একটুখানি প্রেমের গল্প – অমিতা মজুমদার

অনেক দিন ধরে শিশির মেঘকে একখানা চিঠি লিখতে চায়, কিন্তু অনভ্যাসে বিদ্যা হ্রাস”। | শিশিরকণা চিঠিটা লিখে উঠতেই পারছে না। এই প্রবীণ নিবাসে আছে তা প্রায় বছর তিনেক হবে। | শুভংকরের মৃত্যুর পর সে নিজেই ছেলে মেয়েকে বলে এখানে রাখার জন্য। সে চায়নি তার এই অশক্ত শরীরের বােঝা নিয়ে ছেলে-মেয়ের ব্যস্ত জীবনে তাদের কোনাে অসুবিধায় ফেলতে। এখানে সে নিজের মতাে করে ভালােই আছে। এই তিন বছরে অনেকবারই মেঘের কথা মনে হয়েছে ইচ্ছে করেছে তাকে একবার দেখবে। তাই আজ সে সত্যিই চিঠি লিখতে শুরু করে —

সেই যে, এত এত চিঠি তােমাকে লিখেছি আজ শত চেষ্টাতেও একটা লাইন লিখতে পারছি না। একি বয়সের দোষ না কী সময়ের দাবি! তােমার মনে আছে, বাদাম গাছে কাঠঠোকরা পাখিটা বাসা বেঁধেছিল সেটার কথাও আমি তােমাকে জানাতে ভুল করিনি। সেবার বৈশাখ মাসে হঠাৎ মাঝ রাতে মেঘ ডেকে কেমন জল চলে এলাে বাড়ির উঠোন অবধি, সেই জলের সাথে বাইন, শিং, শােল, | চিংড়িমাছ এলাে। সবাই নেমে পড়েছিলাম হারিকেন, কুপিআর দা, কাস্তে নিয়ে। মাছ কুপিয়ে ধরার জন্য। সে-কথাও তােমাকে লিখে জানিয়েছিলাম।

মনে হতাে তুমি দূরদেশে আছ, তােমার মন কেমন করে হয়তাে। সবে গ্রাম থেকে শহরে গিয়েছিলে | তুমি। চার পাঁচ ঘন্টার লঞ্চপথ তাই-ই মনে হতাে দূর বিদেশ। আমার চোখেই না-হয় তুমি দেখ ছেড়ে যাওয়া গ্রামের ছবি। জোয়ারের জল যখন আমাদের ঘরের পাশের ছােট্ট খাল দিয়ে আসতাে তখন তার সাথে যে লাল চিংড়ি ছােট ছােট দারিনা ককরিনা মাছ আসতাে, তাও তােমায় লিখতে ভুলতাম

। যেদিন আমাদের ঘরের পেছনের কদম গাছটায় প্রথম ফুল ফুটেছিলতার বর্ণনা দিতে গিয়ে আন্ত একটা রচনা লিখে ফেলেছিলাম। তখনতাে আর এখনকার মতাে কথায় কথায় ছবি তােলার উপায় ছিল না।

সেবার যখন তুমি শহর থেকে এলে, আমি সেদিন শখ করে বড়দিদিবা মায়ের জন্য আনানতুন শাড়ি পরেছিলাম। তখন সবে হাফপ্যান্ট ছেড়ে সালােয়ার ধরেছি খুব শখ হয় বড়ােদের মতাে শাড়ি পরে ঘুরে বেড়াই। লুকিয়ে ঘােমটা মাথায় দিয়ে নিজেকে বৌ সাজিয়ে দেখি। আসলে আমাদের জগৎটা। তাে ছিল ওই অবধি, একসময়ে বড়াে হাবাে তারপর বিয়ে হবে। তাই স্বপ্নগুলাে ওইখানে এসেই থেমে যেত। যা বলছিলাম, আমিতাে আর জানতাম না তুমি আসবে। হঠাৎ তােমার সামনে পড়ে খুব লজ্জা | পেয়েছিলাম। তুমিও যেন কেমন করে চেয়েছিলে। আগেকখনাে ওরকম করে আমার দিকে চাওনি।

