ভ্রমণের সময় নামাজ বা কসর নামাজ কিভাবে পড়বেন?

কসর নামাজঃ 

শরীয়তের পরিভাষায় মুসাফির অর্থাৎ সফরকালীন নামাজ কসর নামাজ। 

 

কসর নামাজের বিধানঃ

 

ভ্রমণ যত আরামদায়ক হোক না কেন ভ্রমণকারী ক্লান্তি অনুভব করেন। আল্লাহ তা’লা ভ্রমণকারীর কষ্টের কথা বিবেচনা করে তার প্রতি বান্দার দায়িত্ব গুলোকে সহজ করে দিয়েছেন। আল্লাহ তা’লা পবিত্র কুরআনের সূরা নিসার ১০ নং আয়াতে বলেছেন, ‘তোমরা যখন জমিনে সফর করবে, তখন তোমাদের জন্য নামাজের কসর করায় কোন আপত্তি নেই।’

 

 

কসর নামাজের দূরত্বঃ

 

কসর নামাজের দূরত্ব বিষয়ে মহানবী (সাঃ) কোন নির্দিষ্ট দূরত্ব  নির্ধারণ করে দেন নি। কোন সহীহ হাদীসে এর নির্দিষ্ট কোন দূরত্ব সম্পর্কে জানা যায় না। আর যে সকল বিষয় সহিহ হাদিসে পাওয়া যায় না অথচ গুরুত্বপূর্ণ সেগুলো বিষয়ে অধিকাংশের মত যেটা সেটা গ্রহণ করতে হবে। হানাফী মাযহাব মতে, নিজ বাড়ি থেকে ৪৮ মাইল বা ৭৮ কি.মি. বা তার বেশি দূরত্বের কোনো স্থানে নির্দিষ্ট সময় ধরে অবস্থান এর উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার পরই একজন ব্যক্তি মুসাফির বা সফরকারী হিসেবে গণ্য হবেন। 

আকাশপথে, নৌপথে বা উঁচু-নিচু পাহাড় এর ক্ষেত্রেও অনুরূপ দূরত্ব বিবেচিত হবে। 

 

 

কসর নামাজ কত দিনঃ

 

কোন ব্যক্তি যদি কসরের জন্য নির্ধারিত দূরত্বে গিয়ে ৪ দিনের বেশি অর্থাৎ পাঁচ দিন অবস্থান করবে বলে মনস্থির করে তাহলে সে মুকিম অর্থাৎ কসর নয় সাধারণ পন্থায় নামাজ পড়বে। তবে এই চারদিনের সময়সীমার পরিবর্তে অনেকে ১৫ দিন বা ১৯ দিন এর কথা বলে থাকেন তবে তা দুর্বল বলে বিবেচিত। আবার একজন ব্যক্তি কসরের দূরত্বে যাওয়ার পর কখন বা কবে বাড়ি ফিরবে সে বিষয়ে যখন নিশ্চিত থাকেনা তখন সে কসর করতেই থাকবে। 

 

 

কসর নামাজ কত রাকাতঃ

 

সুনান ইবনে মাজাহ (হাদিস নং ১৬৬৭) অনুযায়ী    মহানবী (সাঃ) বলেছেন, ‘আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে অব্যাহতি দিয়েছেন রোজা রাখা থেকে এবং নামাযের অর্ধেক থেকে যারা ভ্রমণ করছে।’

এ নামাযের অর্ধেক বলতে চার রাকাত ফরজ নামাজের অর্ধেক কে বোঝানো হয়েছে। জোহর, আসর, এশা এ তিন ওয়াক্ত নামাজে চার রাকাত ফরজের জায়গায় সফরকারী দুই রাকাত নামাজ পড়বেন কসর হিসেবে। তবে ফজরের দুই রাকাত এর জায়গায় দুই রাকাতই থাকবে। মাগরিবের তিন রাকাত এর জায়গায় তিন রাকাতই থাকবে। 

