পরিশ্রমী – কবিতা

মাথার ঘাম পায়ে ফেলে,
দু’ মুঠো অন্ন আর খাওয়ার জলে-
ক্ষুধা কি মিটে খুব সহজে?
তোমাদের কাঁধে কত বোঝা,
সে কাজ কি এত সোজা?
এত ইট, এত বস্তা,
ধনী লোকের কাছে তোমরা খুব সস্তা।
তবে তোমারই তাদের শেষ আস্থা।
পড়ছে রোদ, ঝরছে ঘাম, চলছে গাড়ি
ক্লান্ত হয়ে ফিরবে বাড়ি।
বলো তো,

তোমাদের কষ্টের চেয়েও বড় কি মজুরি?
আমার জানা নেই এর উত্তর।
তোমরা যাদের জন্য অট্টালিকা গড়েছো,
তাদের কাছে কি তোমরা যথাযথ মূল্যায়ন পেয়েছো?
নাকি তাদের ভর্ৎসনার শিকার হয়েছো?
প্রতিটি হাসির আড়ালে কান্না লুকিয়ে থাকে,
তা তোমাদের দেখেই বুঝা যায়।
তোমাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে,
আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ পেয়েছি।
তার প্রতিদান স্বরূপ,
আমরা তোমাদের কি দিয়েছি?
এই প্রশ্ন নিজেকে করলে, বড় লজ্জা লাগে।

তোমরা তো ন্যায়ের অবতার,
তবুও কেন আমরা করি তিরস্কার!
তোমাদের অবহেলা করতে,
আমরা করিনা তো আপোষ।
তোমাদের মূল্য না দিতে,
আমাদের কোত্থেকে আসে এত সাহস?
জানি তোমাদের ঘাম আর অশ্রু,
কখনো মেঘের মতো থাকে না জমা,
অভিমানের বৃষ্টি হয়ে ঝরে,
যাবে না কখনো থামা।
যে সোনার সিংহাসনে তোমাদের হয়নি ঠাঁই,
সেখানে কড়িয়াল’রা বসার সাহস কোত্থেকে পাই?
আসলে তোমাদের অবহেলা করা মানে
নিজেকেই তিরস্কৃত করা!
আমরা আর কিছু নই, অকৃতজ্ঞ ছাড়া।
তোমাদের মাথায় গামছা বাঁধা,
এটাই হয়তো তোমাদের নিয়তির করুণ ধাঁধা।

 

লেখক,

সৌমিক বড়ুয়া অর্ক