জোনাকির দেহে কিভাবে আলো জ্বলে?

জোনাকি পোকা যেন রূপকথার রাজ্য থেকে উড়ে আসা অনিন্দ্য সুন্দরী কোনো পোকা। জোনাকি পোকা রাতের বেলা যখন উড়ে জ্বল জ্বল করে, তখন ধরণী যেন এক স্বর্গীয় রূপে সজ্জিত হয়। জোনাকি পোকার জ্বল জ্বল করে জ্বলে ওঠা মৃদু সুন্দর আলো আমাদের বিমোহিত করে রাখে। মন খারাপ থাকলে মনটা আমাদের ভাল হয়ে যায় যখন রাতের আধারে আমাদের রুমে আমরা জোনাকি পোকাকে জ্বল জ্বল করে উড়তে দেখি। কারেন্ট চলে গেলে আমরা যখন রাতে বাইরে বের হয় তখন জোনাকি পোকা আমাদের চারপাশে জ্বল জ্বল করে উড়তে দেখলে আমাদের হৃদয়ে এক অন্যরকম ভালো লাগা তৈরি হয়। কিন্তু জোনাকি পোকার দেহে কিভাবে আলো জ্বলে তা কি আমরা কখনও ভেবে দেখেছি? সত্যিই ব্যাপারটা খুবই আশ্চর্যের!! একটা পোকার শরীরে আলো জ্বলছে জ্বল জ্বল করে। নেই কোনো বিদ্যুৎ সংযোগ, নেই কোনো তেল খরচ। যেন নিজের অলৌকিক শক্তি দিয়ে জোনাকি পোকা তার দেহে অপরুপ সুন্দর আলো জ্বেলে আমাদের বিমুগ্ধ করছে। সত্যিই কি অলৌকিক শক্তি?  নাহ, অলৌকিক কোনো শক্তি নয়। এর পিছনেও রয়েছে বিজ্ঞানের মজার খেলা।

 

জোনাকি পোকা যে পদ্ধতিতে আলো জ্বলায় তার নাম বায়োলুমিনেন্স। কোনো জীবের নিজের দেহের মধ্যে আলো উৎপন্ন করার যে প্রক্রিয়া সেটিকেই বায়োলুমিনেন্স বলে। জোনাকি পোকার আলো উৎপন্ন করার প্রক্রিয়া কিন্তু আমাদের ঘরের লাইটের আলো উৎপন্ন করার প্রক্রিয়া থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। আমাদের ঘরের লাইট বিদ্যুৎ শক্তিকে তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত করার মাধ্যমে আলো উৎপন্ন করে। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ যখন বাল্বের মধ্যে থাকা টাংস্টেন তারের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয় তখন টাংস্টেন তার অতি উজ্জ্বল হয়ে আলো উৎপন্ন করে। অর্থাৎ এখানে বিদ্যুৎ শক্তি পরিণত হয় আলোকশক্তিতে। 

 

কিন্তু জোনাকি পোকা আলো উৎপন্ন করার জন্য রাসায়নিক শক্তিকে আলোক শক্তিতে রুপান্তর করে। জোনাকি পোকার দেহে রয়েছে লুসিফেরিন। এটি এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ। এই লুসিফেরিন নামক রাসায়নিক পদার্থটি বাতাসের অক্সিজেনের সংস্পর্শে এসে জ্বলে ওঠে। আর জোনাকি পোকা বাতাস থেকে অক্সিজেন সরবরাহ করার মাধ্যমে তার  দেহে উপস্থিত লুসিফেরিন নামক রাসায়নিক পদার্থের সংমিশ্রণে আলো উৎপন্ন করে। তাই অক্সিজেন সরবরাহ বাড়ানো কমানোর মাধ্যমে জোনাকি পোকা দেহে আলো উৎপন্ন করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। জোনাকিপোকার আলোকে ঠান্ডাআলো বলে। কারণ রাসায়নিক শক্তির সম্পূর্ণই আলোকশক্তিতে রুপান্তর হয়৷ তাই কোনো তাপ শক্তি উৎপন্ন হয় না৷ কিন্তু লাইটের ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তির সম্পূর্ণ আলোতে পরিণত হয় না। কিছু পরিমাণ বিদ্যুৎ শক্তি তাপ উৎপন্ন করতে ব্যয় হয়।