এমনিতে আমার লজ্জাটজ্জা কম বলে বড়ােদের বকুনি খাইনিয়মিত। সেদিন সত্যিই কেমন অস্বস্তি

তারপর থেকে আমাদের চিঠির ভাষা কেমন বদলে গেল। প্রথম প্রথম তােমার লেখা সবটা বুঝতাম না, তবে পড়তে ভালাে লাগত। বাড়ির সবাইকে লুকিয়ে বার বার পড়তাম। কেমন একটা নেশা ধরে যেত। আমিও খেটেখুটে লিখতাম সব কল্পকথা। এই যেমন, “আমরা দুজনা স্বর্গ রচনা করিব ধরণীতে। নীড় ছােট ক্ষতি নেই আকাশ তাে রয়েছে বড়ো। শুকনাে গােলাপের পাপড়ি, নীল খাম, চিঠি লেখার রঙিন কাগজ, সাথে রবিবারের ডাকের আশায় পিয়নের বাড়িতে বসে থাকা আরাে কত কী! শুনেছি এখন তুমি না কী থাকে কোন দূরদেশে, অনেক বড়াে পণ্ডিত হয়েছ, অনেক নাম-ডাক তােমার। গণ্যমান্য লােকেদের সাথে তােমার ওঠাবসা। দেশে এলেও তােমার সাথে দেখা করার জন্য নাম লেখাতে হয়। সুন্দরী বিদুষী স্ত্রী, পুত্র কন্যা নিয়ে সাজানাে সংসার তােমার।

কেন যে আজ এত কথা মনে হচ্ছে কে জানে? আচ্ছা আমি যদি ছেলে হতাম তাহলে কি আমাদের মাঝে সুন্দর বন্ধুত্বের সম্পর্কটা থাকত? আমিও যদি লেখাপড়া শিখে তােমার মতাে পণ্ঠিত হতাম তাহলে কি তুমি আমার সাথে যােগাযােগ রাখতে? আমার যে কেন এত মায়া তােমার জন্য তাও বুঝি না।

শৈশব কৈশােরের সেই দিনগুলাে ছবির মতাে ভেসে উঠছে বার বার, ঝাপসা হয়ে আসছে চোখ। দূর আকাশে ভেসে বেড়ানাে মেঘেদের দেখে বুকের ভেতরটা কেমন চিনচিন করছে।

একথা যে লিখলাম, তােমার কাছে পৌছাবে তাে আমার এ চিঠি? তােমার পড়ার সময় হবে আমার এই ছেলেমানুষী কড়চা? এসব ভাবতে ভাবতে শিশির চোখের চশমাটা অচিলের কোণা দিয়ে অভ্যাস মতাে মুছে নিয়ে আবার পড়তে লাগলাে নিজের লেখা চিঠিখানা। আজ তুইল চেয়ারে বসে সামনে বৃদ্ধাশ্রমের একচিলতে মাঠের দিকে তাকিয়ে সব কেমন গুলিয়ে যাচ্ছিল শিশিরের। তাদের দেখাশুনা করেন যিনি, সেই দিদির কাছ থেকে কাগজ কলম নিয়ে বসেছিল মেঘকে চিঠি লিখতে। কিন্তু দ্বিতীয়বার পড়তে গিয়ে দেখে কলম দিয়ে একটা অচিড়ও কাটা হয়নি। কাগজ যেমন সাদা ছিল তেমনই সাদা রয়ে গেছে। শিশির সেদিন চিঠিটা লিখে উঠতে পারেনি। তাই আবার আজ বসেছে। খুব ভােরে উঠেছে। রাতেই দিদির কাছে কাগজ কলম চেয়ে রেখেছিল। ঘরের পর্দাগুলাে সরিয়ে দিলাে কিছুটা নিজেই। ঘরের মধ্যে অল্পস্বল্প চলাচল করতে পারে শিশির। কিন্তু বেশি নড়াচড়া করতে গেলে তুইল চেয়ার লাগে। বাইরের যেটুকু আলাে ঘরে আসছিল তাতেই কাগজ কলম নিয়ে বসল। ঘরের একমাত্র টেবিল চেয়ার গতকাল রাতেই হরিপদকে দিয়ে জানালার পাশে রেখেছিল। বেশ কষ্টকরেই আনালা অবধি পৌছাল।

