ফুলের গন্ধে কি সাপ আসে?

 

হাসনাহেনা ফুল গাছের ফুলের গন্ধে নাকি গাছের নিকট সাপ আসে! এমন একটি কথা আমাদের সমাজে প্রচলিত। ছোটোবেলা থেকে আমরা আমাদের বাবা মা এর কাছে এমন কথা শুনে এসেছি। তাই হাসনাহেনা ফুল গাছের পাশ দিয়ে যেতে আমরা অনেক সময় ভয় করি। সাবধানে হাসনাহেনা ফুল গাছের নিকট দিয়ে আমরা যাওয়া আসা করি যেন সাপের কামড় খেতে না হয়। কিন্তু সত্যিই কি হাসনাহেনা ফুল গাছের ফুলের গন্ধে সাপ আসে? নাকি এটি শুধুই একটি কুসংস্কার? যদি সাপ হাসনাহেনা ফুলের গন্ধে গাছের নিকট এসে থাকে তবে এর পিছনে কি ধরনের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আছে? চলুন জেনে আসার চেষ্টা করি। 

 

আসলেই হাসনাহেনা ফুল গাছের নিকট মাঝে মাঝে সাপ দেখা যায়। সাপ কেন হাসনাহেনা ফুল গাছের নিকটে আসে সেটি বুঝতে হলে আমাদের খাদ্য শৃঙ্খল বিষয়টি বুঝতে হবে। আমরা প্রায় সবাই খাদ্য শৃঙ্খল, খাদ্য জাল এই শব্দগুলোর সাথে পরিচিত আছি। খাদ্য শৃঙ্খল বলতে খাদ্য উৎপাদনকারী উৎস থেকে শক্তি পর্যায়ক্রমে প্রথম স্তরের খাদক, দ্বিতীয় স্তরের খাদক, তৃতীয় বা সর্বোচ্চ স্তরের খাদক হয়ে বিয়োজকের মাধ্যমে পুনরায় পরিবেশে ফিরে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে বোঝায়। অনেকগুলো খাদ্য শৃঙ্খল একত্রে গঠন করে খাদ্য জাল। হাসনাহেনা ফুল গাছের নিকট এমনি একটি খাদ্য শৃঙ্খল গড়ে ওঠে। 

 

হাসনাহেনা ফুল গাছের ফুলে বিশেষ ধরনের সুমিষ্ট মধু থাকে। এই মধু খাওয়ার জন্য নানা রকম পতঙ্গ পোকামাকড় ইত্যাদি হাসনাহেনা ফুল গাছের কাছে আসে। পোকামাকড় পতঙ্গ এসব আবার ব্যাঙ, টিকটিকি, মাকড়শা এদের প্রিয় খাবার। ব্যাঙ, মাকড়সা, টিকটিকি এসব প্রাণী পোকামাকড় এবং নানা ধরণের  পতঙ্গ খেয়ে বেঁচে থাকে। সাপের পছন্দের তালিকার সেরা খাবার হলো ব্যাঙ, টিকটিকি, মাকড়সা। সাপ এসব খাবারের সন্ধানে হাসনাহেনা গাছের নিকট আসে। এভাবে হাসনাহেনা ফুল গাছকে কেন্দ্র করে একটি খাদ্য শৃঙ্খল তৈরি হয়। 

 

ফুলের মধু < পোকামাকড় < ব্যাঙ, টিকটিকি, মাকড়সা< সাপ < বিয়োজক 

 

এ কারণেই হাসনাহেনা ফুল গাছের নিকট সাপকে দেখতে পাওয়া যায়। সাপ কিন্তু ফুলের গন্ধে আসে না। কারণ সাপের ঘ্রাণ শক্তি অত্যন্ত ক্ষীণ। তাই হাসনাহেনা ফুল গাছের গন্ধে সাপের আসায় প্রশ্নই ওঠে না। শুধু হাসনাহেনা ফুল গাছ নয়, অন্যান্য সুগন্ধি ফুল গাছের ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটে থাকে।