১ সপ্তাহেই ৫ কেজি ওজন কমান – ওজন কমানোর উপায়

বর্তমান সময়ে স্বাস্থ্য সম্পর্কিত অত্যাধিক আলোচ্য বিষয় গুলোর একটি হচ্ছে মেদ সমস্যা বা মোটত্ব। যারা এই সমস্যায় ভুগে থাকি তারা কোন না কোন ভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছি অতিরিক্ত ওজন কমানোর। তবে বাস্তব দৃষ্টিকোণ থেকে এটি কিছুটা কঠিন হলেও  আপনার ইচ্ছেশক্তি থাকলে মোটাত্ব সমস্যা থেকে খুব সহজেই ওভারকাম হতে পারবেন। বার্তা সংস্থা ইউএনবি এমনই কিছু প্রসঙ্গ তুলে এনেছে যার সাহায্যে আপনি অতি দ্রুত আপনার ওজন কমিয়ে ফেলতে সক্ষম হবেন। 

 

 ধারাবাহিকভাবে প্রতিটি বিষয়ের বিবরণী নিচে দেয়া হলো,

 

ওজন কমানোর উপায় 

 

ওজন কমানোর উপায় 
ওজন কমানোর উপায়

০১. গ্রিন টি পান করুন

গ্রিন টি উপকারী, এটি আমরা মোটামুটি সবাই জানি। এতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বিদ্যমান। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, সপ্তাহে প্রতিদিন যদি চার কাপ করে গ্রিন টি পান করা হয় তাহলে খুব সহজেই অতিরিক্ত ৪০০ ক্যালোরি পর্যন্ত ফ্যাট কেটে যেতে পারে। যা আপনার ওজন কমাতে দ্রুত সহায়তা করবে। ওজন কমানোর উপায়

 

০২. মসলাদার খাবার পরিহার করুন

আমরা অনেকেই মনে করে থাকি সিদ্ধ খাবার ওজন কমাতে সহায়ক। যার কারণে অনেকেই আমরা মসলাজাতীয় খাবার থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করি। তবে এটি ঠিক নয়। মসলা যেমন ধনে, জিরা, গুড়া হলুদে প্রচুর পরিমাণে খনিজ উপাদান বিদ্যমান। যা আপনার অতিরিক্ত ওজন কমাতে সহায়তা করে থাকে। ওজন কমানোর উপায়

০৩. পর্যাপ্ত পানি পান করুন

পানির অপরিহার্যতা আমাদের জীবনে অপরিসীম। তবে আপনি জেনে অবাক হবেন যে এই পানি আপনার অতিরিক্ত ওজন কমাতে সহায়তা করে থাকে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করলে আপনার দেহে বিদ্যমান অতিরিক্ত টক্সিক পদার্থ গুলো খুব সহজেই দেহ থেকে বের হয়ে যেতে পারে।

 

০৪.  চিনি থেকে বিরত থাকুন

খাবারকে সুস্বাদু করতে আমরা অনেকেই চিনির ব্যবহার করে থাকি।  ১ টেবিল চা চামচ চিনিতে থাকে প্রায় ১৬% ক্যালরি। তাই খাবার বা পানীয় সাথে চিনির ব্যবহার এড়িয়ে চলুন।

 

০৫.  রাতে দ্রুত খেয়ে ফেলুন

আমরা অনেকেই রাতে খাবার খাওয়ার পর ঘুমিয়ে যাই। যা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিকর।  এর কারণ হচ্ছে আপনি খাদ্য গ্রহণ করে থাকেন ক্যালোরি অর্জনের জন্য। তবে রাতে খাবার পর আপনি ঘুমিয়ে গেলে অতিরিক্ত ক্যালোরি আপনার দেহে জমে থাকে এবং যা আপনাকে মুটয়ে তোলে।

 

০৬. দিনে ঘুমাবেন না

রাতের ঘুম আমাদের দেহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে অনেকের ক্ষেত্রে দেখা যায় দিনে ঘুমালে রাতে সেই পরিপূর্ণ ঘুম অনেক ক্ষেত্রে ব্যাঘাত ঘটে থাকে। রাতে অন্তত আট ঘণ্টা ঘুমানোর অভ্যাস রাখতে হবে।

