উজবিক ওনক (কুরআনে বর্ণীত দৈত্য)

এক বিপন্ন বিস্ময় উজবিক ওনক হযরত আদম () এর এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী পৌত্রকয়েক নবীর যুগ পর্যন্ত বেঁচে থাকা ওনক লম্বায় ছিল তিন হাজার গজ

দৈত্যাকার স্বাস্থ্যের অধিকারী ওনকের খাদ্য ছিল একত্রে পাঁচ মন থেকে দশ মনপ্রধান খাদ্যছিল গম মাছনদী সমুদ্রে নেমে সে মাছ ধরে খেতমাছ ধরে সূর্যের তাপে সেকে খেয়ে ফেলতখাদ্যের অভাব ছিল তার জীবনের প্রধান সংকট। 

ওনক একাধারে ছয় মাস ঘুমাতো এবং বাকি ছয় মাস ঘুরেফিরে খাদ্য সংগ্রহে ব্যস্ত থাকতসে যখন মাঠে ময়দানে ঘুমিয়ে থাকতো তখন অনেক পশু তার গা ঘেঁষে শুয়ে থাকত তার শরীরের উম পেতেঅনেক সময় তার পার্শ্বক্রিয়ার কারনে শরীরের চাপে অনেক পশু পিষে মারা যেত

হজরত নুহ (আ) এর সময়ে প্রবল বন্যার প্রস্তুতি স্বরুপ জাহাজ বানানোর কাজে দরকারি নীল নদের তলদেশের অনেক গাছ উত্তোলনের কাজ করেছিল ওনকগাছ তুলে আনার পর নূহ () এর দেওয়া অঙ্গীকারের প্রেক্ষিতে ওনক খাবার প্রার্থনা করলো নবি তাকে তিনটি রুটি দিলেন। এতে সে রাগান্বিত হয়ে বলল, পর্যাপ্ত খাবার দেওয়ার অঙ্গীকার করলেও মাত্র তিন খানা রুটি দিয়ে আমাকে প্রহসন করছো? অতঃপর নূহ (আ) তাকে রুটিগুলো জামার নিচে রাখতে বললেন এবং একটি একটি করে খেতে বললেন। ওনক তাই করল এবং দেখল এক একটি রুটির সাইজ অনেক বড় হয়েছে এমনকি খাবার পরও রুটি ঐ তিনটিই থাকছে। এভাবে একটি একটি করে সে বারশ রুটি খেয়ে ফেললো এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলল, হে নূহ! তুমি আমাকে অনেক দিন পরে পেট ভরে খাওয়ালেপ্রকাশিকা

    নূহ (আ) এর সময়ের সর্বনাশা প্লাবনের সময়ে ওনক আল্লাহর কাছে সাহায্য চায়। আল্লাহ ওনককে সাহায্য করেন। প্লাবনের মাঝে এক পর্বত শৃঙ্গ কে অনেক উঁচু করে দেন। এ শৃঙ্গ জড়িয়ে ধরে ওনক এর জীবন রক্ষা পায়। 

 

এ বিশালাকার দৈত্যের মৃত্যু হয় হযরত মূসা (আ) এর সময়ে। ওনক  আল্লাহে বিশ্বাসী হলেও ধর্ম-কর্মের ব্যাপারে সে ছিল উদাসীন। মূসা (আ) তার নিকট দ্বীনের দাওয়াত দিতে এলে সে বলল, আমাকে সর্বদা খাবার যোগাড়ে ব্যস্ত থাকতে হয়। আল্লাহ আমাকে নিয়মিত খাবার দিতে পারে না, তার উপর ঈমান আনলে কি হবে! এ কথা শুনে মূসা (আ) রাগান্বিত হয়ে তার আলৌকিক লাঠিতে ভর করে ষাট গজ উপরে উঠে তাকে সজোরে লাঠি দিয়ে আঘাত করলেন। এ  আঘাত একশ বিশ গজ উপরে গিয়ে লাগে। কিন্তু ওনক এতটাই বিশাল ছিল যে আঘাতটি তার হাটুর উপরে পতিত হয়। এ আঘাতে ওনক ব্যথা অনুভব করে। এতে সে রেগে গিয়ে সুউচ্চ পর্বত শৃঙ্গ মাথায় তুলে নিয়ে মূসা (আ) কে চাপা দিতে উধ্যত হয়। এমতাবস্থায় দুটি পাখি ঐ পর্বত শৃঙ্গে ঠোকরাতে  শুরু করে। এতে করে সেখানে গর্তের সৃষ্টি হয় এবং উক্ত গর্ত উজের মাথায় গেড়ে যায়। তখন তার পক্ষে কোন কিছু দেখা সম্ভব হয় না। উপরন্তু এ আটকে যাওয়া পর্বত এমনভাবে গেঁথে যায় যে তাকে উঠানো-নামানোও সম্ভব হয় না। এমতাবস্থায় সে এক নদীর ভাঙ্গনে পা দিতেই উপর হয়ে এমন ভাবে নদীর মাঝে পড়ে যায় যে তার মাথা পর্বতের ভাড়ে পানির মধ্যে ডুবে যায় এবং তার পা উপরে উঠে যায়। এ অবস্থাতেই মৃত্যুবরন করে কিম্ভূতকিমাকার উজবিক ওনক।