কালরাত্রি – ভৌতিক গল্প

রাদের জন্য আজ সেলিনার একটু অন্য রকমই লাগছে। কেন লাগছে তা সে গত তিনদিন ভেবেছে। তার বাচ্চা কেন অন্যদের মত হচ্ছে না। কেন সে এত ম্যাচিউর এই বয়সে। তার বয়সের অর্থাৎ, ৬ বছরের একজন তো এমন হয় না। গত সোমবার রাফিয়া তার বাচ্চাকে নিয়ে ঘুরতে এসে বলে গেছে তোমার বাবু তো অনেক কিছু বোঝে, তার বয়স কি ৬? আমার তো মনে হচ্ছে পনেরো ষোল বয়সে কেউ। যদিও রাফিয়া  ঠাট্টার ছলে বলেছে তবে সেলিনা সেবারই বিষয়টি একটু ভাবতে লাগলো। কারণ রাদ তো এমন ছিল নাহ, তাকে সব কিছু করে দিতে হতো কিন্তু গত ৪ মাস থেকে সে অনেক গুছিয়ে উঠেছে। কেন এমন হচ্ছে তা সেলিনাকে ভাবাচ্ছে। তাই রাদের এরকম চেঞ্জ তার কাছে কিছুটা অস্বাভাবিক। বিষয়টি যদিও ভাল কিন্তু সেলিনার অস্বাভাবিক লাগছে কারণ তারা এই বাড়িতে গত ৪ মাস থেকেই উঠেছে। বাড়িটি রফিকের বাবার। ( ঢাকা থেকে পটুয়াখালী এসে পৈত্রিক বাড়ির থেকে ভাল আবাসন তাদের কাছে গ্রহণীয় হয়নি। )সেলিনা বিষয়টি রফিককে জানাবে ভাবছে, কিন্তু রফিক গুরুত্ব দিবে বলে তার মনে হচ্ছে নাহ। রফিক তাদের রেখে অফিসের কাজে গিয়েছে বরিশাল ।

 

রাতে সেলিনার ঘুম ভেঙে গেলো ব্জ্রপাতের বিকট শব্দে। প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে। সেলিনা পাশ ফিরে দেখল রাদ নেই। তড়িৎ লাফ দিয়ে উঠে ঘরে আশেপাশেও না পেয়ে, রাদ রাদ বলে ডাকতে ডাকতে ডাইয়িং গেলো সেলিনা কিন্তু কেউ নেই। বাকি তিনটি ঘরেও কেউ নেই। সেলিনা চিৎকার করে কাদতে লাগলো। হটাত, সে শুনতে পেলো পরিতাক্ত স্টোররুম থেকে কারও কথা বলার আওয়াজ আসছে। সেলিনা দৌড়য়ে গেলো, রুমটির  রান্না ঘরের পাশে আর বেশ বড়। এত বড় স্টোররুম সাধারণত থাকে নাহ। কিন্তু কেন করা হয়েছে তার শশুর ই বলতে পারতেন। সেলিনা রুমটির দরজা খোলা দেখে কিছুটা শান্ত হয় কারণ রাতের রান্না শেষে সে দরজাটা লাগানো দেখেছে। তাই দরজা খোলা অর্থ রাদ ভেতরে। সে দ্রুত পায়ে দরজার কাছে দাড়ায় , এবং যা দেখে তা দেখে তার গা হিম হয়ে যায় ।

 

সাদা কাপড়ে পরিহিতা একটি মেয়ে চুল গুলো পেছনে ছড়ানো, রাদকে জড়িয়ে ধরে আছে। সেলিনার উপস্থিতি বুঝে সে তার দিকে তাকালো, তার চোখ গুলো আগুনের কুণ্ডলী। সেলিকাকে দেখে মুচকি হেসে সে অদৃশ্য হয়ে গেলো। সেলিনা দৌড়ে রাদকে নিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেলো। রাতটা সে রাদকে বুকে জড়িয়ে না ঘুমিয়ে কাঁটালো ।

 