 

০৭.  ধীরে ধীরে খান

খাবার গ্রহণের সময় পরিমিতভাবে আস্তে আস্তে খাদ্য গ্রহণ করুন। এর দ্বারা আপনি আপনার কতটুকু খাদ্য চাহিদা রয়েছে সেটি সঠিক ভাবে গ্রহন করতে পারবেন। তাড়াহুড়োতে খাদ্য গ্রহণের সময় অনেক ক্ষেত্রে খাবার গ্রহণের পরিমাণ বেশি হয়ে যেতে পারে।

 

০৮. খাবার  পূর্বে পানি

খাবার পূর্বে এক গ্লাস পানি খেলে খাবারের চাহিদা অনেকটাই কমে যায়। এর দরুন আপনি অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ করতে সমর্থ হবেন না। এছাড়া বাইরের খাবার অর্থাৎ জাঙ্কফুড অবশ্যই পরিহার করতে হবে।

যতটা সম্ভব বাসায় তৈরি খাবার গ্রহণ করার চেষ্টা করুন।  এতে আপনার দেহ যেমন সুস্থ থাকবে তেমনি আপনি মুটিয়ে যাওয়া প্রতিরোধ করতে পারবেন।

 

০৯. খাবার প্লেট  বদলে ফেলুন

ছোট প্লেটে খাবার গ্রহণ করার চেষ্টা করুন। অর্থাৎ আপনি যখন খাবার খাবেন  সে ক্ষেত্রে ছোট প্লেটে খাবার থাকলেও তার পরিপূর্ণ অবস্থায় থাকবে। যা আপনাকে মানসিকভাবে বোঝাতে কিছুটা হলেও সমর্থ হবে যে আপনি পরিপূর্ণভাবে খেয়েছেন। অন্যথায় বড়  প্লেটে খাদ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে খাবার গ্রহণের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে।

 

১০. পপকর্ন খান

কম ক্যালরিযুক্ত খাবার হচ্ছে পপকর্ন। আপনি যেহেতু মুটিয়ে যাচ্ছেন তাই আপনি খিদা নিবারণের জন্য পপকন নিয়মিতভাবে খেতে পারেন।

 

 

 

 

ওজন কমানোর উপায় ডায়েট চাট

বর্তমান সময়ে আলোচিত একজন চিকিৎসক হচ্ছেন, ড. জাহাঙ্গীর কবির।  তিনি তার ইউটিউব ভিডিও এবং বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে সুন্দরভাবে তার চিকিৎসা বিবরণ তুলে ধরে থাকেন। তার পরামর্শগুলো মেনে অনেকেই তাদের ওজন দ্রুত কমাতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি তার পরামর্শে কিটো ডায়েট এর আসন্ন বিষয় গুলো জানিয়েছেন। কিটো ডায়েট এর ক্ষেত্রে যেটি করা হয় সেটি হচ্ছে, শর্করা জাতীয় খাবারের পরিবর্তে চর্বিজাতীয় খাবারে বেশি প্রাধান্য দেয়া হয়। যে চার্টটি ফলো করে  ১৫ থেকে ১৭ কেজি পর্যন্ত ওজন কমিয়ে ফেলা সম্ভব এক মাসে। নিচে কিটো ডায়েটের বিবরণী ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা হলো,

ওজন কমানোর খাবার তালিকা, মেয়েদের ওজন কমানোর উপায়

 

সকালের নাস্তা

সকালে নিজের জন্য বানিয়ে নিন ১ কাপ বুলেট কফি। এবং এটি আটটার সময় পান করতে পারেন। বুলেট কফি যেভাবে বানাবেন,

এক চামচ মাখন, এক চামচ ভার্জিন কোকোনাট অয়েল এবং এক চামচ কফি পাউডার। প্রথমে কফি পাউডার সামান্য পরিমাণ পানির সাথে মিশিয়ে নিন। এরপর অতিরিক্ত পানি ঢেলে মাখন এবং কোকোনাট অয়েল মিশিয়ে পান করুন।