যোহর ও আসর নামাজের সম্মিলিত সময়ের যেকোনো সময় জোহর আসর একসাথে পড়া যাবে আর মাগরিব ও এশার নামাজের সম্মিলিত সময়ের যে কোন সময় মাগরিব এশার নামাজ একসাথে পড়া যাবে। তবে সাধারন অবস্থায় ফজরের জন্য নির্ধারিত সময়েই ফজরের নামাজ

পড়তে হবে। 

 

 

কসর নামাজের সময় সুন্নত ও নফলঃ

 

মহানবী (সাঃ) সফরে শুধুমাত্র ফজরের দুই রাকাত সুন্নত ও বিতরের নামাজ পড়তেন অন্য কোন ওয়াক্তের সুন্নত নামাজ পড়তেন না। তবে কোন কোন সাহাবীরা অন্যান্য ওয়াক্তের সুন্নত ও নফল পড়েছেন বলে জানা যায়। তাই কেউ যদি সুন্নত নফল পড়ে তবে তা যে বিদ’আত হয়ে যাবে এমন কোনো কথা নেই। তবে মহানবী (সাঃ) যেহেতু পড়তেন না তাই না পড়াই উত্তম। এমনকি কসরে সুন্নত নফল না পড়াই সুন্নত হিসেবে গণ্য হবে যেহেতু মহানবী (সাঃ) পড়তেন না। 

তবে ওয়াক্তের বাইরে ব্যক্তিগত কোনো উদ্দেশ্যে নফল পড়া যাবে। যেমনঃ তাহাজ্জুদ এর নামাজ।

 

 

কসর নামাজের কাজাঃ

 

মুকিম অবস্থায় ছুটে যাওয়া নামাজ সফরে কাজা করলে তা পূর্ণ আদায় করবে।'( হেদায়া ১/৮১)

 

 

কসরে ইমামের পিছনে নামাজঃ 

 

মুসাফির যদি মুকিমদের সঙ্গে নামাজে শরিক হয় তবে সে যেন তাদের মতো (চার রাকাত) নামাজ পড়ে। (ইবনে আবি শাইবাঃ ৩৮৪৯)

অর্থাৎ স্থানীয় ইমাম ব্যতীত সফরে নামাজ পড়লে কসরের নিয়ম অনুযায়ী পড়তে হবে। যে ইমাম নিজেও সফরকারী তার পেছনে নামাজ পড়লেও কসরের নিয়ম অনুযায়ী নামাজ পড়তে হবে। 

 

 

প্রবাস থেকে গ্রামে আসলে কসরের নিয়মঃ

 

যে ব্যক্তি স্থায়ীভাবে প্রবাসে বসবাস করছে তার জন্য বর্তমান স্থায়ী বাস হচ্ছে প্রবাস। তবে দেশে গ্রামের বাড়িতে যদি নিজের ঘর থাকে তাহলে সে মুকিম হিসেবে বিবেচিত হবে মুসাফির না। এক্ষেত্রে স্বাভাবিক নামাজ পড়বে কসরের নামাজ না। তবে নিজের দেশে এসে যদি এমন হয় যে তার নিজের জমিজমা আছে কিন্তু ঘর নেই অন্য আত্মীয়ের বাড়িতে থাকতে হবে তাহলে এ দেশে আসার পর সে মুসাফির হিসেবে বিবেচিত হবে এবং  এক্ষেত্রে তাকে কসর নামাজ পড়তে হবে।

 

 

বিয়ের পর মহিলাদের বাবার বাড়িতে কসরঃ

 

বিয়ের পর স্বামীর বাড়ি মহিলাদের জন্য নিজের বাড়ি। বাবার বাড়ির সম্পত্তিতে কোন থাকার জায়গা  নিজের অধিকারে আসার আগ পর্যন্ত বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসলে তাকে কসর পড়তে হবে।

পুরুষরা শ্বশুরবাড়িতে ঘরজামাই হিসেবে থাকলে স্বাভাবিক নামাজ পড়বে। 

 

 

বিঃদ্রঃ আল্লাহ সর্ব জ্ঞানী।