চোখ এর যত্ন নিতে করণীয়গুলো কি?

চোখ

চোখ আল্লাহ তা’য়ালার এক অপরিসীম নেয়ামত আমাদের জন্য। চোখ ছাড়া আমাদের পুরো দুনিয়া অন্ধকার। আমাদের উচিত আমাদের চোখের যত্ন নেওয়া। চোখের যত্ন ঠিকমতো না নিলে চোখে নানা রকম রোগের সৃষ্টি হতে পারে। হারিয়ে যেতে পারে আমাদের দৃষ্টিশক্তি। চলুন জেনে আসি চোখের যত্ন নেওয়ার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ সম্পর্কে।

 

পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ :

 

 প্রতিদিনের চোখের যত্ন নেওয়ার চেষ্টা করুন। পুষ্টিকর খাবার চোখ সুস্থ রাখতে অত্যন্ত জরুরি। পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ ছাড়া চোখ রোগমুক্ত রাখা অসম্ভব। ভিটামিন সি চোখের জন্য অনেক উপকারী। কমলা, করমচা, আমলকি এবং লেবুর মতো ফলগুলি ভিটামিন সি সমৃদ্ধ, যা চোখকে বিভিন্ন রকম মারাত্মক সংক্রমণ এবং রোগ থেকে রক্ষা করে। জিংক, ফসফরাস, লৌহ এবং অন্যান্য খনিজ উপাদান আমাদের চোখের দৃষ্টিশক্তিকে উন্নত এবং শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। ডিম, আঙ্গুর, আপেল, জাম, আমে  প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ রয়েছে। ভিটামিন এ রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে। গাজরেও প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ রয়েছে যা দৃষ্টিশক্তি উন্নতি করতে মারাত্মকভাবে সহায়ক।  ফলমূল, শাকসবজি শরীরের জন্য অতি প্রয়োজনীয় উপাদান যেমন বিটা-ক্যারোটিন, লুটিন এবং লাইকোপিন সমৃদ্ধ, এই ক্যারোটিনয়েড রঞ্জকগুলি ভিটামিন এ-তে পরিণত হয়ে সূর্যের ক্ষতিকর ইউভি রশ্মি থেকে চোখকে রক্ষা করে। পালং শাক, বাঁধাকপির মতো সবুজ শাকসব্জিতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান রয়েছে যা চোখকে ছানি পড়ার মতো মারাত্মক রোগ  থেকে রক্ষা করে। মাছের মধ্যে  ওমেগা-3 ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে  যা স্মৃতিশক্তি এবং মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নত করে। ছোটমাছগুলো চোখের দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। তাই এরপর থেকে বাজারে গেলে আপনি  আপনার চোখের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন, খনিজ এবং এই জাতীয় অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবারের দিকে নজর রাখুন এবং খাদ্য তালিকায় এসব খাবার যুক্ত করুন।

 

যথাযথ আলোর ব্যবহার করুন : 

 

আপনি যে রুমে কাজ করছেন বা অবস্থান করছেন সেখানে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করুন। এ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।  কাজ করার সময় এটা অবশ্যই নিশ্চিত করুন যে আপনার ঘরের আলো খুব বেশি  উজ্জ্বল বা ম্লান না হয়। আপনি যখন কাজ করবেন তখন আপনার জন্য মোটামুটি নিম্ন তীব্রতার বাল্বগুলি ব্যবহার করা ঠিক হবে । যদি আপনি কম্পিউটারে কাজ করেন, আপনার কম্পিউটার স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা, টেক্সট সাইজ, এবং আপনার দৃষ্টিশক্তির উপর প্রয়োজনের সাথে যথাযথভাবে সামঞ্জস্য রেখে  আপনার কম্পিউটারের ব্রাইটনেস ঠিক করে নিন। এই কাজটি আপনাকে  ভিশন সিনড্রোমের সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা হ্রাস করতে সাহায্য করবে। এছাড়া  চোখের ক্লান্তি দূর করবে, যা চোখকে চাপ দেয়। আপনার চোখকে অতিরিক্ত আলোর ঝলকানি থেকে রক্ষা করার জন্য আপনি আপনার মনিটরের জন্য একটি গ্লার ফিল্টার ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া বর্তমানে বিশেষ ধরনের চশমা পাওয়া যায় যা পড়ে কাজ করলে চোখ কম্পিউটার স্ক্রিন থেকে বের হওয়া ক্ষতিকর রশ্মি থেকে হেফাজতে থাকবে। 

 

উপযুক্ত চশমা পরুন : 

 

আমরা যারা চশমা ব্যবহার করে থাকি তাদের জন্য উপযুক্ত চশমা ব্যবহার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনাকে সবসময় খেয়াল রাখতে হবে যে আপনি আপনার চোখের দৃষ্টিশক্তির ত্রুটি অনুযায়ী ডাক্তারের পরামর্শ মোতাবেক সঠিক পাওয়ারের গ্লাস ব্যবহার করছেন। এছাড়াও তীব্র রোদের আলোর মধ্যে  আপনার চোখ যেন সুরক্ষিত থাকে  তা নিশ্চিত করার জন্য উন্নত মানের সানগ্লাস ব্যবহার করুন। আপনি যদি সাঁতারু হয়ে থাকেন তবে  পুল গগলস আপনার চোখকে পানির মধ্যে উপস্থিত  ক্লোরিনের সংস্পর্শে এড়াতে দারুণভাবে সাহায্য করবে। যদি কলকারখানায় কাজ করেন অথবা নিজের প্রয়োজনে বাড়িতেই কিছু তৈরি করেন, তবে অবশ্যই প্রটেক্টর গ্লাস তথা  নিরাপত্তা চশমা ব্যবহার করুন।  নিরাপত্তা চশমা আপনার চোখকে ধূলিকণা, ব্যাকটেরিয়া এবং  অন্যান্য আঘাত থেকে রক্ষা করতে পারে। পোলারাইজড  সানগ্লাস আমাদের চোখকে বাইরের পরিবেশের  উজ্জ্বল আলো এবং একইসাথে  চোখকে UVA এবং UVB রশ্মির সংস্পর্শ থেকে রক্ষা করে।