কফি খাওয়ার ৩ ঘণ্টা পর অর্থাৎ, সকাল ১১ টায় দুটি ডিম ভালভাবে পোছ করে নিন মাখন দিয়ে। এর সাথে হিমালয়ান পিংক সল্ট দিয়ে এক মুঠো বাদাম ভেজে নিন। এর বিকল্প হিসেবে খেতে পারেন টমেটোর সাথে ডিম মিশিয়ে অমলেট তৈরি করে। ওজন কমানোর উপায়

ওজন কমানোর উপায়  ওজন কমানোর উপায় 

 

 

দুপুরের খাবার

দুপুরের খাবারে প্রথমেই অ্যাপেল সিডার ভিনেগার পান করুন। এই পানীয় তৈরি করার জন্য অ্যাপেল সিডার ভিনেগার সামান্য গরম পানি দিয়ে মিশিয়ে নিন।

এর ১৫ মিনিট পর আপনার দুপুরের লাঞ্চ করুন। এজন্য খাবার হিসেবে মসলা দিয়ে শাকসবজি ভেজে নিতে পারেন এবং এর সাথে মাছ খেতে পারেন। এসব রান্না করার ক্ষেত্রে এক্সট্রা ভার্জিন অয়েল ব্যবহার করুন।

প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন।  এর পরিমাণ হতে পারে দিনে ৪ থেকে ৫ লিটার পর্যন্ত এবং প্রতিবার পানি পান করার সময় সামান্য হিমালয় পিংক সল্ট ব্যবহার করুন। ওজন কমানোর উপায়

মাছ ভাজা
মাছ ভাজা

 

 

বিকেলের নাস্তা

বিকেলে নিয়মিত নাস্তা করুন। নাস্তার সময় বিকাল ৫ টা হতে পারে। নাস্তায় শসা এবং বাদাম গ্রহণ করুন। এর সাথে অবশ্যই গ্রিন টি পান করুন।

বাদাম
বাদাম

 

 

রাতের খাবার

ডিনার রাত আট’টায় গ্রহণ করুন। ডিনারে মাছ কিংবা মুরগি দুই টুকরো বানিয়ে খেতে পারেন। এর সাথে শসা ও গাজর রাখবেন। রাতে সবজি খেতে পারেন। যেমন, মাংসের সাথে সবজি। তবে যে কাজটি কখনোই করবেন না সেটি হচ্ছে ভুলক্রমেও কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ না করা। কারণ কার্বোহাইড্রেট দ্রুত ওজন বৃদ্ধিতে সহায়তা করে থাকে।

ওজন কমানোর উপায় 

 

 

 

 

ওজন কমানোর ব্যায়াম

 

ওজন কমানোর ব্যায়ামের কথাগুলো বলতে গেলে কিছু ব্যায়াম রয়েছে যেগুলো কখনোই পরিবর্তন হয়নি। এমনকি আদিকাল থেকে সেই ব্যায়ামগুলো একই ভাবে শরীরের মেদ কমানোর ক্ষেত্রে কার্যকর হয়ে আসছে। নিম্নে ওজন কমানোর ব্যায়াম গুলো ধারাবাহিক ভাবে তুলে ধরা হলো। ওজন কমানোর ব্যায়াম ছবি সহ।

 

০১. হাঁটা: 

 

ওজন কমানোর উপায় 

 

 

হাটা সবথেকে উৎকৃষ্ট একটি ব্যায়াম। কারণ সব ধরনের মানুষ এই ব্যায়ামটি খুব সহজে করতে পারে। স্বাভাবিক পরিবর্তে সামান্য দ্রুতগতিতে হাঁটা ব্যায়ামের মান বাড়ায়। প্রথমদিকে হাটার সময় কিছুটা কম রাখলেও পরবর্তীতে ধীরে ধীরে সময়ের পরিমাণ বৃদ্ধি করবেন। যা আপনার ফুসফুসের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করবে সাথে সাথে ওজন হ্রাসেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা  রাখবে।

 