ভয়ার্ত রাত শেষে, সেলিনা সকাল হতেই রাদকে নিয়ে বেরিয়ে গেলো  তার খালাতো বোন রুবির বাসায়। পটুয়াখালিতে তার একমাত্র আত্মীয়। রুবি সাত সকালে সেলিনা কে দেখে অবাক হল। কিছু একটা হয়েছে বুঝে সে ঘরে নিয়ে তাদের বিশ্রামের ব্যবস্থা করল। সেলিনা রুবিকে ধীরে ধীরে রাতের লোমহর্ষক ঘটনাটি বলল। তারা রাদকে জিজ্জাসা করলো কিন্তু রাদ জানালো তার কিছু মনে নেই। রুবি তাদের ভয়ার্ত ব্যাপারটি আচ করতে পেরে সাময়িক সান্তনা দিল। দুপুরে খাবার পর তারা বিষয়টি নিয়ে আবার বসল। রুবি জানালো তার এক দূর সম্পর্কের চাচা এমন বিষয় নিয়ে রিসার্চ করেন। তাকে জানালে হয়ত বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে পারবেন। বিকালে তারা বেরুলো ।

 

জাফর সাহেব তার একটি রিসার্চ পেপার রেডি করছিলেন। এমন সময় কলিং বেল বেজে উঠল। এসময় তার কাছে কার ও আসার কথা না। তাই তিনি কিছুটা বিরক্ত হলেন। জাফর সাহেব বিরক্তি নিয়ে দরজা খুললেন। অপারে রুবিকে দেখে তার মন কিছুটা শান্ত হল। কারণ, তিনি বুঝে গেলেন তিনি নতুন কিছু সমস্যার কথা শুনবেন । তিনি তাদের সমাদর করে ভেতরে আনলেন ।

 

সেলিনার জাফর সাহেবকে দেখে মজার মানুষ বলেই মনে হল, লোকটি তাদের কতটুকু হেল্প করতে পারবেন তাতেও তার সন্দেহ হল। এবার সে তার পুরো রাতের ঘটনা খুলে বলল। সব শুনে জাফর সাহেব এবার বললেন,

 

                   আমি কোন কিছুর ব্যাখ্যা করতে গেলে তা প্রথমে খোঁজি আল কুরআনে। আমি জানিনা আপনারা বিশ্বাস করবেন কিনা! আমি মনে করি আপনার বাড়িতে জিনের আগমন ঘটেছে কিন্তু তা জিনের ইচ্ছে অনুযায়ী নয়, জিনকে ডেকে আনা হয়েছে কোন বিশেষ কাজ সম্পাদনের জন্য। জাফর সাহেব কুরআন খুলে দেখালেন,

 

 وَيَوْمَ يَحْشُرُهُمْ جَمِيعًا يَا مَعْشَرَ الْجِنِّ قَدِ اسْتَكْثَرْتُم مِّنَ الْإِنسِ ۖ وَقَالَ أَوْلِيَاؤُهُم مِّنَ الْإِنسِ رَبَّنَا اسْتَمْتَعَ بَعْضُنَا

بِبَعْضٍ وَبَلَغْنَا أَجَلَنَا الَّذِي أَجَّلْتَ لَنَا ۚ قَالَ النَّارُ مَثْوَاكُمْ خَالِدِينَ فِيهَا إِلَّا مَا شَاءَاللَّهُ ۗ إِنَّ رَبَّكَ حَكِيمٌ عَلِيم

 

যেদিন আল্লাহ সবাইকে একত্রিত করবেন, হে জিন সম্প্রদায়, তোমরা মানুষের মাঝে অনেককে তোমাদের অনুগামী করে নিয়েছ। মানুষদের মাঝে তাদের বন্ধুরা বলবেঃ হে আমাদের পালনকর্তা, “আমরা পরস্পরে পরস্পরের মাধ্যমে উপকার লাভ করেছি।” আর এখন আপনি আমাদের জন্যে যে সময় নির্ধারণ করেছিলেন, আমরা তাতে উপনীত হয়েছি।

