সাদা চিনি নীরব ঘাতক, বাঁচতে চাইলে খান লাল চিনি

সাদা চিনির অপকারিতা

চিনি

চিনি আমাদের কার না খেতে ভালো লাগে। যেকোনো খাবার রান্নায় এক অত্যাবশ্যকীয় উপাদান হলো চিনি। আমরা যে চিনি খাই তা হলো পরিশোধিত চিনি বা সাদা চিনি। চা, কফির কাপ থেকে শুরু করে পায়েস, সেমাই, কেক, পনির, ফাস্টফুড  ইত্যাদি প্রায় সব খাবার তৈরিতেই সাদা চিনি একটি অপরিহার্য উপাদান। কিন্তু আমরা কি জানি যে সাদা চিনি একটি নিরব ঘাতক। সাদা চিনি আমাদের শরীরের জন্য যেমন উপকারী তেমনি এর মাত্রা অতিরিক্ত গ্রহণ আমাদের সুস্বাস্থ্যের পথে  নিয়ে আসে নানা রকম রোগ ব্যাধি ও বিপদ। আমাদের শরীরের জন্য চিনি গ্রহণের স্বাভাবিক মাত্রা হলো দৈনিক ৬ চা চামচ। কিন্তু বর্তমানে আমরা যেসব খাবার খাই সেই সব খাবারে চিনির ব্যবহার এতই বেশি যে বর্তমানে আমাদের দৈনিক চিনি গ্রহণ করার পরিমাণ হলো প্রায় ২২ চা চামচ এর সমান। বোঝাই যাচ্ছে স্বাভাবিক মাত্রার তুলনাই আমরা অনেক বেশি চিনি খাচ্ছি, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। আসুন জেনে নিই সাদা  চিনি আমাদের শরীরের কেমন ক্ষতি করে।

 

চিনির সংকেত 

চিনির সংকেত – C12H22O11

 

সাদা চিনির ক্ষতিকর দিক

 

আমরা যে সাদা চিনি খাই তা কিন্তু সাদা থাকে না। চিনি তৈরি হয় আখ থেকে। আখের চিনি হয় লাল রংয়ের। এই লাল চিনি রিফাইন করে সাদা চিনি তৈরি করা হয়। কিন্তু এই রিফাইন অর্থাৎ পরিশোধনের প্রক্রিয়ার কারণে চিনির মধ্যে থাকা মিনারেল, ভিটামিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান  বাদ পড়ে যায়। ফলে সাদা চিনিতে থাকে শুধু মাত্র শর্করা। শুধু শর্করা আমাদের শরীরের জন্য অপকারী। সরাসরি শর্করা গ্রহণে আমাদের শরীরে টক্সিক মেটাবোলাইট সৃষ্টি করে। টক্সিক মেটাবোলাইট মানে হলো রাসায়নিক যৌগকে আরও বিষাক্ত আকারে রূপান্তরিত করা। এরফলে আমাদের স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি হয়। কোষে ঠিকমতো অক্সিজেন পৌঁছাতে পারে না। অক্সিজেনের অভাবে কোষ মারা যায়। কোষ মারা যাওয়ার কারণে শরীরের অঙ্গের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। চিনির মধ্যে রয়েছে ফ্রুক্টোজ। এই ফ্রুক্টোজ অত্যধিক গ্রহণে যকৃতে নানা ধরনের জটিল রোগ সৃষ্টি হয়। চিনি খাওয়ার ফলে ডোপামিন হরমোনের নিঃসরণ বেড়ে যায়। ডোপামিন হলো সেই হরমোন যেটি আমাদের মস্তিষ্কে খুশির অনুভূতি সৃষ্টি করে। কিন্তু চিনি বেশি খেলে এই হরমোন যখন বেশি নির্গত হয় তখন এর স্বাভাবিক প্রবাহছন্দ নষ্ট হয়। ফলে আমাদের ঘন ঘন ক্ষুধা লাগে। অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণে মেদ ও ওজন বেড়ে যায়। মেদ বেড়ে গেলে হৃদরোগ, ডায়বেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদি নানা ধরণের জটিল মরণব্যাধি সৃষ্টি হয়। চিনি পরিশোধনের প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করা হয় সালফারের গুড়া, যা আমাদের হাড় ক্ষয় করে। দীর্ঘ দিন চিনি খাওয়ার ফলে কিডনী বিকল হতে পারে। চিনি এবং চিনি প্রক্রিয়াজাত বিভিন্ন খাবার গ্রহণ গত ৫০ বছরে অনেক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। গবেষকরা আশঙ্কা করছে এইভাবে মাত্রা অতিরিক্ত সাদা  চিনি গ্রহণের ফলে সৃষ্ট নানা রকম রোগ ব্যাধির কারণে আগামী বিশ্বে প্রতি বছরে ৩৫ মিলিয়ন এর মতো মানুষের মৃত্যু হতে পারে। 

 

এখন প্রশ্ন হলো খাবারে স্বাদ আনার জন্য চিনি তো জরুরি। তাহলে চিনি ছাড়া চলবে কিভাবে? সাদা চিনির বিকল্প হিসেবে আমাদের ব্যবহার করতে হবে লাল চিনি। 

 

লাল চিনি 

 

লাল চিনি হলো অপরিশোধিত চিনি। লাল চিনি তৈরি হয় আখ থেকে এবং এটি অপরিশোধিত হওয়ার কারণে সব ধরনের পুষ্টি উপাদান উপস্থিত থাকে। লাল চিনিতে সুক্রোজের পরিমাণ প্রায় ৮৩%।

 

লাল চিনির উপকারীতা-

 

লাল চিনি অপরিশোধিত হওয়ার কারণে এতে ভিটামিন, মিনারেল, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, এমাইনো এসিড, শর্করা, জিংক, রিবোফ্লাভিন,সুক্রোজ ইত্যাদি প্রায় সব পুষ্টি উপাদান বিদ্যমান থাকে। ফলে বোঝাই যাচ্ছে এটি আমাদের শরীরের জন্য কি পরিমাণ উপকারী। লাল চিনি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এতে থাকা ক্যালসিয়াম হাড় শক্ত করে। মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে। লাল চিনিতে এন্টি এক্সিডেন্ট থাকে যা ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করে। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। সর্বোপরি দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। তাই সুস্থ থাকতে চাইলে আজই সাদা চিনি পরিহার করুন এবং লাল চিনি খাওয়ার অভ্যাস করুন।