একবার জানালা দিয়ে বাইরের আকাশটা যেটুকু দেখা যায় তার এই একতলার ঘর থেকে, সেটুকু দেখে নিলাে। শরতের সকালের আকাশ তাই কেমন একটা মায়া মায়া ভাব। একটুকরাে সাদা মেঘও আছে তার জানালায় পাওয়া আকাশে। মনে মনে আওড়ালাে আজ সে লিখবেই। তারপর সত্যিই লিখতে শুরু করল।

কেমন আছাে তুমি? এত বছর, তা প্রায় তিনযুগেরও বেশি হয়ে গেল তােমার সাথে দেখা নেই। তুমি কি একটু মুটিয়ে পেছ? তােমার কি সেই এক মাথা চুল এখনও আছে? তাতে কি কিছুটা রূপালি রঙ ধরেছে? নাকি সব উঠে গিয়ে সুদৃশ্য একটি টাকের জন্ম দিয়েছে? ধ্যাৎ, এসৰ লিখছে সে। তােমার কি মনে আছে সেবার আমরা ক্লাস নাইনে উঠেছি সবেমাত্র। জানুয়ারি মাস বলে বেশ শীত। স্কুল থেকে বনভােজনে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল পাশের গ্রামে। এখনকার মতাে পাড়ি করে নয়, নৌকায় করে। আমি গ্রামে বড়াে হয়েছি বলে আমার তাে ভয় করছিল না। কিন্তু তুমি ছেলে হলেও একটু ভীতুই ছিলে। এই যেমন রাতের অাঁধার, মধ্যপুকুরে সাঁতার কেটে যাওয়া এসব থেকে তুমি একটু দূরেই থাকতে। যাকে বলে গ্রামের লেখাপড়ায় চৌকশ, ভদ্র আদর্শ ছেলে। তাই নেীকায় যখন সবাই হৈচৈ করছিল, তুমি শান্ত হয়ে বসেছিলে। বেশ ভয় পাচ্ছিলে। তখনতাে ছেলে মেয়ে বলে এখনকার মতাে কড়াকড়ি ছিল না। সহজভাবেই আমরা মেলামেশা করতাম। তুমি আমার হাতটা শক্ত করে ধরেছিলে। নৌকা একটু দুললেই তুমি আরও শক্ত করে ধরতে। সেই কৈশােরের শেষলগ্নে কেমন আচ্ছন্নের মতাে দুজন দু’জনের হাত ধরে বসেছিলাম এক অজানা ভালােলাগায়। পাশাপাশি বাড়িতে থাকতাম বলে সময়ের সাথে সাথে দু’জন দু’জনের শরীর-মনের পরিবর্তনগুলাে অনুভব করতাম দেখতাম অবাক বিস্ময়ে। সেবার যেন শরৎ এলাে অন্যরকম এক আবেশ নিয়ে। তােমার ঘরের কোণে যে শিউলিগাছটা ছিল সেটার ফুলগুলাে যেন শুধুআমার জন্যই ফুটতাে। অন্ততঃ তখন তেমনটাই মনে হতাে। সে বছরই প্রথম শাড়ি পরে পূজা দেখতে গেলাম। পূজার মন্দিরে তােমাকেই খুঁজতাম। তুমিও কেমন করে যেন আলাদা পেলেও ঠিক যে মন্দিরে আমি যেতাম সেখানেই যেতে। আড়চোখে চেয়ে দেখতাম তুমি কোনদিকে চেয়ে আছাে। সত্যি বলতে কি যদি দেখতাম অন্য কোনাে মেয়ের দিকে চেয়ে আছ তাহলে মােটেও ভালাে লাগত না। তুচ্ছ তুচ্ছ কারনে মান অভিমান আমাদের লেগেই থাকত। তুমি এ ব্যাপারে বেশি জেদী ছিলে, তাই আমাকেই সবসময়ৰ মান ভাঙাতে হতাে। তােমার চোখে থাকত অপেক্ষার আকুতি, কিন্তু সে-সময়ে তা বুঝতাম। আজ এতবছর পরে তােমাকে যখন লিখতে বসেছি তখন সেই সময়ের প্রতিটা পল যেন সামনে এসে দাঁড়াচ্ছে। আর থামিয়ে দিচ্ছে আমার হাত। নিয়ে যাচ্ছে সেই সময়ে যখন আমরা ছিলাম পাশাপাশি। কখনাে কখনাে আমরা মেতে উঠতাম সেই আনন্দে যাকে আজ মনে হবে নিতান্তই ছেলেমানুষী। এই যেমন ধরাে বসন্তকালে বিৗৰ পােকা ধরে কোটায় পুরে একেক জনের ক্ষানের কাছে ধরা। কিংবা ছুটিরদিনে দুপুরবেলা খাতায় কাটাকুটি খেলার ফাঁকে তুমি হয়তাে লিখলে একটা কবিতার লাইন, আমিও লিখলাম। তখন যেটা ছিল শুধুই কবিতার লাইন, আজ তা কঠোর জীবন বােধ। দুজনেই দুজনার পাণ্ডিত্য জাহিরকরার জন্য উদগ্রীব থাকতাম। তবে আজ মানি তুমি সত্যিই পণ্ডিত ছিলে, কিন্তু আমি কাকের মতাে ময়ূরপুচ্ছ লাগিয়ে ঘুরতাম। তুমি ছোট্ট করে খাতার পাতায় লিখে রাখতে রাত্রে যদি সূর্যালােকে ঝরে অশ্রুধারা,সূর্য নাহি ফেরে শুধু ব্যর্থ হয় তারা। আমি হয়তাে লিখতাম “যে নদী মরুপথে হারায়েছে ধারা,