তখন তাদের বলা হবে “আগুন হল তোমাদের বাসস্থান। সেখানে তোমরা চিরকাল অবস্থান করবে; আর আল্লাহ যেমন চাইবে..।” নিশ্চয় আপনার পালনকর্তা প্রজ্ঞাময়, মহাজ্ঞানী। (সুরা আন’আম, আয়াত ১২৮)

 

এখন কেন তাদের ডাকা হয়েছিল তা কেবল যে বিষয়টি জানে সেই জানাতে পারবেন ।

 

সেলিনা, রুবি কেবল স্তব্ধ হয়ে বিষয়টি অনুধাবন করে শিউরে উঠল। সেলিনা জাফর সাহেব কে আগামীকাল তাদের বাসায় গিয়ে বিষয়টি দেখতে বলল। জাফর সাহেব রাজি হলেন ।

 

রাতে রাদের বাবা রফিক ফিরলে সেলিনা পুরো বিষয়টি তার কাছে জানিয়ে কারণ জানতে চাইল। সেলিনার ধারণা ছিল রফিক তার কোথায় তেমন গুরুত্ব দিবে না কিন্তু তাকে অবাক করে রফিক বিষয়টি সিরিয়াস ভাবে নিল। সে বলল, বিষয়টি সে তার বড় বোনকে জানাবে। কারণ তার বড় বোন এই বাসাতেই বড় হয়েছে ।

 

পরদিন জাফর সাহেব বাসায় আসলেন। তিনি রফিকের সাথে কথা বললেন এবং তার বড় বোন কিছু জানতে পারে জেনে বড় বোনকে বাড়িতে আনার অনুরোধ করলেন। এবং সেখানে থেকে গিয়ে ঘুরে ঘুরে বাড়িটি দেখতে লাগলেন ।

 

বিকেলে রফিকের বড় বোন এলে ,তার কাছে বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হল। তিনি সব শুনে যা বললেন এতে তাদের গায়ের লোম কাটা দিয়ে উঠল। তিনি বললেন,

 

রফিকের বয়স যখন ১ বছর তখন আমি ১৪ বছরের ছিলাম। আমার মা মারা যান সাতদিনের জ্বরে আব্বা ডাক্তার ছিলেন কিন্তু অজানা এক কারনে মাকে তেমন গুরুত্ব দিলেন না। মা কেবল কি যেন বলতে চাইলেন কিন্তু কিছু বলতে পারলেন নাহ। মা যেদিন মারা গেল সেদিন রাতে আমি নামাজ পড়ে শুতে যাবো। খালা রফিককে ঘুম পাড়িয়ে নিজেও ঘুমিয়ে গেছেন। হঠাৎ শুনতে পেলাম স্টোর রুম থেকে মেয়েলি কণ্ঠে উচ্চ হাসির শব্দ আসছে। আমি ভয় পেয়ে গেলাম। আব্বাকে ডাকলাম কিন্তু তিনি এলেন নাহ। আমি ভয় ভয় পায়ে গিয়ে, সেখানে যা দেখলাম তা আমি না দেখলেই হয়ত ভালো হতো । কারণ তার পর থেকে আমি আমার স্বাভাবিক জীবন হারাই ।

 

 

 

দেখি, সাদা ধবধবে একটি রূপসী মেয়ে কোমর পর্যন্ত চুল ছড়ানো, বাবার সামনে বসে বাবার হাত ধরে হাসছে আর কথা বলছে। তারা সামনাসামনি বসে তাই আমাকে দেখতে পারছিলনা, কিন্তু হঠাৎ ভয়ে আর মনের অজান্তে আব্বাকে ডাকলাম। আব্বা আমার দিকে চোখ ফিরে তাকালেন সাথে সাথে মেয়েটিও। কিন্তু মেয়েটিকে দেখে আমি স্তম্ভিত হলাম। তার চোখ সম্পূর্ণ  লাল। আমাকে দেখে মুচকি হেসে মিলিয়ে গেল। আমি সাথে সাথে জ্ঞান হারালাম। জ্ঞান ফিরলে দেখি খালা আর আব্বা পাশে বসা। সে সময়টা শান্ত ভাবে কাটিয়ে রাতে আব্বাকে জিজ্ঞাসা করলাম কাল কি ছিল ঘরে। বাবা আমার ক্থার গুরুত্ব না দিয়ে বলল আমি নাকি স্বপ্ন দেখেছি। ব্যাপারটি আমার কাছে উদ্ভট লাগলো, আমি আর কিছু বললাম না।