 

আপনার চোখকে বিরতি দিন : 

 

একটানা দীর্ঘ সময় কাজ করার ফলে আপনার চোখের পেশিগুলির ওপর চাপ পড়তে পারে। বিশেষ করে যাদের কাজগুলো অনলাইন নির্ভর তাদের ক্ষেত্রে বিরতিহীন  ল্যাপটপ, কম্পিউটারের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার ফলে তাদরে চোখে মারাত্মক প্রশার পড়তে পারে। চোখের পেশীগুলির ওপর  চাপ এড়াতে পর্যাপ্ত বিশ্রামের প্রয়োজন। তাই এক্ষেত্রে আপনি যদি সারাদিন কম্পিউটারে কাজ করেন, তাহলে অবশ্যই আপনাকে কাজের মাঝে বিরতি দিতে হবে।  একটানা ২০ মিনিট কাজ করার পর কিছু সময় চোখ বন্ধ করে বিশ্রাম নিন। এই ভাবে ২০ মিনিট ধরে কাজ করার পর যদি বিশ্রাম নেন তা আপনার চোখের কার্যকারিতা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে। ডাক্তারদের পরামর্শ হলো  প্রতি 20 মিনিট পর আপনি আপনার কম্পিউটার মনিটর থেকে দূরে তাকান এবং আপনার দৃষ্টিকে 20 ফুট দূরে একটি বস্তুর দিকে স্থির করুন। এই সময় চোখে হালকা পানির ঝাপটা দিতে পারেন।  এভাবে চোখকে বিশ্রাম দিলে চোখ অনেক অসুস্থতা থেকে দূরে থাকে। চোখের ক্ষতি কম হয়। 

 

আপনার চোখ স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন: 

 

আমরা সারাদিন হাত দিয়ে কতই না কাজ করি। এসব কাজ করার ফলে আমাদের হাত প্রচুর ধুলো, ময়লা এবং ব্যাকটেরিয়ার সংস্পর্শে আসে, এখন আমরা যদি আমাদের হাতকে বারবার আমাদের চোখে নিয়ে স্পর্শ করি তবে এই ক্ষতিকর ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়াগুলো  সহজেই আমাদের চোখে স্থানান্তরিত হতে পারে। যখন আপনি আপনার চোখ ঘষবেন বা স্পর্শ করবেন, তখন এসব রোগ জীবাণু আপনাদের চোখে প্রবেশ করে  চোখে জটিল রোগ সৃষ্টি করতে পারে। তাই বারবার চোখ চুলকানো এবং চোখ স্পর্শ করার বাজে স্বভাব আমাদের পরিত্যাগ করতে হবে। নিয়মিত আমাদের হাত ধুতে হবে সাবান দিয়ে। আর অবশ্যই  চোখের সাথে হাতের যোগাযোগ থেকে বিরত থাকতে হবে। এছাড়াও আপনার চশমা এবং কন্টাক্ট লেন্স পরিষ্কার করুন নিয়মিত। এটির ফলে  চোখের চারপাশে জীবাণু হ্রাস হয় এবং নানা রকম রোগ ব্যাধি থেকে মুক্ত থাকা যায়।

 

হাইড্রেটেড থাকুন: 

 

পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান আমাদের দেহের সামগ্রিক সুস্থতার জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ। চোখের সুস্থতার জন্যও আমাদের উচিত পর্যাপ্ত পরিমানে পানি পান করা। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করলে চোখ হাইড্রেটেড থাকে। শুধু চোখ নয়, আমাদের পুরো শরীরের সুস্থতা এবং সুস্বাস্থ্যের জন্য পানি পানের কোনো বিকল্প নেই। 

 

ধূমপান বন্ধ করুন:

 

 ধূমপানের সময় যে ধোঁয়া বের হয় তা আমাদের চোখের জন্য ক্ষতিকর। চোখের যেকোনো  গুরুতর অবস্থার জন্য ধুমপান অত্যন্ত  সংবেদনশীল। ধূমপান করার ফলে চোখের অপটিক স্নায়ুর ক্ষতি হয়, এর ফলে আমাদের চোখে নানা রকম রোগের সৃষ্টি হয়। যা সময়ের সাথে সাথে আমাদের দৃষ্টিতে আরও  বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়াও ধুমপানের কারণে ক্যান্সার হয় তা তো আমাদের সবারই জানা। তাই শরীরের সামগ্রিক সুস্থতার জন্য ধুমপান থেকে বিরত থাকুন। 

 

এছাড়াও প্রতিটি ব্যক্তির উচিত চোখে কোনো সমস্যা না থাকলেও প্রতি ২ বছর পর পর অত্যন্ত একবার ডাক্তার দ্বারা চেকআপ করানো।