০২. দৌড় বা স্প্রিন্ট:

 

ওজন কমানোর উপায় 

 

 

নিয়মিত হাঁটার রুটিনে যখন আপনি অভ্যস্ত হয়ে পড়বেন তখন এর সাথে যুক্ত করবেন সামান্য দূরত্ব দৌড়। অর্থাৎ আপনি দৌড়িয়ে একটি নির্দিষ্ট পয়েন্ট থেকে আরেকটি পয়েন্টে পৌঁছাবেন সেখানে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে আবার আপনার আরম্ভ পয়েন্টে ফিরে আসবেন। এভাবে নিয়মিত দৌড়িয়ে দৌড়ানোর সময় ধীরে ধীরে বৃদ্ধি করবেন। হাঁটা বা দৌড়ানোর ব্যায়াম গুলো অবশ্যই সকালের দিকে করবেন। কারণ সে সময় পরিবেশ থাকে ঠান্ডা এবং আপনি সহজেই ঘেমে যাবেন না। নিয়মিত এধরনের ব্যায়ামের মাধ্যমে আপনি সহজেই চাঙ্গা হয়ে উঠবেন।

 

০৩. পুশ আপ আর ডিপস: 

 

ওজন কমানোর উপায় 

 

প্রথমে মাটিতে উপর হয়ে শুয়ে পড়ুন। ডিপসের ক্ষেত্রে যেটি করতে হবে সেটি হল হাত দুটো কাঁধ বরাবর রেখে পা দুটো সামান্য ফাঁকা করুন। এরপর হাতের তালু এবং পায়ের আংগুলের ওপর ভর দিয়ে উঠানামা করতে হবে।

পুশ আপ এর ক্ষেত্রে আগের মতোই কাঁধ বরাবর থাকবে এবং পা দুটো থাকবে লাগানো। এবার পূর্বের মত শরীরকে উঠানামা করতে হবে। এর সাহায্যে আপনি খুব সহজেই আপনার পেটের মাংসপেশি শক্তিশালী করতে পারবেন।

 

০৪. ক্রাঞ্চেস: 

 

ওজন কমানোর উপায় 

 

ক্রাঞ্চেস  কোমর এবং পেটের মেদ কমাতে দারুন কার্যকরী একটি ব্যায়াম। এক্ষেত্রে  মাটিতে শুয়ে পা গুলোকে ভাঁজ করে নিতে হবে। দুই হাত মাথার নিচে ব্যান্ড করে রেখে  মাথা উত্তোলনের চেষ্টা করতে হবে। এর দরুন পেটে প্রচুর প্রেসার পড়বে এবং যা ধীরে ধীরে মেদ নির্মূলে কাজ করবে।

 

০৫. স্কোয়াটস: 

 

ওজন কমানোর উপায় 

 

মেদ কমানোর জন্য আরেকটি কার্যকরী ব্যায়াম। এর অর্থ হচ্ছে উঠবস করা। এ ক্ষেত্রে পা কিছুটা ফাঁক করে সোজা হয়ে দাঁড়াতে হবে এবং  তারপরেই বসে যেতে হবে। এভাবে বারবার করার মাধ্যমে শরীরের মেদ কমার সাথে সাথে মাংস পেশি শক্তিশালী হবে।

ওজন কমানোর খাবার, ওজন কমানোর দোয়া

ওজন কমানোর ট্যাবলেট

 

ওজন কমানোর উপায় 

 

আমরা অনেকেই দ্রুত ওজন কমানোর জন্য ওজন কমানোর ট্যাবলেট এর দিকে ঝুঁকে থাকে। এমনকি বাজারেও এরকম অনেক ব্র্যান্ডের ওজন কমানোর ঔষধ এর সাথে আমরা পরিচিত। তবে ওজন কমানোর ক্ষেত্রে এসব ওষুধের ব্যবহার কিছুটা কার্যকরী হলেও দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারের ফলে এর ক্ষতিকর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে। তাই বাজার থেকে কোন ধরনের ওজন কমানোর ট্যাবলেট কেনার পূর্বে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মতামত নিয়ে কিনতে হবে।