 

কিন্তু কিছু দিন থেকে লক্ষ্য করলাম রাতে আমার পাশ থেকে খালা উঠে কোথায় যেন চলে যায়। আর সারা দিন তার ব্যবহার ও অন্য রকম লাগছে। একদিন খালা আমাকে নিজ থেকে সাবধান থাকতে বললেন আর শুক্রবার বিকেলে বাড়ির বাইরে আর ছাদে যেতে নিষেধ করলেন ।

 

শুক্রবার বাবা অফিসের কাজে বাইরে গিয়েছিলেন, বিকেলের দিকে দুজন দরবেশ এর মত লোক বাড়িতে এল। মাগরিবের পর খালা আমাকে ডেকে বললেন আজ তোর জীবনে কিছু ভাল না হয় খারাপ হতে চলেছে। আমি ভয়ে ভয়ে বললাম কি হবে ? খালা বললেন, তোর বাবা একটি পাপ কাজ করেছে আর যার জন্য তোর মাকে যেমন মরতে হয়েছে তেমনি তোর  জীবন ও সংকটাপূর্ণ। তোর বাবা একটি জিন বিয়ে করছে। সেটি তোর মাকে তিলে তিলে কষ্ট দিয়ে মেরেছে। তোর বাবা এটি জানা সত্ত্বেও কিছু করেনি।আজ আমি আমার বোনের অভিশাপ রুপীকে অভিশপ্ত করতে চাই। তাকে পুড়িয়ে মারবো। মাগরিবের পর বাসায় এক বদ্ধ পরিবেশ সৃষ্টি করা হল। তারপর ডাকা হল জিনকে আর আটকে দেওয়া হল স্টোর রুমটিতে। দোয়াকালাম পড়া শুরু হল আর আগুন দেওয়া হল রুমটির ভেতরে। রক্তহিম করা চিৎকারে বাড়ি কম্পিত হতে থাকলো এবং একসময় সব ঠাণ্ডা। আমি খালাকে জড়িয়ে ধরে ছিলাম। খালা ও কাপছিল ।

 

দরবেশবেশী লোক দুটো বলল, জিন মারা গেছে, আমি ভেতরে গিয়ে দেখে আসি সব ঠিক আছে কিনা। তিনি বাহিরে এসে বললেন, আল্লাহর রহমতে সব ঠিক আছে। এরপর তারা চলে গেলো। সেদিন রাতে খালা আমাকে জড়িয়ে ঘুমাল। সকালে উঠে দেখি খালা পাশে নেই। আব্বা এসেছে কিন্তু তার ভেতর কোন রকম অস্বাভাবিকতা দেখা যাচ্ছে না। আমাকে আদর করে চলে গেলেন ওয়াস রুমে। আমি খালা খালা বলে ডেকে খালাকে পাচ্ছিলাম না। হঠাৎ দেখি স্টোররুমের ভেতর থেকে আজব শব্দ আসছে আমি ঢুকে দেখি বাবার মুখে রক্তে ভিজে উঠেছে আর সেই রক্ত মুখে খাচ্ছে খালার মৃতদেহ আমি চিৎকার দিয়ে পড়ে গেলাম। আব্বা আমার কাছে এগিয়ে এলো আর তার চেহারা পাল্টে গেলো মেয়ে রুপে। রক্তবর্ণ  চোখ, নাকি গলায় আমাকে বলে গেলো, তার বাচ্চার মৃত্যুর প্রতিশোধ সে নেবে। আমাকেও সে মেরে ফেলত কিন্তু কেবল মাত্র আমার উপর তিলে তিলে প্রতিশোধ নেবার জন্য আমাকে বাচিয়ে রাখবে। সে থেকে আমার জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছে। বিয়ের পর আমি দূরে থাকায় তেমন কিছু করত না। কিন্তু বাচ্চা পেটে এলেই আমাকে নাভিশ্বাস করে তুলতো। যে কারনে আজও মা হতে পারিনি। কাউকে কিছু বললেই আমার জীবনে নেমে আসত অসহ্য কর যন্ত্রনা ।