জানি হে জানি তাও। হয়নি হারা”।

ধার করা এই দুটো লাইন লেখা এবং লুকিয়ে পড়া তার মাঝে কী যেন একটা ছিল। যেটা অমােঘ নিয়তির মতােই হয়তাে একে অপরকে টানত। কিন্তু সেই টা আর বােঝার সুযােগ হয়নি। তার আগেই দুজনের জীবনের গতিপথ বদলে গেছে। তারপর কেটে গেছে বেশ কয়েকটা বছর। শিশিরের জীবনের সব উজ্জ্বল আলােগুলাে ততদিনে নিবে গিয়ে একটা নিবুনিবু বাতি জ্বলছে কোনােরকমে। সেইসময়ে আবার তুমি অকস্মাৎ একদিন এলে। কি সুন্দর হয়ে গেছ তুমি এক পরিপুর্ণ যুবক। তারুণ্যের সজীবতা আর বােধের পরিপক্কতায় তুমি এক অন্য মানুষ। যাকে সহজেই বিশ্বাস এবং ভরসা করা যায়। তাই তােমার আহ্বানে শিশির ছুটে গিয়েছিল কোনােরকম দ্বিধা সংকোচ না করেই। কিন্তু সমাজের বিধিনিষেধ আর পরিবারের সংস্কার তাকে ফিরিয়ে নিয়ে আসে তােমার কাছ থেকে। তুমি শিশিরকে ভুল বুঝে দূরে সরে গেলে, আর শিশির চায় নি তার সাথে জড়িয়ে তােমার উজ্জ্বল সম্ভাবনাময় জীবনটাকে জটিল করে তুলতে। সেই যে চলে গেলে আর কোনােদিন জানতেও চাইলে না শিশির কোথায় কেমন আছে। আমি ভালােই ছিলাম। আমার স্বামী সন্তান নিয়ে পরিপূর্ণ সংসার। সে সংসারেও কয়েক যুগ কেটে গেল। তােমারও হয়তাে তাই। দুজনেই আমরা আপন আপন বলয়ে বেশ আছি। আর এই ভালাে থাকাটা তাে আমি নিজেই বেছে নিয়েছি। তবু কেন যেন আমার একান্ত আকাশে তুমি রয়ে গেলে একটুকরাে মেঘ হয়ে। আমি শিশির বলেই হয়তাে তােমায় ছুঁতে পারলাম না। জানি না আমার এ চিঠি সত্যিই তােমার কাছে পৌঁছাবে কি না, আর যদি পৌছায়ও তােমার কাছে আজ তার কোনাে মূলা আছে কি না। আমি কিছু ভেবেও লিখিছি না। তবে আজকাল মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে তােমায় দেখতে। সেই ইচ্ছে থেকেই হয়তাে এই লেখা। আজকাল তাে আর কেউ চিঠি লিখে না। কীসব হয়েছে, ফেসবুক, মেসোর তাতে