়লা আবর্জনা সৃষ্টি হয়ে থাকে সেখানে মাছের আনাগোনা বেশি দেখা যায়। অর্থাৎ আবর্জনা থেকে যে দুর্গন্ধ  নিঃসৃত হয় তা মাছিকে আকৃষ্ট করে। তাই মাছির অত্যাচার থেকে মুক্তি পেতে হলে প্রথমেই আপনার আশেপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখুন।

 

পোষা প্রাণীর নোংরা পরিষ্কার করুন

আমরা বাড়িতে নানারকম পোষা প্রাণী পাখি পালন করে থাকি। আর এসব পোষা প্রাণী গুলো নিয়মিতই যেখানে সেখানে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেয়। আর এই মলই  হচ্ছে মাছির বংশ বিস্তার করার একটি মাধ্যম। একটি মাছি একসাথে ১৫০ টির মত ডিম দিয়ে থাকে একদিন। তাই কোনভাবে যদি আপনি একদিনের মল পরিষ্কার করতে ভুলে গিয়ে থাকেন তাহলে আপনি আপনার বাসায় ১৫০ টির নতুন মাছিদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তাই মাছির বংশ বিস্তার রোধ করতে নিয়মিত পোষা প্রাণীর মল পরিষ্কার করুন।

 

মাছি আসা যাওয়ার পথ বন্ধ করুণ

মাছি থেকে মুক্তির একটি প্রধান কার্যকরী উপায় হচ্ছে মাছির গমনাগমন পথ রোধ করা। লক্ষ্য করে দেখবেন আপনার বাড়ির আশেপাশে এমন কোন উৎস রয়েছে যা মাছি আগমনের জন্য দায়ী। সেটি অপসারণ করার সাথে সাথে আপনাকে এটিও খেয়াল রাখতে হবে যে কোন পথে সেই উৎসবে নিকট আসছে। অর্থাৎ মাছির  আগমন পথ। রান্নাঘরে যদি মাছির উপদ্রব বেশি হয়ে থাকে সে  ক্ষেত্রে রান্নাঘরের জানালায় নেট বা জাল ব্যবহার করতে পারেন।  এতে দারুন ফলাফল পাবেন।

 

গাছই যখন প্রকৃত বন্ধু

মাছি তাড়ানোর সাথে সাথে পরিবেশের উপর উত্তম প্রভাব রাখে এমন একটি  ব্যাপার হচ্ছে গাছ লাগান। তবে আমরা এক্ষেত্রে বৃক্ষজাতীয় কোন গাছ লাগাব না। মাছি প্রতিরোধে যে গাছগুলো উৎকৃষ্ট ভূমিকা রেখে থাকে সেগুলো হচ্ছে তুলসী, লেমন গ্রাস, পুদিনা মত গুল্ম উদ্ভিদগুলো।  গাছগুলো আপনি আপনার বাসার সামনে বাগান করে লাগিয়ে রাখতে পারেন অথবা জানালা দরজার সামনে গাছগুলোর রোপণ করতে পারেন। এতে মাছির উপদ্রব অনেকটাই কমবে বলে আশা করা যায়।

 

মাছির জন্য ফাঁদ

প্রাকৃতিকভাবেই আপনি বানিয়ে ফেলতে পারেন মাছি ধরার ফাঁদ। এক্ষেত্রে আপনাকে যা করতে হবে, একটি কাঁচের বোয়মের ভেতর অ্যাপেল সিডার ভিনেগার নিয়ে এর উপর একটি কাগজের ফানেল তৈরি করে রাখতে হবে। এতে আপনি যে ফলাফল পাবেন তা হচ্ছে, মাছিগুলো অ্যাপেল সিডারের গন্ধে কাগজের ভেতর দিয়ে দ্রুত সময়ে ঢুকে যাবে ঠিকই, কিন্তু বের হওয়ার পথ পাবে না। কারণ ঢুকার পর কাগজ সংকোচিত হয়ে বের হওয়ার পথ কে সীমিত করে দেবে। এছাড়া একটি বড় সাইজের লেবু কেটে লেবুর মাঝ বরাবর লবঙ্গ রেখে দিলেও মাছি কমে আসবে।