কম্পিউটার ভাইরাস কি? প্রকার এবং মুক্তির উপায় | computer Virus

আপনাদের  মধ্যে  অনেকেই হয়তো যানেন  না যে ভাইরাস শব্দটির পূর্ণরুপ কি। ভাইরাস শব্দের পূর্ণরূপ হল ভিজুয়াল ইনফর্মেশন রেসোর্স (virus)। এই ভাইরাস শব্দের বাংলা  অর্থ দাঁড়ায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সমূহ দখলে নেওয়া বা ক্ষতিসাধন করা । বর্তমান পৃথীবিতে এই রকম হাজারাও কম্পিউটার ভাইরাস আছে এবং প্রতিদিন তৈরি হচ্ছে।

ভাইরাস শব্দটির নামকরন করেন ১৯৮০  সালে।  এর নামকরণ করেছেন প্রখ্যাত গবেষক ইউনিভার্সিটি অফ নিউ হ্যাভেন (university of new haven) এর অধ্যাপক ফ্রেড কাহেন (fred cohen) । ভাইরাস হলো এক ধরনের সফটওয়্যার। ভাইরাস  তথ্য-উপাত্ত কে আক্রমণ করার  এবং এর  নিজের সংখ্যার বৃদ্ধির ক্ষমতা রয়েছে। ভাইরাস কম্পিউটারে প্রবেশ করলে সাধারণত তার নিজের  সংখ্যা বৃদ্ধি করে থাকে।

 ভাইরাস আমাদের কম্পিউটার এর থাকা  বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত কে আক্রমণ করে এবং একপর্যায়ে দেখা যায় গোটা কম্পিউটার বা আইসিটি যন্ত্র সংক্রমিত হয়ে সকল কার্যক্রমকে  অচল করে দেয়। এদের মধ্যে রয়েছে-

 

কম্পিউটার ভাইরাস কত প্রকার ও কি কি

কম্পিউটার ভাইরাস বিভিন্ন প্রকার হতে পারে। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিচিত বা কমন এমন ৯ টি ভাইরাস হলোঃ

১. রিসাইডেন্ট ভাইরাস (Resident virus): এটিকে বাসিন্দা বা আবাসিক ভাইরাস বলা যায়। রিসাইডেন্ট ভাইরাস কম্পিউটারের র‌্যামে (RAM) বসবাস করে কম্পিউটারের সিস্টেমকে বাধাগ্রস্ত করে। এই ভাইরাস এতোই ছদ্মবেশে থাকে যে, এ্যান্টি ভাইরাস সফটওয়্যার থেকেও নিজেকে আড়াল করতে পারে।

২. মাল্টিপার্টাইট ভাইরাস (Multipartite Virus): মাল্টিপার্টাইট বা বহুদলীয় ভাইরাসটি পুরো সিস্টেমকে সংক্রমিত করে। ব্যবহারকারীর অনুমতিবিহীন কাজ সম্পাদনের মাধ্যমে এটি অপারেটিং সিস্টেম, ফোল্ডার ও প্রোগ্রামে ছড়িয়ে পড়ে।

৩. ডাইরেক্ট এ্যাকশন ভাইরাস (Direct Action Virus): এই ভাইরাসটি একটি নির্দিষ্ট ফাইলের ধরণকে লক্ষ্য করে সরাসরি কাজ করে থাকে। সাধারণত এগুলো এক্সিকিউটেবল ফাইল(.exe) হয়, ফাইলগুলোর প্রতিলিপি বা কপি তৈরি করে সংক্রমিত করে। তবে এই ভাইরাসের লক্ষ্যযুক্ত প্রকৃতির কারণে একে সনাক্ত ও দূর করা সহজতর।

READ MORE:  বাংলাদেশের সেরা ৪ টি হোস্টিং কোম্পানি। 4 Best Web Hosting Bangladesh

৪. ব্রাউজার হাইজাকার (Browser Hijacker): এই ধরনের ভাইরাস ওয়েব ব্রাউজারকে সংক্রমিত করে, ব্যবহারকারীকে বিভিন্ন অনাকাঙ্খিত ওয়েবসাইটে নিয়ে যায়। এই ভাইরাস সহজেই সনাক্ত করা যায়।