 

এতক্ষণ , সবাই নিস্তব্ধ হয়ে আপার কথা শুনছিল। জাফর সাহেবের গলা খেঁকানিতে তাদের হুস হল। তিনি বললেন, এর অর্থ সেদিন জিনটির বাচ্চাকে মারা হয়েছিল আর বেঁচে গিয়েছিল মা জিন। তিনি আরও বললেন, তাহলে রাদের কোন ক্ষতি করছে না কেন? বড় আপা বললেন, হয়তো রাদকে নিজের বাচ্চার মত  ভালবেসে ফেলেছে। রফিক বলে উঠল তাহলে , এখন কি করতে হবে? জাফর সাহেব বললেন, এর ব্যাখ্যা ও কুরআন হাদিসে আছে। আমি কালকের ভেতর কিছু করার চেষ্টা করব ।

 

পরদিন জাফর সাহেব একজন মসজিদের ইমামকে আনলেন। ইমাম প্রথমেই ঘর বন্ধ করে দিলেন তাবিজ দিয়ে। তারপর সবাইকে নিয়ে ঘরে প্রবেশ করলেন। রাদকে নিয়ে তিনি ঢুকলেন স্টোররুমে আর জিনকে হাজির করার চেষ্টা করতে লাগলেন। সবাই অন্য ঘরে দোয়া পড়ছিল। এমন সময় বিকট শব্দে বাসার ছাদে কি যেন এসে পড়ল জাফর সাহেব ব্যস্ত হয়ে পড়লেন, সবাইকে বললেন দরজা জানালা লাগাতে। বাড়ির সব দরজা বন্ধ করে তিনি স্টোর রুমে গেলেন। সেখানে গিয়েই  উচ্চস্বরে জাফর সাহেব আর্তনাদ করে উঠলেন। রাদের মা সেলিনা দ্রুত স্টোর রুমে দৌড়ে গেলেন। রফিকও পিছনে পিছনে দৌড়াল। স্টোর রুমের কাছে পৌছাতেই জাফর সাহেব দৌড়িয়ে রুম থেকে বেরিয়ে বললেন, সদর দরজা খুলতে। রফিক দরজা খুলতেই জাফর সাহেব রাদকে নিয়ে বেরিয়ে এসে বললেন, দ্রুত স্টোর রুমে গিয়ে সেলিনা কে নিয়ে আসতে। রফিক স্টোর রুমের কাছে পৌঁছতেই সারা বাড়িতে আগুন লেগে গেলো। দাউ দাউ আগুনে বাড়ি যেন নরকে পরিণীত হচ্ছে। চারিদিকে ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে গেলো। রফিক দ্রুত স্টোর রুমে ঢুকল। স্টোর রুমে ঢুকেই দেখলো, ইমাম সাহেবের গলা কাটা রক্তে তার নিজের পাঞ্জাবি লাল হয়ে আছে ,সেলিনা সিলিং এর সাথে ঝুলছে, আর জাফর সাহেবের মস্তক ছিন্নভিন্ন। বাড়ির অন্য ঘর গুলোতে আগুন লেগে গেছে। রফিক বুঝতে পারল বাড়ির দরজায় তাবিজ থাকায় সে স্পর্শ করতে পারবে না বলে জাফর সাহেবের রুপ নিয়েছিল।

 

পটুয়াখালি শহরে বাড়িটি পোড়াবাড়ি নামেই সবাই চেনে, কিন্তু বেশির ভাগই জানেন না কি ঘটেছিল সেই কালরাত্রিতে।।