অটিজম সম্পর্কে যা আপনার জানা আবশ্যক

অটিজম কি- What is autism?

 

Autism is a neurodevelopmental disorder in children. A disorder in which a child has difficulty establishing social relationships. There are also problems in communicating with the environment and the person through normal speech, gestures, etc., and behavior changes.

 

অটিজম হচ্ছে  শিশুদের স্নায়ুবিকাশজনিত সমস্যা সম্পর্কিত একটি রোগ। যে রোগে একটি শিশুর  সামাজিক সম্পর্ক স্থাপনে অসুবিধা হয়। চারপাশের পরিবেশ ও ব্যক্তির সাথে স্বাভাবিক কথাবার্তা ইশারা ইংগিত ইত্যাদির মাধ্যমেও যোগাযোগের সমস্যা হয় এবং আচরণেরও পরিবর্তন হয়। মোটকথা যে সমস্যা একটি শিশুকে শারীরিক এবং মানসিক দিক থেকে অপূর্ণতায় পর্যবসিত করে তাকে অটিজম বা অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার বলে। 

 

অটিজমকে অনেকে মানসিক রোগ মনে করলেও এটি প্রধানত স্নায়ুবিক বিকাশ-জনিত সমস্যা। যে সমস্যার কারণে আক্রান্ত ব্যক্তি আর দশজন মানুষের সাথে স্বাভাবিক যোগাযোগ ও সামাজিক সম্পর্ক স্থাপনে ব্যর্থ হয়।

 

অটিজম স্নায়ুবিকাশ জনিত রোগ হলেও এই রোগের কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ এখন পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে কিছু কিছু বিষয়কে অটিজমের কারণ হিসেবে দেখা হয়। বিশেষ করে, বংশে কারও অটিজমের সমস্যা থাকা, গর্ভাবস্থায় অধিক দুশ্চিন্তা করা, পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া, অতিমাত্রায় ঔষধ সেবন, মায়ের ধুমপান ও মদ্যপানসহ গর্ভকালীন সংক্রমণ যেমন: মাম্পস, রুবেলা, মিসেলস ইত্যাদি হওয়া।

 

অটিজম এর উপসর্গ- Symptoms of Autism

 

* অটিজম আক্রান্ত শিশু সাধারণ শিশুর সাথে সামাজিক যোগাযোগ  রক্ষা করতে পারে না।

* কারো সঙ্গে মিশতে পারে না।

* ভাষার মাধ্যমে এবং ইশারা ইঙ্গিতের মাধ্যমে যোগাযোগ করার ক্ষমতা থাকে না।

* পুনরাবৃত্তিমূলক আচরণ করে।

* একই কাজ বারবার করে, একই খেলা বারবার খেলতে পছন্দ করে। 

* একই কথা বারবার বলতে পছন্দ করে। 

* সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কথা-বার্তা বলতে পারে না। 

এ ছাড়া আরো কিছু দেখা উপসর্গ দেখে বুঝা যায়। যেমন-

READ MORE:  শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর যে উপায়গুলো জানতেই হবে

* চোখে চোখ রেখে কথা না বলা।

*ডাক দিলে সাড়া দেয় কম। 

*কিছু বাচন ভঙ্গি, হাতের নাড়াচাড়া এবং একটি নতুন জায়াগা গেলে ঐ পরিস্থিতিতে কি করবে বুঝে উঠতে পারে না। 

 

অটিজম এর কারণ- Causes of autism

 

এখন পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা প্রকৃত কোনো কারণ বের করতে পারেনি। বিজ্ঞানীরা এতটুকু পর্যন্ত পৌঁছেছে যে, অটিজম একটি জীনগত সমস্যা ও পরিবেশগত সমস্যা। জীনগত সমস্যার মধ্যে রয়েছে ডাউন সিনড্রোম। এ ছাড়াও রয়েছে ফ্র্যাজাইল এক্স সিনড্রোম। এই সিনড্রোম গুলোর সাথে অটিজম রোগটি বেশি আসে। যেহেতু এ রোগগুলো জেনেটিক তাই এগুলোর সাথে অটিজম বেশি আসে বলে মনে করেন চিকিৎসকরা। কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায়, কোনো শিশু জন্মের পর অনেক ছোট আকারের হলেও পরবর্তীতে অটিজম আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি। এ ছাড়া আরো যেসব কারণ রয়েছে-

*বাবার বয়স যদি চল্লিশের উপরে হয় এ ক্ষেত্রে অটিজমে শিশু জন্ম হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। 

*জন্মের সময় কোনো অসুবিধার কারণে যদি নিউরো কেমিকেল ট্রান্সমিটারের অসুবিধা থাকে তখনও শিশুর অটিজম হওয়ার আশঙ্কা থাকে। 

*হরমোনজনিত অসুবিধার কারণে হতে পারে। 

*ওষুধের বাড়তি বা ঘাটতি অটিজমের মাত্রাকে বাড়িয়ে দিতে পারে। 

*গর্ভাবস্থায় অধিক দুশ্চিন্তা করা।

 

অটিজম এর চিকিৎসা- Treatment of Autism

 

এ রোগটি সম্পূর্ণ নিরাময় করা সম্ভব নয়। কারণ, এটি জেনেটি। আবার অন্যদিকে রোগীর তুলনায় চিকিৎসা সেবা অপ্রতুল। প্রথমে রোগটি নির্ণয় করতে হবে। এ ধরনের রোগীদের মধ্যে কিছু হাইপার অ্যাক্টিভিটি (অতিরিক্ত চঞ্চলতা) থাকে। খাওয়ার অসুবিধা থাকে। হজমের অসুবিধে থাকে, খিঁচুনি থাকে। এ ধরনের রোগের চিকিৎসার জন্য চিকিৎসক যথেষ্ট কিন্তু এ রোগগুলোর কিছু ব্যবহারিক শিক্ষার জন্য একজন সাইকোলজিস্টের প্রয়োজন হয়, একজন স্পিচ থেরাপিস্টের প্রয়োজন হয়। এ শিশুদের শিক্ষার জন্য এবং ব্যবস্থাপনার জন্য তাদের একটি বিশেষ স্কুলের প্রয়োজন হয়। দেশে অটিজম আক্রান্তের তুলনায় স্কুলের পরিমাণ অনেক কম। তবে সরকারের সুনজর থাকায় এ সংক্রান্ত কিছু সরকারি প্রতিষ্ঠান করা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে বেসরকারি কিছু প্রতিষ্ঠানও। যারা কাজ করছে এ সমস্ত শিশুদের নিয়ে। অটিজম শিশুদের জন্য যে চিকিৎসা প্রয়োজন তা হলো-ব্যবহারিক চিকিৎসা। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা। কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রয়োজন হয় একটি বিশেষ স্কুল সেবার। এজন্য দেশে আরো অনেক বেশি বিশেষ স্কুল দরকার।

READ MORE:  সুস্বাস্থ্য রক্ষায় পাট শাক এর ভূমিকা