৫. ওভাররাইড ভাইরাস (Overwrite Virus): একটি সিস্টেম সংক্রমিত হওয়ার পর, ওভাররাইট ভাইরাস তার নিজস্ব কোড দ্বারা ফাইলের কনটেন্টকে ওভাররাইট করা শুরু করে। এই ভাইরাস নির্দিষ্ট ফাইল বা এ্যাপ্লিকেশনকে টার্গেট করে সংক্রমিত করতে সক্ষম। ক্রমাগতভাবে এটি একটি ডিভাইসের সম্পূর্ণ ফোল্ডার ও ফাইলের ডাটা ধ্বংস করে দিতে পারে।

৬. ওয়েব স্ক্রিপটিং ভাইরাস(Web Scripting Virus): ইহা খুবই ছদ্মবেশী ভাইরাস। এগুলো একটি ওয়েবসাইটের লিংকস, এ্যাড, ইমেজ, ভিডিও এবং কোডের কোডিং এ নিজেকে লুকিয়ে রাখতে পারে। ব্যবহারকারীরা যখন এসব আক্রান্ত ফাইল ডাউনলোড করে কিংবা ওয়েব সাইট পরিদর্শন করে তখন এটি ডিভাইসকে সংক্রমিত করতে পারে।

৭. ফাইল ইনফেক্টর(File Infector): ফাইল ইনফেক্টর ভাইরাস এক্সিকিউটেবল ফাইলকে(.exe) টার্গেট করে থাকে। ব্যবহারকারী এই ফাইলকে রান করলে ভাইরাস প্রোগ্রামকে স্লো করে দিতে পারে এবং সিস্টেম ফাইলকে ড্যামেজ করে দিতে পারে।

৮. নেটওয়ার্ক ভাইরাস(Network Virus): নেটওয়ার্ক সংযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে থাকে এবং রিসোর্স শেয়ার করলে এরা নিজেদের কপি তৈরি করতে পারে।

৯. বুট সেক্টর ভাইরাস(Boot Sector Virus): এই ভাইরাস সহজে এড়ানো সম্ভব। এই ধরনের ভাইরাস সাধারণত পেনড্রাইভ বা ইমেলের ফাইলের সাথে নিজেদের লুকিয়ে রাখে। যখন এটি সক্রিয় হয় তখন সিস্টেমের ক্ষতি করার জন্য মাস্টার বুট রেকর্ডকে সংক্রমিত করতে পারে।

 

কীভাবে আপনার কম্পিউটারটি ভাইরাস মুক্ত রাখবেন

যদি কোনো কারণে আপনার কম্পিউটারটি ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়ে যায় তবে তাৎক্ষণিক ডিভাইসটি ভাইরাস মুক্ত করে ফেলতে হবে। তবে আপনার কম্পিউটারটি ভাইরাস মুক্ত রাখতে নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করতে পারেন।

১. আপনার কম্পিউটারে একটি এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার ইন্সটল করতে পারেন। চেষ্টা করবেন পেইড প্রোগ্রাম ইন্সটল করতে। তবে  ফ্রিতেও বেশকিছু এন্টিভাইরাস পাওয়া যায়। ডিভাইসে এসব এন্টিভাইরাসের কোনো একটি থাকলে সাধারণত কখনোই ভাইরাস প্রবেশ করার সুযোগ পাবে না। 

READ MORE:  ট্রেনের টিকেট অনলাইন নিয়ম ২০২২ | how to buy online train ticket

২. ইন্টারনেট ব্যবহার করার সময় এন্টিভাইরাস কাজ নাও করতে পারে। তাই ইন্টারনেট ব্যবহার করার সময় যেন ভাইরাস ঢুকতে না পারে, সেজন্য ইন্টারনেট সিকিউরিটি অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করুন।

৩.  উইন্ডোজ সবসময় আপডেট রাখার চেষ্টা করুন। 

৪. অবিশ্বস্ত কোনো ওয়েবসাইট থেকে সফটওয়্যার ডাউনলোড করা থেকে বিরত থাকুন।

৫. কম্পিউটারে পেনড্রাইভ বা মেমোরি কার্ড প্রবেশ করার ক্ষেত্রে সর্তকতা অবলম্বন করুন। কখনোই ভাইরাসযুক্ত পেনড্রাইভ বা মেমোরি কম্পিউটারে প্রবেশ করাবেন না।

উপরে উল্লেখিত বিষয়গুলোর প্রতি খেয়াল রাখলে আপনি আপনার কম্পিউটারকে খুব সহজেই ভাইরাস মুক্ত রাখতে পারবেন এবং খুবই নিরাপদে কম্পিউটার ব্যবহার করতে পারবেন।