প্রশ্ন থেকেই প্রশ্ন

সৃষ্টিলগ্ন থেকেই আমাদের কাছে বিজ্ঞান একটি বড় রহস্য। আসলে সত্যি বলতে কোনো কিছু আমাদের কাছে কেবল  তখনি রহস্য মনে হয় যখন আমরা উক্ত রহস্যের পিছনে লুকিয়ে থাকা প্রশ্নের উত্তর খুঁজে না পাই। প্রশ্নগুলো প্রকৃত অর্থে মানবসৃষ্ট। তাই প্রশ্নগুলোই প্রকৃত রহস্য। তেমনি মানবসৃষ্ট বিজ্ঞানের কিছু মজার প্রশ্নের ধারাবাহিকতা দেখব আজ। 
আচ্ছা, হামিং বার্ডের ডানা যদি চৌম্বক সৃষ্ট হতো অথবা এর ডানার প্রান্তে চুম্বক সংযোগ করে দেয়া যেত তাহলে কি হত? 
আসলে যদি পাখিগুলোকে তড়িৎ তারের কুন্ডলীর কাছাকাছি উড়তে দেয়া যেত তবে আমরা সেখান থেকে বিদুৎ পেতাম।
কুন্ডলীর কাছে উড়তে দেয়া চুম্বকের ডানাযুক্ত হামিং বার্ড থেকে বিদ্যুৎ!! কিভাবে সম্ভব? 
আসলে চুম্বকের উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর মধ্যে অদৃশ্য চৌম্বক বলরেখা থাকে। বলরেখা গুলোকে চৌম্বক ফ্লাক্স বলে। যখন কোনো কুন্ডলীতে সেই ফ্লাক্সের পরিবর্তন ঘটে তখন সেই কুন্ডলীতে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। যতক্ষণ পরিবর্তন, ততক্ষণ বিদ্যুৎ আর এভাবেই হামিং বার্ড থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হত। অর্থাৎ পাখি উড়লেই বিদ্যুৎ। 
কিন্তু একটা প্রশ্ন, এই বিদ্যুৎ দিয়ে কি কাজ করব?
আসলে বিদ্যুৎ আবিষ্কারের প্রকৃত সার্থকতা সেদিনই পাওয়া গিয়েছিল যেদিন বাল্ব আবিস্কারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ দিয়ে আলো পাওয়া যায়। 
আচ্ছা, আলো কি? 
নিউটন বলেছেন আলো কণা। হাইগেন বলেছেন তা তরঙ্গ। ম্যাক্সওয়েল বলেছেন তাড়িৎ -চৌম্বক তরঙ্গ। ম্যাক্স প্লাঙ্ক বলেছেন আলো ছোটো ছোটো কোয়ান্টা বা প্যাকেটের সমষ্টি। তিনি সেগুলোকে ফোটন নামে অভিহিত করেন। 
আচ্ছা এই ফোটন দিয়ে আর কি কাজ করা যেতে পারে?
শুরু হয়ে গেল আবার প্রশ্নের পিছনে বিজ্ঞানের গবেষণা। পরীক্ষা শুরু এবং শেষ। কিন্তু শেষ করার আগে কিছু ভালো ফলাফল। 
পরীক্ষার মাধ্যমে দেখা যায় যখন কোনো উচ্চগতি সম্পন্ন ফোটন কোনো নির্দিষ্ট ধাতুর উপর আপতিত হয় তখন সেই ধাতু থেকে উচ্চগতি সম্পন্ন ইলেকট্রন নির্গত হয়। আর আমরা জানি ইলেকট্রনের গতি মানেই হলো বিদ্যুৎ। অর্থাৎ আলো থেকে বিদ্যুৎ। মহাকালের শ্রেষ্ঠ মেধাবী বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন এই পরীক্ষার নাম দেন ফটোতড়িৎ ক্রিয়া এবং এর জন্য উনাকে ২০২১ সালে দেয়া হয় নোবেল পুরস্কার। 
এরপরই নতুন প্রশ্নের উদ্ভাবন। 
আচ্ছা যদি এই ফটো তড়িৎ প্রক্রিয়াটি উল্টে দেয়া হয় তবে কি ঘটবে? অর্থাৎ উচ্চগতি সম্পন্ন ইলেকট্রন দিয়ে কোনো ধাতুকে আঘাত করলে কি ঘটবে? 
প্রকৃত অর্থে উল্টো ব্যাপারটিই ঘটবে। সেই ধাতু থেকে অত্যন্ত গতি সম্পন্ন শক্তিশালী ফোটন পাওয়া যাবে। এ বিষয়টির উপর ভিত্তি করেই আজকের মেডিকেল শাস্ত্রের উন্নয়ন ঘটে। কারণ X- ray বা রঞ্জন রশ্মি এভাবেই উৎপন্ন হয়। সেক্ষেত্রে ধাতু হিসেবে ব্যবহৃত হয়  Molybdenum অথবা Tungsten. 
আচ্ছা এখন যদি এই এক্স রে মেশিনের ভেতর হামিং বার্ডে ঢুকিয়ে দেই তবে কি হবে? 
প্রকৃতপক্ষে ফটোগ্রাফিক ফিল্মের ওপর আমরা হামিং বার্ডের দেহের মাংসহীন শুধু হারের সুন্দর  একটা ফটো পাব। কারন x-ray হার ভেদ করতে পারেনা। 
আচ্ছা রোবটিক কৃত্রিম কোনো হামিং বার্ডের দেহ যদি মলিবডেনাম বা টাংস্টেন এর তৈরি হয় তাহলে কি ঘটবে????!!!
লেখক,
মোঃ রিফাত ভূঁইয়া
পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, দিনাজপুর