লিখে সবাই মনের কথা। তুমিও হয়তাে চিঠি বলে কিছু হতে পারে তা বেমালুম ভুলে গেছ। সেই গায়ের মেয়ে মল্লিকাদির মতাে। আজ মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যায়। শরৎ শুক্লাদ্বাদশীর চদি ছিল আকাশে। জানালার পর্দা গলিয়ে কিছুটা আভা ঠিকরে এসে পড়েছিল আমার ঘরে। তখন তােমার জন্য মন কেমন করছিল। তারপর আর গুমাতে পারিনি। ভাবছি নাতনীটা যখন আমার সাথে দেখা করতে আসবে ওকে বলব তোমার কথা। ও যদি এ ফেসবুক টুক খুঁজে তােমায় বের করতে পারে। তাহলে তােমায় একবার দেখতে পাবাে। সে হয়তাে হাসবে খানিকটা আমার এ পাগলামী দেখে। তবে সে ঠিক আমাকে খুঁজে দেবে। কত কথা মনে পড়ছে সেই সেবার সরস্বতী পূজার সময় আমিতাে একেবারে সুর তাল জ্ঞানহীন তারপরেও কেমন চেচিয়ে চেঁচিয়ে বেসুরাে গলায় গান গেয়েছিলাম। আজও সেকথা মনে হলে লজ্জায় মরে যাই। না আজ আর লিখব না। আবার আর একদিন লিখব। তুমি ভালাে থেকো যেখানে যত দূরে থাকো শুধু বলি ভালাে থেকো। এতটা বেলা হয়ে গেছে অথচ মাসিমা দরজা খুলে বাইরে আসছে না দেখে হরিপদ জলখাবার নিয়ে ঘরে এলাে। এসে দেখে বিছানা বালি, মাসিমা জানালার কাছে বসা। মাসিমাকে এখানে আসা অবধি একলা হেটে বেড়াতে দেখেনি হরিপদ। আজ তাকে দেখে একটু অবাক হয়ে কাছে যায়। ছোটখাটো গড়নের মাসিমার মাথায় একটাও চুল নেই। কেমােথেরাপিনাকী একটা যেন দিতে হয় বলে সৰ চুল পড়ে গেছে। চেয়ারে বসা মাসিমাকে একটি শিশুর মতাে লাগছিল। দেখে হরিপদর খুব মায়া হয়। কোলের উপর খাতা কলম, তার মানে মাসিমা কিছু লিখেছেন! কি লিখেছেন দেখি ভেবে হাত থেকে কাগজখানা নিতে গেল। চেয়ে দেখে দু চারটে দাগ ছাড়া কিছুইতাে নেই। আর সেইটুকু ছোঁয়াতেই চেয়ার থেকে পড়ে যাচ্ছিলেন শিশিরকণা দেবী। হরিপদ চমকে গেলাে! একি মাসিমার শরীরতাে হিম।

লেখক,

অমিতা মজুমদার